
Chorbagan’s Hidden Secrets: কলকাতার কোনায় কোনায় অলি গলি তস্য গলি জুড়ে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের নানা রোমাঞ্চকর কাহিনি। নামকরণ ছুঁয়ে যায় কিছু না কিছু রোমাঞ্চকর কাহিনি। সেরকমই চোরবাগানের নামে কেন ‘চোর’? রইল রোমাঞ্চকর সেই গল্প। জানলে শিউরে উঠবেন।
এক কলকাতায় লুকিয়ে আছে আরও অনেক কলকাতা৷ হুগলি নদীর তীরে গত ৩ শতকের বেশি সময় ধরে আড়ে ও বহরে বহু গুণে বেড়েছে এই শহর৷ তার অলি-গলি-তস্য গলিতে রয়ে গিয়েছে ইতিহাসের জলছবি৷ যেমন ধরুন চোরবাগানেরই কথা৷ সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার আলো অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়৷ পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানি কাণ্ডে ছন্দোপতন শারদোৎসবের৷ চোরবাগান এখন আলোচনার শীর্ষে ও শিরোনামের কেন্দ্রে৷ কিন্তু এলাকার নাম হঠাৎ চোরবাগানই বা হল কেন? (AI Image)
কলকাতা-গবেষকদের মতে, চোরবাগান নামের পিছনে জড়িয়ে আছে চৌর্যবৃত্তিরই ইতিহাস৷ আজকের চোরবাগান প্রাক ব্রিটিশ যুগে ছিল জঙ্গলে ঢাকা৷ জঙ্গুলে সেই জায়গা ছিল দুষ্কৃতীদের ডেরা৷ ঠগী ডাকাত ও ঠ্যাঙারে দস্যুদের আস্তানা ছিল এই অঞ্চল৷ তাদের জন্যই এই অঞ্চলের নামকরণ মুখে মুখে হয় ‘চোরবাগান’৷ অর্থাৎ যে ঘন বাগানে লুকিয়ে থাকত চোরের দল৷
কিন্তু শুধু লুকিয়ে থাকলেই তো আর হল না৷ হাতের নাগালে বসতি না থাকলে কোথায় দস্যুবৃত্তি করবে তারা? আসলে, তাদের ‘শিকার’ ছিল গঙ্গাস্নানে যাওয়া পুণ্যার্থী তথা তীর্থযাত্রীরা৷ সুযোগ বুঝে তাদের উপরই চড়াও হত দস্যুরা৷ ঠগীরা তাক করে তীর্থযাত্রীদের গলা নিশানা করে ফাঁস ছুড়ত৷ চোখের পলকে নেতিয়ে পড়তেন হতভাগ্য তীর্থযাত্রী৷
ঠ্যাঙাড়ে ডাকাতরা আদতে ছিল দক্ষ লেঠেল৷ তারা লাঠিপেটায় ঘায়েল করত নিশানা করা তীর্থযাত্রীদের৷ পুণ্যার্থীদের মৃত্যু হলে চলত লুঠপাট৷ ফলে নামকরণের সার্থকতা বজায় রেখেছিল ‘চোরবাগান৷’
অবশেষে অবসান অরাজকতার৷ পাথুরিয়াঘাটার নীলমণি মল্লিকের দত্তক পুত্র রাজেন্দ্র মল্লিক তাঁর বাবার মৃত্যুর পর চোরবাগানে চলে আসেন। তার পরই এখানে লোকবসতি গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে৷ একসময় এখানকার এক অংশের নাম ছিল ‘শখের বাজার’৷
মল্লিকদের পরে চোরবাগানে থাকতে শুরু করেন একে একে ঠাকুর, শীল, শেঠ এবং বসাক পরিবার৷ ক্রমশ সমৃদ্ধ ও বর্ধিষ্ণু এলাকা হয়ে ওঠে চোরবাগান৷ বাণিজ্য মানচিত্রে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এই অংশের নাম৷ বাঙালিরা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য ব্রিটিশদের সঙ্গে সোনা, মশলা এবং পাটের ব্যবসা শুরু করে।
চোরবাগানে বসবাস ছিল বহু সমৃদ্ধ বাঙালি পরিবারের৷ তাঁদের মধ্যে অন্যতম মিত্র পরিবার৷ তাঁদের বংশের ‘মিঠাই কালী’-র পুজো বেশ প্রসিদ্ধ৷ বাংলার নবজাগরণের সময় চোরবাগান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ (তথ্যঋণ-Calcutta Old and New by H.E.A. Cotton, Calcutta in the 17th Century by P. Thankappan Nair)
(Feed Source: news18.com)
