Blue Drum Murder Case: জেলেই জন্ম দিয়েছিলেন শিশু কন্যার, এখন ফাঁসির সাজা পেয়েছে মুসকান, তা হলে কী হবে তার সন্তানের ভবিষৎ? ‘ব্লু ড্রাম খুন’ কাণ্ডে বড় কথা বলল মৃত সৌরভের পরিবার

Blue Drum Murder Case: জেলেই জন্ম দিয়েছিলেন শিশু কন্যার, এখন ফাঁসির সাজা পেয়েছে মুসকান, তা হলে কী হবে তার সন্তানের ভবিষৎ? ‘ব্লু ড্রাম খুন’ কাণ্ডে বড় কথা বলল মৃত সৌরভের পরিবার

 

মুসকান রাস্তোগীর আরও এক কন্যা সন্তান রয়েছে৷ প্রথম সন্তানকে দত্তক নিতে রাজি সৌরভের পরিবার৷ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুসকানের সন্তানদের প্রসঙ্গে সৌরভের মা বলেন, “মুসকানের বড় মেয়েকে আমরা দত্তক নিতে রাজি।” ২০১৯ সালে সৌরভ ও মুসকানের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছিল। তবে মুসকানের ছোট মেয়েকে দত্তক নিতে তাঁরা রাজি নন বলে জানিয়েছেন সৌরভের মা। তাঁর কথায়, “ছোট মেয়েটি সাহিলের সন্তান। তাই তাকে আমরা দত্তক নেব না।”

জেলেই সন্তানের জন্ম মুসকানের, পিতৃপরিচয় জানতে ডিএনএ পরীক্ষার দাবিহেফাজতে থাকাকালীন গত ২৪ নভেম্বর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন মুসকান। মিরাট জেলের ব্যারাকেই তাঁর প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয়। পরে তাঁকে মিরাটের লালা লাজপত রাই মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই সন্তানের জন্ম হয়। ঘটনাচক্রে, ওই দিনটি ছিল সৌরভের জন্মদিন।

সন্তানের জন্মের পরের দিনই ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানায় সৌরভের পরিবার। তাঁর ভাই রাহুল জানান, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে তাঁরা ডিএনএ পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করবেন। তাঁর কথায়, “যদি প্রমাণিত হয় যে শিশুটি সৌরভের মেয়ে, তা হলে আমরা তাকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করব।”

মুসকানের গ্রেফতারির সময়কাল থেকেই সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। খুনের মামলায় সহ-অভিযুক্ত সাহিল শুক্লার সঙ্গে ১৯ মার্চ গ্রেফতার হন মুসকান। সেই সময় তিনি দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা যায়। এর পর থেকেই সন্তানের বাবা কে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।

প্রেমের বিয়ে, পরকীয়ার সন্দেহ থেকে খুনের অভিযোগ২০১৬ সালে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন সৌরভ রাজপুত ও মুসকান রাস্তোগী। পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, পরে বন্ধুর সঙ্গে মুসকানের সম্পর্কের কথা জানতে পারেন সৌরভ। সেই বন্ধু ছিলেন সাহিল শুক্লা। এরপর দু’জনের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের কথাও উঠেছিল।

তবে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সৌরভ পিছিয়ে আসেন বলে জানা গিয়েছে। ২০২৩ সালে ফের মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়ে কাজের সূত্রে বিদেশে চলে যান তিনি।

২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেয়ের ষষ্ঠ জন্মদিনে তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফেরেন সৌরভ। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ৩ মার্চ রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সৌরভকে অচেতন করেন মুসকান। এরপর মুসকান ও সাহিল মিলে তাঁকে খুন করেন বলে অভিযোগ।

পুলিশের দাবি, খুনের পর সৌরভের দেহ ১৫টি টুকরো করা হয়। সেগুলি একটি নীল ড্রামের মধ্যে রেখে সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

বেশ কয়েক দিন ধরে সৌরভের ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর মুসকান ও সাহিলকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। খুনের ১৪ দিন পর উদ্ধার হয় সৌরভের দেহাবশেষ।

১২৬টি শুনানি, ২২ জনের সাক্ষ্য, তারপর মৃত্যুদণ্ডমামলায় ১২৬টি শুনানি এবং ২২ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণের পর জেলা বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র মুসকান ও সাহিলকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সৌরভকে খুন করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন মুসকান ও সাহিল। খুনের পর দেহ টুকরো করে একটি নীল শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ড্রামের মধ্যে সিমেন্ট ও বালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।

তবে আদালতের এই রায়ের পরেও আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ বলে মনে করছে না সৌরভের পরিবার। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, “প্রয়োজন হলে আগামী দিনে আমরা উচ্চতর আদালতে যাব।”

(Feed Source: news18.com)