
Magicbricks-এর খবর অনুযায়ী ধ্রুব রাঠি কখনও প্রকাশ্যে নিজের সম্পত্তি ও আয়ের সম্পূর্ণ বিবরণ দেননি। ৫৮ কোটি টাকা তাঁর আনুমানিক মোট সম্পত্তির পরিমাণ। পাশাপাশি তাঁর কাছে টেসলা, রেঞ্জ রোভার, বিএমডব্লিউ এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জের মতো গাড়িও রয়েছে। তবে বর্তমানে তাঁর আয়ের পরিমাণের থেকেও বড় প্রশ্ন হল, জার্মানিতে বসবাসকারী ধ্রুব রাঠি ভারত থেকে বেশি উপার্জন করেন, নাকি জার্মানি থেকে?
ধ্রুব রাঠির আয় কীভাবে হয়?
ধ্রুব রাঠির আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হল ইউটিউব। তাঁর ভিডিওগুলি রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, পরিবেশ এবং সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ের উপর তৈরি হয়। এই ভিডিওগুলি প্রচুর মানুষ দেখেন এবং এর জন্য ইউটিউব তাঁকে অর্থ প্রদান করে। এ ছাড়াও কোনও ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো হলে, সেখান থেকেও কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় হয়।
ইউটিউব থেকে হওয়া আয় শুধুমাত্র সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। কতজন ভিডিওটি দেখেছেন, দর্শকরা কোন দেশ থেকে ভিডিওটি দেখছেন, কতক্ষণ ধরে ভিডিওটি দেখা হয়েছে এবং বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাগুলি কত টাকা খরচ করছে—এই সমস্ত বিষয় আয়ের উপর প্রভাব ফেলে। ধ্রুব রাঠির মূল চ্যানেলের পাশাপাশি একটি ভ্লগ এবং শর্টস কনটেন্টের চ্যানেলও রয়েছে। এর ফলে তিনি বিভিন্ন ধরনের দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারেন। তবে ইউটিউব থেকে প্রতি মাসে তাঁর কত টাকা আয় হয়, তার কোনও সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
ব্র্যান্ড চুক্তি বা ডিল থেকেও কি আয় হয়?
বড় ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের প্রডাক্ট ও পরিষেবার প্রচারের জন্য কনটেন্ট নির্মাতাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ করে। এর বিনিময়ে তাঁদের অর্থ প্রদান করা হয়। ধ্রুব রাঠির মতো বড় কনটেন্ট নির্মাতার ক্ষেত্রেও ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ এবং স্পনসরশিপ আয়ের অন্যতম উৎস।
অনলাইন কোর্স থেকে কত টাকা আয় হয়?
ধ্রুব রাঠির অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইন কোর্স, মার্চেন্ডাইজ এবং AI Fiesta নামের একটি AI ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকেও তাঁর আয় হয়। তবে এই সমস্ত ব্যবসা থেকে ধ্রুব রাঠি কত টাকা উপার্জন করেন, তার কোনও বিস্তারিত হিসাব তিনি কখনও প্রকাশ্যে জানাননি।
প্রতি মাসে কি ৬০ লক্ষ টাকা আয় করেন?
কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্রুব রাঠির মাসিক আয় প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। তবে এই পরিমাণের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ (Official Confirmation) পাওয়া যায়নি।
তবে ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় প্রতি মাসে একই রকম হয় না। কোনও মাসে ভিডিওতে বেশি ভিউ হতে পারে, আবার কোনও মাসে কম। বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, ব্যবসায়িক বিক্রি এবং অন্যান্য উৎস থেকে হওয়া আয়ের পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।
এ ছাড়া, মোট আয় এবং ব্যক্তিগত মুনাফার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কনটেন্ট তৈরি, কর্মী নিয়োগ, ব্যবসা পরিচালনা, কর এবং অন্যান্য খরচ মেটানোর পর হাতে যে টাকা থাকে, তার পরিমাণ আলাদা হতে পারে।
জার্মানি নাকি ভারত, কোথা থেকে বেশি আয় হয়?
ধ্রুব রাঠি জার্মানিতে থাকেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তাঁর সমস্ত আয় জার্মানি থেকেই হয়। তিনি ভারতীয় দর্শকদের জন্য হিন্দিতে ভিডিও তৈরি করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর কনটেন্ট দেখা হয়।
ইউটিউব থেকে আয়ের ক্ষেত্রে দর্শকদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞাপনের হার আলাদা হয়। তাই এমন হতে পারে যে কোনও ভিডিও ভারতে বেশি ভিউ পেলেও অন্য কোনও দেশের দর্শকদের কাছ থেকে প্রতি ভিউয়ের জন্য আয়ের পরিমাণ আলাদা হবে।
তবে শুধুমাত্র এই বিষয়টির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যায় না যে ধ্রুব রাঠি ভারত থেকে বেশি আয় করেন, নাকি জার্মানি থেকে। ভারত ও জার্মানি থেকে তাঁর আয়ের পৃথক পরিসংখ্যান তিনি প্রকাশ্যে জানাননি।
(Feed Source: news18.com)
