
মঙ্গলবার MMX for Moon Exploration অভিযানের সূচনা করেছে জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা JAXA. পাঁচ বছরের এই অভিযানে দিয়েছে আরও চারটি দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহ ফোবোসের বুকে পদার্পণ করবে MMX. সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। (Mars Moon Phobos)
সব ঠিক থাকলে ২০৩১ সাল নাগাদ ফোবোস থেকে মাটি এবং পাথর নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে MMX. আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র জ্যোতির্পদার্থবিদ টম স্ট্যাটলার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে প্রচণ্ড উত্তেজিত তাঁরা। তাঁরা অভিভূত।
মঙ্গলের সবথেকে কাছাকাছি অবস্থিত ফোবোস। আলুর মতো দেখতে উপগ্রহটি এবড়োখেবড়ো। আয়তন প্রায় ২২ কিলোমিটার। সেটির মাটি পরীক্ষা করে মঙ্গল সম্পর্কে তো বটেই, অন্য উপগ্রহ সম্পর্কেও অনেক কিছু জানা যাবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।
MMX মহাকাশযানটির ওজন প্রায় ৫ টন। সেটিকে ফোবোসে পাঠাতে খরচ পড়ছে ৫৭৮ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। আগামী বছর গ্রীষ্মে সেটি মঙ্গলের গা ঘেঁষে অবস্থান করবে। ধীরে ধীরে ফোবোসের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘোরা শুরু করবে মহাকাশযানটি। এর পর ল্যান্ডারটিকে নামানো হবে ফোবোসের বুকে। ফ্রান্স এবং জার্মানির তৈরি রোভার Idefix বেরিয়ে আসবে। সরাসরি ফোবোসের বুকে নামবে সেটি।
Idefix রোভারটির আয়তন মাইক্রোওয়েভের সমান। চারটি চাকা রয়েছে রোভারটির। যদি উল্টো হয়েও গিয়ে পড়ে, আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে সক্ষম সেটি। তবে ফোবোসের নরম মাটিতে সেটি গেঁথে যায়, না পাথরে ধাক্কা খায়, তা সময়ই বলবে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার জুলিয়েন বারুখ। তিনি জানিয়েছেন, একবার সোলার প্যানেলগুলি ছড়িয়ে দেওয়ার পর আর কিছু সংশোধন করা যাবে না। ফলে অত্যন্ত ধীর গতিতে এগোবে Idefix, সেকেন্ডে ০.৪ ইঞ্চি।
প্রথমে ফোবোসের চারিদিকে ১০০ দিন ঘুরে বেড়াবে Idefix. নিরাপত্ত সংক্রান্ত দিকগুলি খুঁটিয়ে দেখবে মহাকাশযানটি। ২০২৮ সালের শেষ দিকে বা ২০২৯ সালের শুরুতে মূল মহাকাশযানটির ল্যান্ডারটি অবতরণ করবে নমুনা সংগ্রহের জন্য। সেই সময় ধুলো এবং এবড়োখেবড়ো মাটি এড়াতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা।
ফোবোসের বুকে মাত্র দু’ঘণ্টাই থাকবে মূল ল্যান্ডারটি। ওই সময়ের মধ্যে খননকার্য চালিয়ে অন্তত ১০ গ্রামের মতো নমুনা সংগ্রহ করবে। এর পর ফের মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেবে সেটি। ২০৩০ সালে মঙ্গলের অঞ্চল থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার কথা রয়েছে। তার আগে ডিমোসের পাশ দিয়ে আসার সময় সেটিকেও পর্যবেক্ষণ করবে। ২০৩১ সালে ফোবোসের নমুনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে নামার কথা MMX-এর।
ল্যান্ডারটি ফোবোসের পৃষ্ঠে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় কাটাবে; এই সময়ের মধ্যে সেটি খননকার্য চালিয়ে অন্তত ১০ গ্রাম (এক আউন্সের এক-তৃতীয়াংশ) উপাদান সংগ্রহ করবে এবং এরপর পুনরায় মহাকাশে যাত্রা করবে। ২০৩০ সালে মঙ্গলের এলাকা ত্যাগ করার আগে এটি বেশ কয়েকবার ডেইমোসের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় সেটিকে নিয়ে গবেষণা চালাবে। এরপর দ্রুত পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে এবং ২০৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে সংগৃহীত নমুনাগুলো পৌঁছে দেবে।
এই একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান। আগে ওই পথে একাধিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে সেই সব ধ্বংসাবশেষ। পাশাপাশি, ফোবোস নামটিও ভয় ধরায় মনে। গ্রিক শব্দের অর্থই ভয়। ডিমোসের অর্থ মৃত। যুদ্ধের দেবতা অ্যারেসের দুই যমজ ছেলের নামানুসারে নাম রাখা হয়। ফোবোসে অভিযান চালাতে গিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলের উদ্দেশে তাদের একাধিক অভিযানও ব্যর্থ হয়েছে। জাপান এর আগে মঙ্গলের কক্ষপথে মহাকাশযান বসাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। NASA-ও ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে। প্রত্যেকেরই একটাই উদ্দেশ্য, মঙ্গলের বুকে কখনও কি প্রাণের অস্তিত্ব ছিল, এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।
মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস এবং ডিমোসের সৃষ্টি নিয়েও উত্তরের অপেক্ষায় বিজ্ঞানীরা। মঙ্গল এবং একটি মহাজাগতিক প্রস্তরখণ্ডের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে সেগুলির সৃষ্টি কি না, দু’টি গ্রহাণু কোনও ভাবে মঙ্গলের অভিকর্ষে বাঁধা পড়ে গিয়েছে কি না, তার উত্তর মেলেনি আজও।
তবে শুধুমাত্র জাপানই নয়, মঙ্গল এবং সংলগ্ন অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহে নেমেছে চিনও। ২০২৮ সালের মার্চ মাসে মঙ্গল থেকে নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যে মহাকাশযান পাঠাবে তারা। ২০৩১ সালের মধ্যে নমুনা পৃথিবীতে আনার পরিকল্পনা তাদেরও। পার্সিভ্যারেন্স মঙ্গলের বুকে যে ৩০টির বেশি নমুনা সংগ্রহ করেছে, সেগুলি পৃথিবীতে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে NASA-ও।
MMX-এ যে ৫৭৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, তার মধ্যে জাপান ঢেলেছে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। NASA ৮৭, ফ্রান্স ৬৮, জার্মানি ৫৬ এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ১৭ মিলিয়ন ডলার ঢেলেছে।
(Feed Source: abplive.com)
