Traditional Durga Puja: কামারপুকুরের লাহাবাড়ির দুর্গাপুজোয় আজও জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মৃতি। কথিত আছে, শিশু গদাধর নিজেই এঁকেছিলেন দুর্গাপ্রতিমার চোখ! মহালয়া থেকে টানা আটদিন যাত্রাপালার আসর বসে এই বাড়িতে। জানুন লাহাবাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস, লোককথা ও প্রাচীন পরম্পরার কাহিনি।
কামারপুকুরের লাহাবাড়ির দুর্গাপুজোয় আজও জড়িয়ে ঠাকুর রামকৃষ্ণের স্মৃতি
হুগলি: কামারপুকুরের লাহাবাড়ির দুর্গাপুজোয় আজও জড়িয়ে ঠাকুর রামকৃষ্ণের স্মৃতি। কথিত আছে, এই বাড়ির প্রতিমার চোখ এঁকেছিলেন শিশু গদাধর। সেই স্মৃতি আর পরম্পরাকে সঙ্গে নিয়েই আজও চলছে লাহাবাড়ির পুজো।
কামারপুকুরের লাহাবাড়ি। একদিকে মায়ের আরাধনা, অন্যদিকে ইতিহাসের নানা গল্প। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মৃতিও। কথিত আছে, একবার প্রতিমা তৈরি হয়ে গেলেও মায়ের চোখ আঁকতে পারছিলেন না মৃৎশিল্পী। সেই সময় লাহাবাড়ির পাঠশালায় পড়তে আসতেন শিশু গদাধর। শিল্পীর সমস্যার কথা জানতে পেরে নিজেই মায়ের চোখ এঁকে দেন তিনি।
আজও সেই ঘটনাই লাহাবাড়ির পুজোর অন্যতম আবেগের জায়গা। পরিবারের দাবি, মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়েই তৎকালীন জমিদার ধর্মদাস লাহা শুরু করেছিলেন এই দুর্গাপুজো। সময় বদলেছে। জমিদারি নেই। কিন্তু বদলায়নি পুজোর সেই পুরনো পরম্পরা।
শুধু পুজো নয়, লাহাবাড়ির দুর্গোৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার লোকসংস্কৃতিরও এক পুরনো অধ্যায়। রামকৃষ্ণদেব যাত্রাপালা শুনতে ভালোবাসতেন। তাঁর সেই পছন্দের কথা মাথায় রেখেই দুর্গাপুজোয় যাত্রার আয়োজন করতেন লাহাবাবু। আজও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে পরিবার। মহালয়া থেকে পুজো পর্যন্ত টানা আটদিন লাহাবাড়িতে বসে যাত্রার আসর।
তাই লাহাবাড়ির দুর্গাপুজো শুধু একটি পারিবারিক পুজো নয়। এখানে মিশে রয়েছে শিশু গদাধরের স্মৃতি, বাংলার লোকসংস্কৃতি আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা বিশ্বাস। পুজোর কয়েকটা দিন যেন অতীত আর বর্তমানকে একসঙ্গে এনে দেয় এই বাড়ির উঠোনে। আর মায়ের মুখের দিকে তাকালেই মনে পড়ে যায় সেই গল্প— এক মৃৎশিল্পী, একটি অসম্পূর্ণ প্রতিমা আর শিশু গদাধরের তুলির টানে মায়ের চোখে প্রাণ সঞ্চারের সেই স্মৃতি।
শুভদীপ ঘোষ, কামারপুকুর
(Feed Source: news18.com)