
#কলকাতা: শ্বেতশুভ্র পাহাড়। ক্রমাগত বরফপাত। প্রবল হাওয়া। কড়া নিরাপত্তা। আর এই সবের মাঝেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে পর্বতারোহণে বিশ্বের উচ্চতম ট্রাই জাংশন। এখানেই দীর্ঘ ১০ বছর পরে ফের সামিট করতে চলেছেন এক ঝাঁক পর্বতারোহী। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে যে শৃঙ্গারোহণ শুরু হতে চলেছে। আর এই সামিট পর্বকে জুড়েও আছে আর এক ইতিহাস। পর্বতারোহীরা বলছেন, এই প্রথম সেনার ইতিহাসে সিভিলিয়ানদের সাথে নিয়ে হতে চলেছে মাউন্টেনিয়ারিং এক্সপিডিশন।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে Eastern command Trans Theatre Adventure Activities. উত্তরের সীমানা বা Northern Border ধরে যা এগিয়ে যাবে পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্তে। এই পর্বতারোহণের দলে আছেন সেভেন সামিট বা সপ্তশৃঙ্গ জয়ী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। আছেন চিকিৎসক বরুণ রায়না। যাঁর ঝুলিতে হিমালয়ের একাধিক শৃঙ্গ আরোহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাছাড়া দলে চিকিৎসক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন তিনি। দলে আছেন তিয়াষ মুখোপাধ্যায়। যিনিও একাধিক সামিট ও মোটরবাইক এক্সপিডিশনে দক্ষ। আছেন রাজীবকুমার মণ্ডল। রাজীববাবুর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে আছে লেহ থেকে অরুণাচলপ্রদেশ দীর্ঘ নয় মাস ধরে সোলো এক্সপ্রিডিশন। এছাড়া মুক্তিনাথ, তপোবন ও মাউন্ট শ্রীকান্ত আরোহণ করেছেন তিনি। এছাড়া এই দলে সিভিলিয়ান হিসাবে থাকছেন মহুয়া বিশ্বাস। যাঁর নিজের একাধিক অভিজ্ঞতা রয়েছে ট্রেকিংয়ের।
এই সামিটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল বিশ্বের সর্বোচ্চ ট্রাই-জাংশন পয়েন্টে আসা। ভারত-নেপাল-চিনের সীমান্ত বরাবর থাকা শৃঙ্গ আরোহণ করতে চায় এই দল।এই সামিটে পর্বতারোহী দলের অন্যতম লক্ষ্য হল Mt Jongsong আরোহণ করা। এগিয়ে যাওয়া Jachep La-র উদ্দেশে। আর সেটিও আরোহণ করে ফেলা৷ Mt Jonsong প্রায় ৭৪৬২ মিটার উঁচু। হিমালয়ের এই পৃষ্ঠে পর্বতারোহীর পা পড়েছিল ১৯৩০ সালে। এরপর ২০১২ সালে পর্বতারোহী প্রদীপ সাহু এখানে সামিট করেছিলেন। আর Jachep La সিকিম ও চিনের মধ্যে থাকা উচ্চতম মাউন্ট পাস। যা ৪৩৯০ মিটার উঁচুতে।
এই সামিট নিয়ে ভীষণ উত্তেজিত সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। তিনি জানিয়েছেন, এরকম একটা পর্বতারোহণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারাই ভীষণ ভালোলাগার। সেনার সঙ্গে সিভিলিয়ান হিসাবে এই সামিট সফল করতে আমরা উদগ্রীব। গত ১৬ অগাস্ট থেকে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে সবাই এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
