মাধ্যমিক পাশেই সরকারি চাকরির সুযোগ! পিএসসিতে স্টেনোগ্রাফার পদে নিয়োগ, শুরু আবেদন; ফর্ম ফিল-আপের আগে জেনে নিন খুঁটিনাটি

মাধ্যমিক পাশেই সরকারি চাকরির সুযোগ! পিএসসিতে স্টেনোগ্রাফার পদে নিয়োগ, শুরু আবেদন; ফর্ম ফিল-আপের আগে জেনে নিন খুঁটিনাটি

 

চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি থেকে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া—এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আপনাকে সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতির দিশা দেখাতেই আমাদের এই প্রতিবেদন। পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) ইংরেজি স্টেনোগ্রাফার (বেসিক গ্রেড) পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদনের আগে জেনে নিন যোগ্যতা, বয়সসীমা, ফি, পরীক্ষার শর্ত এবং আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলি।

কতগুলি শূন্যপদ?

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিয়োগে মোট শূন্যপদ ২৬৬টি। এর মধ্যে শিডিউল এ-তে ১৪৬টি এবং শিডিউল বি-তে ১২০টি পদ রয়েছে।

শিডিউল এ-তে অসংরক্ষিত বিভাগের জন্য ৭২টি, আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির (ইডব্লিউএস) জন্য ১৫টি, ওবিসি (নন-ক্রিমি লেয়ার)-এর জন্য ১০টি, তফসিলি জাতির জন্য ৩১টি, তফসিলি জনজাতির জন্য ৯টি, প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য ৩টি, বিশেষ ভাবে সক্ষম অসংরক্ষিত প্রার্থীদের জন্য ৫টি এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম তফসিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য ১টি পদ রয়েছে।

অন্য দিকে, শিডিউল বি-তে অসংরক্ষিত বিভাগের জন্য ৫৯টি, ইডব্লিউএসের জন্য ১২টি, ওবিসি (নন-ক্রিমি লেয়ার)-এর জন্য ৯টি, তফসিলি জাতির জন্য ২৬টি, তফসিলি জনজাতির জন্য ৭টি, প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য ২টি, বিশেষ ভাবে সক্ষম অসংরক্ষিত প্রার্থীদের জন্য ৪টি এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম তফসিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য ১টি পদ রয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি, কম্পিউটার চালানোর প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে এবং কম্পিউটারে ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ৩০টি শব্দ টাইপ করার দক্ষতা প্রয়োজন।

বয়সসীমা কত?

১ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ, আবেদনকারীর জন্ম ২ জানুয়ারি, ১৯৮১-র আগে এবং ১ জানুয়ারি, ২০০৭-এর পরে হলে চলবে না। মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার শংসাপত্রে উল্লেখিত জন্মতারিখই গ্রহণযোগ্য হবে।

তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে কর্মরত শিডিউল বি-র স্থায়ী স্টেনোগ্রাফার, স্থায়ী টাইপিস্ট, স্থায়ী স্টেনো-টাইপিস্ট এবং স্থায়ী ক্লার্ক-কাম-টাইপিস্টদের ক্ষেত্রে বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই।

আবেদন ফি কত?

আবেদনের জন্য ১৬০ টাকা ফি দিতে হবে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিষেবা সংক্রান্ত চার্জ যুক্ত হবে। অনলাইনে ফি জমা দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির প্রার্থী এবং ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা বিশেষ ভাবে সক্ষম প্রার্থীদের কোনও আবেদন ফি দিতে হবে না। তবে পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি প্রার্থীদের নির্ধারিত ফি দিতে হবে। অন্য রাজ্যের তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি ও ওবিসি প্রার্থীদের ফি মকুবের সুবিধা নেই।

বাংলা ভাষা জানাও বাধ্যতামূলক

প্রার্থীদের ভারতীয় নাগরিক হতে হবে অথবা ভারত সরকার ঘোষিত অন্য কোনও যোগ্য জাতীয়তার অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি, বাংলা পড়তে, লিখতে ও বলতে জানতে হবে। তবে যাঁদের মাতৃভাষা নেপালি, তাঁদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নয়। বাংলা বা নেপালি ছাড়া অন্য মাতৃভাষার প্রার্থীদের কম্পিউটারে টাইপিং পরীক্ষার সময় বাংলা ভাষার জ্ঞান যাচাই করা হবে। এই পরীক্ষায় খারাপ ফল করলে প্রার্থিপদ বাতিল হতে পারে।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পত্রে প্রাপ্ত নম্বর একত্র করে চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। অসংরক্ষিত, ইডব্লিউএস এবং প্রাক্তন সেনাকর্মীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বরের অন্তত ৪০ শতাংশ পেতে হবে। ওবিসি প্রার্থীদের জন্য এই হার ৩৮ শতাংশ, তফসিলি জাতির জন্য ৩৫ শতাংশ এবং তফসিলি জনজাতি ও বিশেষ ভাবে সক্ষম প্রার্থীদের জন্য ৩০ শতাংশ। তবে সংরক্ষিত বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ খালি থাকলে কমিশন উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর আরও কমাতে পারে।

কবে পর্যন্ত আবেদন করা যাবে?

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। আবেদনের শেষ দিন ৭ নভেম্বর, ২০২৬, বিকেল ৩টে ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অনলাইনে ফি জমা দেওয়ার শেষ সময়ও একই। আবেদনপত্র সংশোধনের সুযোগ থাকবে ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর, ২০২৬, বিকেল ৩টে ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে: https://psc.wb.gov.in।

নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, প্রস্তুতিতে রাখুন নিষ্ঠা ও ধারাবাহিকতা। মনে রাখবেন, সঠিক তথ্য এবং পরিকল্পিত পরিশ্রমই আপনাকে লক্ষ্যের আরও কাছে পৌঁছে দিতে পারে। আমরা আশাবাদী, এই প্রতিবেদনের তথ্য আপনাকে প্রস্তুতির পথে সাহায্য করবে। আপনার বাড়ির লেটারবক্স হোক বা ই-মেইলের ইনবক্স—সেখানে একদিন কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র এসে পৌঁছক, এই শুভকামনাই রইল।

(Feed Source: news18.com)