Durga Puja Travel: খরচ করে দার্জিলিং-ডুয়ার্স যেতে হবে না! দক্ষিণবঙ্গের এই গোপন অরণ্য ও লেকের রূপ দেখলে মন ভাল হয়ে যাবে

Durga Puja Travel: খরচ করে দার্জিলিং-ডুয়ার্স যেতে হবে না! দক্ষিণবঙ্গের এই গোপন অরণ্য ও লেকের রূপ দেখলে মন ভাল হয়ে যাবে

 

Durga Puja Travel: দার্জিলিং বা ডুয়ার্স না গিয়েও দক্ষিণবঙ্গের বুকেই মিলবে নিস্তব্ধ অরণ্য ও পাহাড়ি পরিবেশের খোঁজ। বাঁকুড়ার সুতান লেক ও সংলগ্ন শাল-মহুয়ার বন নির্জনতা প্রিয় পর্যটকদের জন্য আদর্শ অফবিট গন্তব্য। সবমিলিয়ে এই পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে।

হাতের কাছে নির্জন পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার সুযোগ (ছবি -এআই নির্মিত)

বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্স নয়, দক্ষিণবঙ্গের বুকেই রয়েছে এমন এক অরণ্যঘেরা ঠিকানা, যেখানে গেলেই মন ভাল হয়ে যেতে পারে। চারপাশে ঘন সবুজ জঙ্গল, আঁকাবাঁকা রাস্তা, ছোট ছোট পাহাড়ি টিলা আর পাখির কলতান। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে কয়েকটা দিন প্রকৃতির কোলে কাটাতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বাঁকুড়ার সুতান থেকে। বিশেষ করে পুজোর ছুটি কিংবা শীতের মরশুমে যাঁরা ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলিতে বেড়াতে ভালবাসেন, তাঁদের জন্য এই জায়গা হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে। সুতানে বেড়াতে গেলে প্রথমেই উপভোগ করতে পারেন বিস্তীর্ণ অরণ্যের সৌন্দর্য। শাল, মহুয়া, পিয়াল, পলাশ ও শিমুল গাছে ঘেরা জঙ্গলের পথ ধরে এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে প্রকৃতির নানা রূপ। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ সুতান লেক। জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে চারপাশের সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করা কিংবা মন ভরে ছবি তোলা, দু’ভাবেই সময় কাটাতে পারেন পর্যটকেরা। পাশাপাশি রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও বিভিন্ন ভিউ পয়েন্ট, যেখান থেকে জঙ্গলকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ মেলে।

প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের কাছে এই পরিবেশ বিশেষ আকর্ষণীয়। সুতানের আরেকটি বড় আকর্ষণ এখানকার নির্জনতা। সকালে কিংবা বিকেলে জঙ্গলের পরিবেশে সময় কাটালে শোনা যায় পাখির ডাক। শীতের মরশুমে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখার সম্ভাবনাও থাকে। ভাগ্য ভাল হলে ময়ূরের দেখা মিলতে পারে। তবে বন্যপ্রাণী বা পাখি দেখার নিশ্চয়তা নেই। এখানে বেড়াতে আসার মূল আনন্দ হল প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, সবুজ অরণ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে হোক কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, সুতান হতে পারে ছোট্ট ছুটির জন্য সুন্দর একটি ঠিকানা।

কলকাতা থেকে সড়কপথে সুতানে যেতে দূরত্ব ও সময় নির্ভর করবে বেছে নেওয়া যাত্রাপথের উপর। ট্রেনে বাঁকুড়া পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে যাওয়ার পরিকল্পনাও করতে পারেন। তবে রওনা দেওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং পর্যটনস্থলগুলির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি। জঙ্গলে ঘোরার সময় বন দফতরের নির্দেশ মেনে চলা এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখা প্রত্যেক পর্যটকের দায়িত্ব। সব মিলিয়ে পাহাড়, জল আর অরণ্যের মেলবন্ধনে বাঁকুড়ার সুতান হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের অফবিট পর্যটনের এক সুন্দর অভিজ্ঞতা।

(Feed Source: news18.com)