
WBPSC-র নিয়োগবিধি অনুযায়ী, ডিকটেশন ও ট্রান্সক্রিপশন পেপারে ৪০০ নম্বর এবং কম্পিউটার টাইপিং পেপারে ১০০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে। ডিকটেশনের গতি প্রতি মিনিটে ৮০টি শব্দ এবং কম্পিউটার টাইপিংয়ের ন্যূনতম গতি প্রতি মিনিটে ৩০টি শব্দ। ফলে পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, নির্ভুলতা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি দফতরে আধিকারিকদের ডিকটেশন নেওয়া, চিঠিপত্র তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য নথিবদ্ধ করার কাজে স্টেনোগ্রাফির প্রয়োজন হয়। তবে শর্টহ্যান্ডে শুধু দ্রুত লেখা নয়, পরে নিজের লেখা নোট সঠিকভাবে পড়ে শব্দ, বানান ও বাক্য পুনর্গঠন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে শর্টহ্যান্ড শিখবেন? রইল ধাপে ধাপে প্রস্তুতির উপায়
শুরুতেই দ্রুত লেখার চেষ্টা না করে প্রতিটি চিহ্ন সঠিকভাবে লেখা ও পড়ার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। ভুল প্রতীক ব্যবহার করলে পরে ট্রান্সক্রিপশনের সময় ভুল শব্দ তৈরি হতে পারে।
একই শব্দ বারবার লিখলে হাতের গতি বাড়ে এবং পরিচিত শব্দের ক্ষেত্রে ভাবার সময় কম লাগে। ভুল হলে পুরনো লেখার উপর কাটাকাটি না করে পাশে সঠিক প্রতীকটি লিখে রাখুন।
যখন কোনও নির্দিষ্ট গতিতে শব্দ বাদ না দিয়ে লিখতে পারবেন, তখন আরও বেশি গতির ডিকটেশন নিন। একই অনুচ্ছেদ বারবার লিখে নিজের ভুল শনাক্ত করুন। পরিচিত শব্দের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতীক লেখা এবং বাক্যের অর্থ বুঝে পরবর্তী শব্দের জন্য প্রস্তুত থাকার অভ্যাস তৈরি করুন।
নিয়মিত অডিয়ো ডিকটেশন শুনে অনুশীলন করলে বিভিন্ন উচ্চারণ, স্বাভাবিক কথার গতি এবং বাক্যের ছন্দের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। তবে শুধু অডিয়ো শোনাই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি অনুশীলনের পরে ট্রান্সক্রিপশন করে মূল লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরীক্ষার পেপার পূর্ণমান সময় ও শর্ত
Paper I: General English ১০০১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
Paper II: Dictation and Transcription-৪০০৬ মিনিট ডিকটেশন এবং ১ ঘণ্টা ট্রান্সক্রিপশন
Paper III: Computer Typing-১০০১০ মিনিট, ন্যূনতম ৩০ WPM
Paper II-তে ডিকটেশনের গতি: প্রতি মিনিটে ৮০টি শব্দ, একটানা ৬ মিনিট।
ট্রান্সক্রিপশনের সময়: ডিকটেশন শেষ হওয়ার পরে কম্পিউটারে শর্টহ্যান্ড নোট টাইপ করে সম্পূর্ণ বক্তব্য তৈরি করার জন্য ১ ঘণ্টা।
ভুলের নিয়ম: ডিকটেশন ও ট্রান্সক্রিপশনে কতগুলি ভুল গ্রহণযোগ্য হবে, তা কমিশন নির্ধারণ করবে।
Paper III-তে টাইপিংয়ের গতি: প্রতি মিনিটে অন্তত ৩০টি ইংরেজি শব্দ; পরীক্ষার সময় ১০ মিনিট। এই পেপারেও গ্রহণযোগ্য ভুলের সংখ্যা কমিশন নির্ধারণ করবে।
প্রথমে General English পেপার নেওয়া হবে। তার ফলের ভিত্তিতে সীমিত সংখ্যক প্রার্থীকে ডিকটেশন-ট্রান্সক্রিপশন এবং কম্পিউটার টাইপিং পেপারে বসতে দেওয়া হবে। চূড়ান্ত মেধাতালিকা তিনটি পেপারের মোট নম্বরের ভিত্তিতে তৈরি হবে।
ট্রান্সক্রিপশনে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
নোট পড়ার অভ্যাস: প্রতিদিন নিজের শর্টহ্যান্ড নোট আবার পড়ুন। যে শব্দগুলি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে, সেগুলি চিহ্নিত করুন।
বানান ও শব্দভাণ্ডার: সাধারণ ইংরেজি শব্দের পাশাপাশি সরকারি দফতরে ব্যবহৃত শব্দ ও বাক্যাংশের বানান শিখুন।
বাক্যের অর্থ বোঝা: কোনও শব্দের প্রতীক অস্পষ্ট হলে বাক্যের সামগ্রিক অর্থ বুঝে সঠিক শব্দ চিহ্নিত করার চেষ্টা করুন।
