
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি-সহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাঁর ব্যক্তিগত মত, স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। বর্তমানে রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দিচ্ছে। প্রয়োজনে সেই অর্থের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে বলেও জানান তিনি। মোবাইলের পরিবর্তে পড়ুয়াদের হাতে ইলেকট্রনিক ট্যাব তুলে দেওয়ার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষাব্যবস্থায় পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি ভারতের ইতিহাস এবং সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি স্কুলে এনসিসি চালু করা, ব্রতচারী এবং এনএসএসের মতো কার্যকলাপ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অগ্নিবীর পদে চাকরির ক্ষেত্রে এনসিসি প্রশিক্ষণ থাকলে প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে পারতেন। সেই কারণে স্কুলস্তর থেকেই পড়ুয়াদের এনসিসি প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, ব্রতচারী বন্ধ করা এবং পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করেন শুভেন্দু।
শুধু পুঁথিগত শিক্ষা নয়, ছোট বয়স থেকেই পড়ুয়াদের সঙ্গীতচর্চার সুযোগ করে দেওয়ার উপরেও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রাথমিক স্তর থেকেই স্কুলে তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্র শেখানোর ব্যবস্থা থাকা উচিত। পাশাপাশি, প্রতি বছর অন্তত তিন দিন বিতর্ক, কুইজ এবং এই ধরনের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরামর্শ দেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের উদ্যোগ পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং দেশ সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে সাহায্য করবে। শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের নেতিবাচক প্রবণতার মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী বছর থেকে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যাবে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিল্প ও কর্মসংস্থানেও জোর
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনার কথাও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, রাজ্যে শিল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যেখানে ভূমিপুজো করা হয়েছে, সেখানেই কাজ শুরু হয়েছে বলে তাঁর দাবি। প্রতি মাসে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির পাশাপাশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা এফডিআইয়ের ক্ষেত্রেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। ইতিমধ্যে ৩৩ জনের হাতে জমি তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিল্পের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন ক্ষেত্রেও বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ চলছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, কোচবিহারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান শুভেন্দু। বালি উত্তোলনের ক্ষেত্রে সেচ দফতরের নির্দেশিকা মেনে চলা এবং বৈধভাবে বালি তোলার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করার উপরেও জোর দেন তিনি। পাশাপাশি, ‘শিল্পীর সিদ্ধান্ত’ নামে তাঁকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রবিরোধী লেখা প্রচারের বিরোধিতা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সুজিত ভৌমিক
(Feed Source: news18.com)
