
Diwali Lights Electric Bill: দীপাবলিতে বাড়ি ঝলমলে আলোয় সাজাতে অনেকেই একাধিক আলোর মালা ও লাইট লাগিয়ে দেন। কিন্তু মনে মনে চিন্তা করতে থাকেন, এতে বিদ্যুতের বিল কতটা বাড়বে? তাই জনপ্রিয় কয়েক ধরনের আলোর মালার বিদ্যুৎ খরচ ও দৈনিক ব্যয়ের হিসাব জেনে নিলে দীপাবলিতে বিদ্যুতের বিল বাড়ার আশঙ্কা কমাতে পারবেন।
দীপাবলির আগে অনেকেই বাড়ির ব্যালকনি, ছাদ এবং বাইরের দেওয়ালে নানা ধরনের রঙিন আলো লাগান। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ আলোর মালা থেকে শুরু করে স্মার্ট LED, কার্টেন লাইট এবং ওয়াটারফল লাইট। বাড়ি সুন্দর করে সাজাতে অনেকেই একসঙ্গে একাধিক আলোর মালা লাগিয়ে দেন। কিন্তু মনে মনে চিন্তাও থাকে, এই আলোগুলি জ্বালালে বিদ্যুতের বিল কতটা বাড়বে?
আসলে দীপাবলির আলো কতটা বিদ্যুৎ খরচ করবে, তা নির্ভর করে কোন প্রযুক্তির আলো ব্যবহার করছেন এবং সেগুলি কত ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে, তার উপর।
পুরনো ফিলামেন্ট বাল্বের আলোর মালা: দীপাবলিতে যদি পুরনো কাচের বাল্বের আলোর মালা ব্যবহার করেন, তা হলে জেনে রাখুন, এই ধরনের আলো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। ৫০ থেকে ১০০টি বাল্বযুক্ত এই ধরনের একটি মালা সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে।
কোনও বাড়িতে যদি ৮ থেকে ১০টি আলোর মালা রাতভর প্রায় ৮ ঘণ্টা জ্বালানো হয়, তা হলে সেগুলি মিলিয়ে প্রায় ২.৫ থেকে ৪ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ধরলে, এর জন্য দৈনিক খরচ হতে পারে প্রায় ১৮ থেকে ২৮ টাকা। এই কারণেই বর্তমানে এই ধরনের আলোর ব্যবহার অনেকটাই কমে গিয়েছে।
LED স্ট্রিং বা ফেয়ারি লাইট: বর্তমানে বাজারে ১০ থেকে ১২ মিটার লম্বা LED স্ট্রিং লাইট বেশ জনপ্রিয়। এগুলিকে ফেয়ারি লাইটও বলা হয়। এই আলোগুলির দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং বিদ্যুৎ খরচও কম হওয়ায় পকেটের উপর চাপ পড়ে না। সাধারণত ১০০টি LED-যুক্ত একটি আলোর মালা মাত্র ৪ থেকে ৮ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে।
আপনি যদি বাড়িতে ১০টি আলোর মালাও লাগান, তা হলে মোট বিদ্যুৎ খরচের ক্ষমতা হবে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ ওয়াট। ফলে এই আলোগুলি রাতভর জ্বালিয়ে রাখলেও বিদ্যুৎ খরচ হবে আধা ইউনিটেরও কম। সে ক্ষেত্রে দৈনিক খরচ হতে পারে মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা।
কার্টেন, রোপ এবং ওয়াটারফল লাইট: পুরো দেওয়াল বা ব্যালকনি আলোয় সাজাতে কার্টেন বা ওয়াটারফল লাইট ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের আলোয় ৩০০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত LED থাকতে পারে। ফলে একটি কার্টেন লাইট সেট সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে।
একইভাবে, ছাদের সীমানা বরাবর লাগানো মোটা সিলিকন রোপ লাইট প্রতি মিটারে ৩ থেকে ৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। অর্থাৎ, আপনি যদি ২০ মিটার রোপ লাইট লাগান, তা হলে সেটি প্রায় ৬০ থেকে ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করবে। এই আলো রাতভর ৮ ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখলে প্রায় ০.৫ থেকে ০.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। এর জন্য দৈনিক খরচ হবে প্রায় ৩.৫০ থেকে ৬ টাকা। বিদ্যুৎ খরচের নিরিখে একে পুরনো ধরনের একটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।
RGB লাইট এবং লেজার প্রজেক্টর: বর্তমানে অ্যাপ বা রিমোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন RGB লাইট এবং দেওয়ালে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা আউটডোর লেজার প্রজেক্টর বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথমে RGB লাইট স্ট্রিপের কথা বলা যাক। ৫ মিটার লম্বা একটি সাধারণ RGB স্ট্রিপ ১৮ থেকে ২৪ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। এই আলো রাতভর ৮ ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখলে মাত্র ০.১৪ থেকে ০.১৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে। এর জন্য দৈনিক খরচ পড়বে প্রায় ১ থেকে ১.৩৫ টাকা।
অন্যদিকে, বড় বড় দেওয়াল আলোয় সাজানোর জন্য ব্যবহৃত লেজার প্রজেক্টর মাত্র ১০ থেকে ১৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। আপনি যদি একটি লেজার প্রজেক্টর প্রায় ৮ ঘণ্টা চালান, তা হলে বিদ্যুৎ খরচ হবে প্রায় ০.১ ইউনিট। সে ক্ষেত্রে দৈনিক খরচ হতে পারে প্রায় ১ টাকা।
কোন আলো ব্যবহার করলে খরচ কম হবে? দীপাবলিতে বাড়ি সাজানোর জন্য পুরনো ফিলামেন্ট বাল্বের আলোর মালা ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। বর্তমানে এই ধরনের আলোর ব্যবহার কমে গিয়েছে। পাশাপাশি, এগুলি আপনার বিদ্যুতের বিলও অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে।
কম খরচে বাড়ি সাজাতে চাইলে LED স্ট্রিং লাইট বা লেজার প্রজেক্টর বেছে নিতে পারেন। এই আলোগুলি ব্যবহার করলে বিদ্যুতের বিল সামান্যই বাড়তে পারে। বাড়ির সীমানা বরাবর আলো লাগানোর জন্য রোপ লাইট এবং বিভিন্ন রঙের আলোর জন্য RGB LED স্ট্রিপও ভাল ও সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। তবে এই ধরনের আলো কেনার সময় প্রাথমিকভাবে আপনাকে কিছুটা বেশি টাকা খরচ করতে হতে পারে।
(Feed Source: news18.com)
