কোন আইনে ভারত ছাড়ার নির্দেশ?Immigration and Foreigners Act, 2025–এর দুটি ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইন ভারতে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ, অবস্থান এবং দেশ থেকে অপসারণের বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে৷
ধারা ৭ — বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণএই ধারায় কেন্দ্রীয় সরকার ভারতে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ, প্রস্থান, অবস্থান ও চলাফেরার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভারতে তাঁদের থাকা বা কার্যকলাপের উপর শর্তও আরোপ করা যায়৷
ধারা ২৯ — দেশ থেকে অপসারণএই ধারায় আইনের কোনও বিধান, তার অধীনে তৈরি নিয়ম বা নির্দেশ লঙ্ঘন করলে, কিংবা বিরূপ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিদেশি নাগরিককে ভারত থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।
OCI কার্ড থাকলে কি ভারতীয় নাগরিকের মতো অধিকার পাওয়া যায়?OCI-এর পুরো নাম Overseas Citizen of India হলেও, এই কার্ডধারীরা আইনত ভারতীয় নাগরিক নন। তাঁরা নির্দিষ্ট শর্তে ভারতে দীর্ঘমেয়াদি, একাধিকবার প্রবেশের ভিসা-সহ কিছু বিশেষ সুবিধা পান। কিন্তু ভারতীয় নাগরিকদের মতো সমস্ত রাজনৈতিক অধিকার তাঁদের নেই।
ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বাক্স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য। বিদেশি নাগরিকেরা একইভাবে এই নাগরিক-নির্দিষ্ট অধিকার দাবি করতে পারেন না।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন রয়েছে: কোনও বিদেশি নাগরিক কোনও বিক্ষোভে অংশ নিলেই কি তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার যথেষ্ট কারণ?
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে প্রযোজ্য আইন, ভিসা ও OCI-সংক্রান্ত শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের উপর। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান খানের বিরুদ্ধে নোটিসে ঠিক কোন নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তাই শুধু বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনাকেই চূড়ান্তভাবে আইনি অপরাধ বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
OCI কার্ডধারীরা কি বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন?OCI কার্ডধারীরা বিদেশি নাগরিক। তবে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত সাপেক্ষে তাঁরা ভারতে আজীবন একাধিকবার প্রবেশের ভিসা-সহ কিছু বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। শিক্ষা, সম্পত্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশাগত ক্ষেত্রেও তাঁরা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পান।
কিন্তু নাগরিকত্ব আইনের ৭বি ধারা অনুযায়ী, OCI মর্যাদা ভারতীয় নাগরিকদের মতো রাজনৈতিক অধিকার দেয় না। ভোট দেওয়া, সরকারি সাংবিধানিক পদে থাকা-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অধিকার তাঁদের নেই। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে ভারতীয় নাগরিকদের যে মৌলিক অধিকারগুলি দেওয়া হয়েছে, OCI কার্ডধারীরা সেই অধিকারগুলির সবকটি দাবি করতে পারেন না।
সর্বক্ষেত্রে কি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ?OCI কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ কোনও জনসমাবেশ বা বিক্ষোভে উপস্থিত থাকাকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘন বলে গণ্য করার স্পষ্ট সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা নেই। শুধু কোনও জমায়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বা উপস্থিত থাকার অর্থেই যে কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা বলা যায় না।
পূর্ণ ভারতীয় নাগরিক না হলেও OCI কার্ডধারীদের ভারতের আইন এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য অভিবাসন বিধি মেনে চলতে হয়।নির্দিষ্ট কিছু কারণে OCI মর্যাদা বাতিল করা যেতে পারে। এর মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থের মতো বিষয়ও রয়েছে। নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি ধারায় OCI নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে লেখক আতিশ তাসিরের OCI কার্ড বাতিল করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁর প্রয়াত বাবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ছিলেন—এই তথ্য গোপন করার অভিযোগে ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
ইমরানের ঘটনায় কী ঘটেছে?১০ অক্টোবর: মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন ইমরান খানও। তাঁকে সাময়িকভাবে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ: বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া অভিযোগ করেন, মার্কিন নাগরিক এবং OCI কার্ডধারী হওয়া সত্ত্বেও ইমরান খান রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তিনি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
১৫ অক্টোবর: ইমরানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসে Immigration and Foreigners Act, 2025-এর ৭ ও ২৯ নম্বর ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন কী জানা যাচ্ছে?১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়ার খবর অনুযায়ী, ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপের সূত্রপাত হয়েছিল ১০ অক্টোবরের মুম্বইয়ের বিক্ষোভ এবং তার পরবর্তী অভিযোগ থেকে। তবে নোটিসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পারেন ইমরান৷
(Feed Source: news18.com)