
শুক্রবার Unidentified Anomalous Phenomena (অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা) সংক্রান্ত যে নথিপত্র প্রকাশ করেছে আমেরিকার সরকার, তাতেই ওই রহস্যময় যানটিকে দেখা গিয়েছে। আমেরিকার একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির উপর ছিল সেটি। একবার নয়, দু’বার নয়, গত বছরেই তিন-তিন বার দেখা গিয়েছে রহস্যময় ওই যানটিকে। সেটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮০০ মাইল ছিল বলে জানা যাচ্ছে। সেটি অন্য কোনও দেশের কি না, তাও পরিষ্কার নয়। (US UFO Files)
রহস্যময় ওই যানটিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সেটি অত্যাধুনিক কোনও যান কি না, অন্য কোনও দেশ থেকে এসেছে, না কি ভিন্গ্রহীদের পাঠানো যান, চর্চা সর্বত্র। তবে নিরাপত্তার খাতিরে ওই নথিপত্রের পেশ কিছু অংশ গোপন রাখা হয়েছে। ফলে সেটিকে ঠিক কোন এলাকায় দেখা গিয়েছিল, তা বোঝা যাচ্ছে না।
NEW UFO DROP 🛸👀 https://t.co/oUYLzcjTIY https://t.co/2bt4NujNAi
— The White House (@WhiteHouse) October 23, 2026
আমেরিকার সরকার যে স্কেচ প্রকাশ করেছে, তাতে পাহাড়ি অঞ্চলের আকাশে ত্রিভুজ যানটিকে দেখা গিয়েছে। কোনও ছবি প্রকাশ করা হয়নি যানটির। FBI রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র তিন সেকেন্ডে সেটি ১.৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়ে যায়। সেটির ওড়ার কোনও শব্দ পাওয়া যায়নি, কোনও রকম গ্যাস বেরোতে দেখা যায়নি বলে উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। থার্মাল যন্ত্র দিয়ে স্ক্যান করার সময় সুষম তাপীয় সঙ্কেত পাওয়া যায়, যা সাধারণত বিমান বা ড্রোনের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে না। বরং সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনের নির্দিষ্ট কিছু অংশে তাপীয় সঙ্কেত বেশ তীব্র হয়।
রহস্যময় ওই যানটির আকারও নজরও কেড়েছে সকলের। নথিতে বলা রয়েছে, এত দ্রুত গতিতে উড়ছিল যানটি, তাতে যুদ্ধবিমানের সঙ্গে তুলনা করা যায় সেটিকে। বাইরের অংশ ছিল সম্পূর্ণ মসৃণ। কোনও জোড়াতাপ্পি, খাঁজ চোখে পড়েনি। সাধারণ বিমান বা যুদ্ধবিমানে থাকা ককপিটের অংশও চোখে পড়েনি যানটিতে।
আকাশে ওই যানটিকে উড়তে দেখেন দুই ব্যক্তি। তাঁরা জানান, যানটিকে দেখার সময় কোনও শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেননি তাঁরা। বমিভাব, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি হয়নি। রহস্যময় ওই যানটি আমেরিকার তৈরি কোনও অত্যাধুনিক যান কি না, সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা। সেটিকে অন্য কোনও দেশের যান বলেও তাঁরা মানতে রাজি নন। এত উন্নত প্রযুক্তি কোনও দেশের হাতে রয়েছে বলে খবর খবর নেই তাঁদের কাছে।
পৃথিবীতে এলিয়েনদের আনাগোনা, ভিন্গ্রহী যান দেখতে পাওয়ার মতো একাধিক দাবি সামনে এসেছে এখনও পর্যন্ত। আমেরিকা আসল সত্য গোপন করছে বলেও অভিযোগ উঠে আসছে লাগাতার। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই অজ্ঞাত যান সংক্রান্ত যাবতীয় ফাইলস প্রকাশ্যে আনার ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। সেই মতো সপ্তম দফায় আরও ফাইল প্রকাশ করা হল। তবে এখনও পর্যন্ত ভিন্গ্রহীদের অস্তিত্ব বা পৃথিবীতে তাদের আনাগোনার সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ মেলেনি।
শুক্রবার প্রকাশিত নথিপত্রে আরও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বলা হয়েছে, উটায় অবস্থিত ৫১২ একরের খামার থেকে UFO দেখা থেকে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০১০ সালে সেখান থেকে চুল সংগ্রহ করা হয়েছিল। খামারের মালিকের দাবি ছিল, একটি রহস্যময় প্রাণী দেখতে পান তিনি। পোষ্যরা সেটির পিছু নিলে কাঁটাতার পেরিয়ে পালিয়ে যায় সেটি। সেই কাঁটাতার থেকেই চুল সংগ্রহ করা হয়। সেটির DNA-ও পরীক্ষা করে দেখেন বিশেষজ্ঞরা।
পাশাপাশি, দু’পেয়ে কুকুরের মতো দেখতে প্রাণী, অস্বাভাবিক চিৎকার ও আর্তনাদ, মানুষের মতো দেখতে খর্বাকার প্রাণী, ৮ ফুট লম্বা পোকা দেখার দাবিও উঠে এসেছে নথিপত্রেে। ছয়ের দশকে NASA-র একটি নথির উল্লেখও রয়েছে তাতে, যাতে মহাকাশ থেকে খসে পড়া বস্তুর সংস্পর্শে এলে কী করণীয় লেখা রয়েছে।
(Feed Source: abplive.com)
