
Bikes : অনেকেই সাধারণ বাতাসের বদলে বাইকের টায়ারে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরেন। তবে এটাও ঠিক, সাধারণ রাস্তায় চালালে এর থেকে খুব বেশি সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।
গাড়ি বা বাইকের টায়ারে হাওয়া ভরানো খুবই সাধারণ একটি কাজ। কিন্তু নাইট্রোজেন এবং সাধারণ হাওয়ার মধ্যে কোনটি ব্যবহার করা ভালো, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। কারও ধারণা, টায়ারে নাইট্রোজেন ভরালে গাড়ির মাইলেজ বাড়ে, টায়ার দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং বারবার হাওয়া ভরানোর প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, সাধারণ হাওয়া সহজেই পাওয়া যায় এবং অনেক জায়গায় বিনামূল্যেও ভরানো যায়। তাহলে কোনটি বেশি ভালো?
প্রথমেই জানা দরকার, সাধারণ বাতাসেও প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকে। এছাড়া প্রায় ২১ শতাংশ অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস থাকে। অন্যদিকে, টায়ারে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন গ্যাস সাধারণ বাতাসের তুলনায় বেশি বিশুদ্ধ। তবে তার অর্থ এই নয় যে নাইট্রোজেন ভরালেই প্রতিটি গাড়ির মাইলেজ বা টায়ারের আয়ু বেড়ে যাবে।
টায়ারে নাইট্রোজেন ভরানোর সুবিধা কী? নাইট্রোজেন বিশেষত এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যেখানে টায়ারের চাপ দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে প্রস্তুত ও ভরা হলে নাইট্রোজেন গ্যাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকে। ফলে টায়ারের ভিতরে আর্দ্রতাজনিত কিছু প্রভাব কমানো সম্ভব। এছাড়া কিছু পরিস্থিতিতে সাধারণ বাতাসের তুলনায় নাইট্রোজেন টায়ার থেকে ধীরে বেরোতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ সময় টায়ারের চাপ বজায় রাখতে সুবিধা হয়। রেসিং কার, বিমান এবং কিছু বিশেষ ধরনের যানবাহনে প্রযুক্তিগত কারণে নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ রাস্তায় চলা গাড়ি বা বাইকের ক্ষেত্রে এর সুবিধা তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। নাইট্রোজেন নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত দাবি হল, এটি ব্যবহার করলে গাড়ির মাইলেজ বেড়ে যায়। কিন্তু শুধুমাত্র নাইট্রোজেন ভরানোর কারণে সাধারণ বাতাসের তুলনায় মাইলেজে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। গাড়ির মাইলেজের ক্ষেত্রে টায়ারের সঠিক চাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টায়ারে হাওয়া কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে টায়ারের ঘর্ষণজনিত বাধা বা রোলিং রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যেতে পারে। ফলে গাড়ি চালাতে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয় এবং জ্বালানির ব্যবহারও বাড়তে পারে।
সাধারণ বাতাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি প্রায় প্রতিটি পেট্রল পাম্প ও টায়ারের দোকানে সহজেই পাওয়া যায়। অনেক জায়গায় বিনামূল্যেও হাওয়া ভরানো যায়। অন্যদিকে নাইট্রোজেন ভরানোর জন্য সাধারণত অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। প্রতিদিন শহরের রাস্তায় চলা গাড়ি, বাইক বা স্কুটারের ক্ষেত্রে সাধারণ বাতাস সম্পূর্ণ উপযুক্ত। গাড়ি বা বাইকের প্রস্তুতকারক নির্ধারিত টায়ার প্রেসার মেনে চললে এবং নিয়মিত চাপ পরীক্ষা করলে সাধারণ বাতাস ব্যবহার করতে কোনও সমস্যা নেই। এমনকী, টায়ারে নাইট্রোজেন ভরা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ বাতাস মেশানো যায়। তবে সম্ভব হলে পরে টায়ারের চাপ ও গ্যাসের অবস্থা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো।
(Feed Source: news18.com)
