)
CJP Protest in Delhi: দিল্লিতে লাগাতার বিক্ষোভ ও ট্রাফিক ব্লকেডে ২০০০ কোটি টাকার ব্যবসা লাটে। কনট প্লেস সহ বাজারে ধস, সমাধান খুঁজতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ ব্যবসায়ীরা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুর্গাপুজো ও দীপাবলির মুখে যেখানে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরো বাজারে পা ফেলার জায়গা থাকার কথা নয়, সেখানে এখন শুধুই শূন্যতা ও ক্ষতির হাহাকার। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (CEC) পদত্যাগের দাবি ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলা লাগাতার আন্দোলন, যন্তর মন্তর অভিযান এবং পুলিসি ব্যারিকেডের (Police Barricades) কারণে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, বিগত কয়েকদিনের লাগাতার বিক্ষোভ ও ট্রাফিক অচলাবস্থার জেরে উৎসবের মরশুমে রাজধানীতে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা মার খেয়েছে (₹2,000 Crore Business Loss)। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) দ্বারস্থ হয়ে বিক্ষোভ মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট রূপরেখা বা এসওপি (Standard Operating Procedure – SOP) জারির দাবি জানিয়েছেন।
উৎসবের মুখে কেন ফাঁকা কনট প্লেস ও সদর বাজার
দিল্লির ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI) ও বিভিন্ন স্থানীয় বণিকসভার রিপোর্ট অনুযায়ী, লাগাতার আন্দোলনের কারণে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার প্রাণকেন্দ্রতে ক্রেতাদের পা পড়াই কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এর মূল কারণ কী কী?
ব্যারিকেড ও ট্রাফিক স্তব্ধ: কনট প্লেস (Connaught Place), জনপথ, খান মার্কেট ও সদর বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার প্রবেশপথে পুলিসের দুর্ভেদ্য ব্যারিকেড ও রাস্তা বন্ধ থাকায় সাধারণ ক্রেতারা বাজারে পৌঁছতেই পারছেন না।
মেট্রো ও ইন্টারনেট বন্ধের জোড়া ধাক্কা: বিভিন্ন প্রধান মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ থাকা এবং একাধিক পয়েন্টে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট ও অনলাইন অর্ডার মুখ থুবড়ে পড়েছে।
রেস্তোরাঁ ও খাদ্য বিপণিতে বড় ক্ষতি: উৎসবের সন্ধ্যায় যেখানে খাবারের দোকান ও ক্যাফে উপচে পড়ত, সেখানে ক্রেতাহীন অবস্থায় ফেলে দিতে হচ্ছে মিষ্টি ও পচে যাওয়া কাঁচামালও।
দিল্লি হাইকোর্টে মামলা ব্যবসায়ীদের
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সমিতি ও আইনজীবীরা যৌথভাবে দিল্লি হাইকোর্টে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানান। শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবীরা সওয়াল করে জানান, প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার (Constitutional Right to Protest) অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু সেই প্রতিবাদের নামে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচলের অধিকার (Freedom of Movement) এবং লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ীর রুটিরুজি এভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না। বছরের যে সময়ে ব্যবসায়ীরা সারা বছরের লাভের মুখ দেখেন, সেই উৎসবের মরসুমেই রাস্তায় নেমে আসা বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ি তাঁদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিসের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে। এদিকে আন্দোলনের চাপে দিল্লি পুলিস ইতোমধ্যেই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত তালিকা থেকে বাদ দিয়ে রামলীলা ময়দান ও বুরারির মতো শহরের বাইরের প্রান্তে স্থানান্তরের নোটিফিকেশন জারি করলেও পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হবে, তা নিয়ে এখনও গভীর শঙ্কায় দিল্লির ব্যবসায়ী মহল।
(Feed Source: zeenews.com)