বিরামচিহ্ন ও বড় হাতের অক্ষর: কমা, ফুলস্টপ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং ব্যক্তিনাম বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঠিক বানান অনুশীলন করুন।
সময় ধরে অনুশীলন: ডিকটেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাইপ করার অভ্যাস গড়ুন।
প্রতিটি ট্রান্সক্রিপশনের পরে মূল প্যাসেজের সঙ্গে নিজের টাইপ করা লেখা মিলিয়ে দেখুন। কোন শব্দ বাদ গিয়েছে, কোথায় ভুল শব্দ এসেছে, কোথায় বানান বা বিরামচিহ্ন ভুল হয়েছে—সেগুলি আলাদা করে লিখে রাখুন।
টাইপিংয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রথমে কিবোর্ডের অক্ষরগুলির অবস্থান শিখুন। কিবোর্ডের দিকে বারবার না তাকিয়ে টাইপ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। একই সঙ্গে বানান ও বিরামচিহ্নের ভুল কমানোর দিকে নজর দিন।
প্রতিদিন ইংরেজি খবর, সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা সাধারণ অনুচ্ছেদ টাইপ করার অনুশীলন করতে পারেন। প্রথমে নির্ভুলভাবে টাইপ করার চেষ্টা করুন, পরে ধীরে ধীরে গতি বাড়ান। শুধু WPM বাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতটা লেখা নির্ভুলভাবে টাইপ করতে পারছেন, সেটিও যাচাই করুন।
১. ডিকটেশন টেস্ট: প্রথমে ৬ মিনিটের একটি প্যাসেজ প্রতি মিনিটে ৮০টি শব্দের গতিতে শুনুন। এরপর নিজের শর্টহ্যান্ড নোট পড়ে মূল বক্তব্য কতটা সঠিকভাবে ধরতে পেরেছেন, তা যাচাই করুন।
২. ট্রান্সক্রিপশন টেস্ট: ডিকটেশন শেষ হওয়ার পরে ৬০ মিনিটের মধ্যে নোট থেকে সম্পূর্ণ বক্তব্য টাইপ করুন। এরপর মূল প্যাসেজের সঙ্গে মিলিয়ে বাদ পড়া শব্দ, ভুল বানান, ভুল শব্দ ও বিরামচিহ্নের সংখ্যা হিসাব করুন।
৩. টাইপিং টেস্ট: ১০ মিনিট ধরে ইংরেজি টাইপ করুন। কতগুলি শব্দ টাইপ করেছেন এবং কতগুলি ভুল হয়েছে, তা নথিবদ্ধ করুন। WBPSC-র ন্যূনতম লক্ষ্য হল প্রতি মিনিটে ৩০টি শব্দ।
৪. ভুলের তালিকা তৈরি: কোন ধরনের শব্দ বারবার বাদ যাচ্ছে, কোন প্রতীক পড়তে অসুবিধা হচ্ছে এবং কোন বানানে ভুল হচ্ছে, তা একটি খাতায় লিখে রাখুন। পরবর্তী অনুশীলনে সেই দুর্বল জায়গাগুলির উপর বেশি সময় দিন।
৫. ধারাবাহিক ফলের তুলনা: শুধু একটি পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই দক্ষতা প্রমাণ হয় না। কয়েক সপ্তাহের ফল পাশাপাশি রেখে দেখুন গতি বাড়ছে কি না, ভুল কমছে কি না এবং সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ লেখা তৈরি করা যাচ্ছে কি না।
২০ মিনিট: শর্টহ্যান্ডের নিয়ম, প্রতীক ও সংক্ষিপ্ত রূপের পুনরাবৃত্তি।
৩০ মিনিট: বিভিন্ন গতিতে ডিকটেশন নিয়ে অনুশীলন।
৩০ মিনিট: শর্টহ্যান্ড নোট থেকে ইংরেজিতে ট্রান্সক্রিপশন।
২৫ মিনিট: কম্পিউটার টাইপিংয়ের গতি ও নির্ভুলতা বাড়ানো।
১৫ মিনিট: ভুল বিশ্লেষণ, বানান সংশোধন এবং পরের দিনের অনুশীলনের পরিকল্পনা।
এটি একটি প্রস্তাবিত অনুশীলন-রুটিন, WBPSC-র নির্ধারিত সময়সূচি নয়। যাঁদের শর্টহ্যান্ডের ভিত্তি দুর্বল, তাঁরা প্রথমে প্রতীক ও শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ শেখার জন্য বেশি সময় দিতে পারেন। যাঁরা ইতিমধ্যেই ৮০ WPM-এ ডিকটেশন নিতে পারেন, তাঁরা ট্রান্সক্রিপশন ও সময়বদ্ধ মক টেস্টে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।
তবে পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: অন্য কোনও স্টেনোগ্রাফার নিয়োগ পরীক্ষার নিয়ম WBPSC-র পরীক্ষায় সরাসরি প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। WBPSC-র ক্ষেত্রে ডিকটেশনের সময়, গতি, ট্রান্সক্রিপশনের সময়, টাইপিংয়ের ন্যূনতম গতি এবং গ্রহণযোগ্য ভুলের চূড়ান্ত নিয়ম জানতে কমিশনের বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়োগবিধিই অনুসরণ করতে হবে।
(Feed Source: news18.com)
