CJP Case Update: ‘আপনারা তো GenZ নন’, সৌরভ-আশুতোষের বয়স শোনার পরেই ভর্ৎসনা আদালতের! বললেন, ‘যন্তর মন্তরে ঢুকলেন কেন?’

CJP Case Update: ‘আপনারা তো GenZ নন’, সৌরভ-আশুতোষের বয়স শোনার পরেই ভর্ৎসনা আদালতের! বললেন, ‘যন্তর মন্তরে ঢুকলেন কেন?’

 

দুই আবেদনকারীর হয়ে আদালতে উপস্থিত আইনজীবী অভীক চিমনি জানান, সৌরভের বয়স ২৭ বছর এবং আশুতোষের বয়স ৩২ বছর। তখন আদালত মন্তব্য করে, “তা হলে আপনারা জেন জি নন। জেন জি কারা?” বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদনে এই কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। ১৯৯৭ সালের পর যাঁদের জন্ম, তাঁদের জেন জি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে আদালতকে জানানো হলে বিচারপতি ফের বলেন, “তা হলে আপনারা জেন জি নন।”

বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম প্রসাদের এজলাসে মামলাটির শুনানি চলছিল। ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আবেদনকারীদের প্রশ্ন করেন বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নির্দেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের মতো বিকল্প আইনি পথ খোলা থাকতে পারে।

 

দিল্লি পুলিশের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা এবং আইনজীবী আশিস দীক্ষিত। অন্যদিকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অন্যান্য আবেদনকারীর হয়ে সওয়াল করেন অভীক চিমনি।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন আদালতেরবিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) ১৯ অক্টোবরের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। ওই নির্দেশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১২৬ ও ১৭০ নম্বর ধারার অধীনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুই আন্দোলনকারীর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনকারীরা ওই নির্দেশ বাতিল, অবিলম্বে মুক্তি এবং হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির নির্দেশে স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের আটক করে রাখা বেআইনি এবং তা ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী।

শুনানিতে অভীক চিমনি যুক্তি দেন, হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির নির্দেশ আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আদালত প্রশ্ন তোলে, ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায় কি না এবং আবেদনকারীদের আগে সেই বিকল্প আইনি পথ অনুসরণ করা উচিত কি না।

বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত মন্তব্য করে, “এটি আপনাদের দ্বিতীয় ঘটনা। আপনারা এমন একজন ব্যক্তি, যিনি আসলে বন্ড ভঙ্গ করেছেন। আপনাদের প্রতিকার পাওয়ার উপযুক্ত পথ হল রিভিশন।”

সৌরভ এবং রাঙ্কার উদ্দেশে বিচারপতি প্রসাদের মন্তব্য, ‘‘আপনারা একটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই আপনারাই যখন ব্যারিকেড ভাঙছেন, আপনাদের সমর্থক এবং অনুগামীরাও তা করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমনও লোকজন সেখানে থাকতে পারেন, যাঁরা আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তখন কী ভাবে সামলাবেন?’’

সৌরভদের আবেদনটি গ্রহণযোগ্য কি না, আর এই পর্যায়ে সেটির শুনানি করা উচিত কি না—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরে আদালত। একই দিনে পরে বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিষয়টি ওঠার কথা থাকলেও কেন আবেদনকারীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।

শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “এটি কি রিভিশনযোগ্য নির্দেশ?” বিচারপতি প্রসাদ আবেদনকারীদের পরামর্শ দেন, তাঁরা চাইলে আবেদন প্রত্যাহার করে বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে চলা প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। তার পর নিজেদের জন্য উপলব্ধ আইনি প্রতিকারের পথগুলি খতিয়ে দেখতে পারেন।

বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী..আদালত বলে, “যদি আজই আপনাদের মুক্তি দেওয়া হয়, তা হলে কী হবে? আজ চূড়ান্ত শুনানি হচ্ছে না। রাজ্যকে জবাব দাখিল করতে বলতেই হবে।” দ্বিতীয়বার ঘটনার পরেও কি নমনীয়তা দেখানো প্রয়োজন? প্রশ্ন আদালতের৷

আবেদনকারীরা দ্বিতীয়বার শান্তিভঙ্গ করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার পরেও কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর জামিনদার বা জামিন সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করার অধিকার রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।

বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত প্রশ্ন করে, “দ্বিতীয়বার শান্তিভঙ্গ করার পরেও কি কর্তৃপক্ষ সব ধরনের শর্ত আরোপের ব্যাপারে জোর দিতে পারবে না?”

বিচারপতি আরও পর্যবেক্ষণ করেন, আবেদনকারীরা এর আগে বন্ড জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলের মর্যাদা থেকে বাদ দেওয়ার পরেও তাঁরা সেখানে ফিরে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আদালত উল্লেখ করে, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে ওই বিজ্ঞপ্তির উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।

বিক্ষোভে আরও মানুষ যোগ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে পারেন, সেই সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এখানে দুই আবেদনকারী সামনের সারিতে রয়েছেন। আপনারা যখন ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান, তখন ১৬৩ ধারা অমান্য করে আরও ১০ বা ২০ জন যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি।”

বিচারপতি অন্যান্য দেশের এমন ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পরে হিংসাত্মক হয়ে উঠেছিল, এমনকী অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছিল। কোনও জমায়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের যোগ দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করা আটকাতে পুলিশের অনুমতির গুরুত্বের কথাও তুলে ধরে আদালত।

হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধিকে চ্যালেঞ্জ আন্দোলনকারীদেরবিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার হেফাজতের মেয়াদ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর পর দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। তাঁদের আইনজীবীরা জরুরি শুনানির আবেদন জানান। এর পর বুধবার মামলাটি শুনতে রাজি হয় হাইকোর্ট।

আবেদনকারীদের যুক্তি, মুক্তির জন্য বারবার জামিনদার পেশ করা সত্ত্বেও ১৩ অক্টোবর থেকে তাঁদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, ১৯ অক্টোবর অতিরিক্ত জামিনদার, স্বাক্ষরিত বন্ড এবং ফিক্সড ডিপোজিটের রসিদ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলি পেশ করতে দেওয়া হয়নি।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, BNSS-এর ১৩৫(৩) ধারায় পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর কোনও স্বতন্ত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। আবেদনকারীদের বক্তব্য, ওই ধারায় আটক রাখার বিষয়টি বন্ড সম্পাদন করতে ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের পর এই মামলার সূত্রপাত। তার আগে যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলের মর্যাদা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারীদের দাবি, পুলিশের অভিযোগগুলি ইতিমধ্যেই ঘটে যাওয়া ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। তাঁদের বক্তব্য, এই অভিযোগগুলি এমন কোনও আসন্ন বিপদের প্রমাণ দেয় না, যার কারণে তাঁদের হেফাজতে রাখা প্রয়োজন।

(Feed Source: news18.com)