
#কলকাতা: রাজার ছোট মেয়ে বলেছিল, বাবাকে সে লবণের মতো ভালবাসে। তাই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল তাকে। কিন্তু গরিবের ঘরণী সেই ছোট মেয়ের ঘরেই একদিন অতিথি হয়ে গিয়ে রাজা বুঝেছিলেন লবণের কী মর্ম! আলুনি খাবার মুখে তোলা দায়! ছোটবেলায় শোনা এ গল্প অক্ষরে অক্ষরে সত্যি।
আসলে খাবারে লবণের পরিমাণ হওয়া উচিত নিক্তি মেপে। সামান্য কম অথবা বেশি হলে খাবার বিস্বাদ হয়। আবার শরীরের ভিতরে নানা ধরনের সমস্যাও তৈরি করতে পারে লবণের তর-তম ভেদ।
নিয়মিত অত্যধিক পরিমাণে লবণ (Salt) খাওয়া শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। তা সে ঘরোয়া খাবার হোক বা প্যাকেটজাত খাবার, আচার বা অন্য সংরক্ষণ যোগ্য পণ্য, যেমন পনির এবং স্যস, ডিপ ইত্যাদিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত লবণ স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল নয়। অতিরিক্ত লবণ খাওয়া অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।
‘ইউরোপীয় হার্ট জার্নালে’ (European Heart Journal) খাবারে লবণের পরিমাণ এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, গবেষকরা দেখেছেন যে খাবারে অতিরিক্ত লবণ দেওয়ার প্রবণতা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। সরাসরি এর সঙ্গে আয়ু হ্রাসের সম্পর্ক রয়েছে।
কোনও ব্যক্তির যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে থাকে, তা-হলে কী করা উচিত! ওই ব্যক্তি কি সাধারণ লবণের পরিবর্তে কম-সোডিয়াম যুক্ত লবণ ব্যবহার করবেন?
বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট ধন্দ রয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দু’টির কোনওটিকেই ১০০ শতাংশ নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। সাধারণত যে সব লবণকে কম সোডিয়াম যুক্ত (Low-Sodium Salt) বলা হয়, তাদের সোডিয়াম কম থাকলেও পটাশিয়াম ক্লোরাইড (Potassium Chloride) থাকে।
আসলে সোডিয়ামের ব্যবহার কমাতেই পটাশিয়াম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বেশি পটাশিয়াম শরীরে ঢুকলেও ক্ষতি। তাতে রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (US) জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের (Johns Hopkins Bloomberg School of Public Health) গবেষকরা তাদের ‘পটাশিয়াম-এনরিচড সল্ট সাবস্টিটিউটস অ্যাজ এ মিনস টু লোয়ার ব্লাড প্রেশার’ (Potassium-Enriched Salt Substitutes as a Means to Lower Blood Pressure) শীর্ষক নিবন্ধে দেখিয়েছেন যে, সোডিয়াম ক্লোরাইডের বদলে পটাশিয়াম ব্যবহার করলে তা রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে, এমন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
অন্য একটি গবেষণা থেকে গবেষকরা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, কম-সোডিয়াম যুক্ত লবণের ব্যবহার, কিছু ক্ষেত্রে, হৃদযন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি অসুখে ভুগছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কম-সোডিয়াম যুক্ত লবণ গ্রহণের প্রভাব সম্পর্কে আরও গবেষণা করা দরকার। একই ভাবে রক্তে পটাশিয়ামের উচ্চ মাত্রা সম্পর্কেও জানা দরকার।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (American Heart Association)-এর জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হাইপারক্যালেমিয়ার বিষয়ে জানার জন্য খাবারে পটাশিয়ামের মাত্রা এবং পটাশিয়াম যুক্ত লবণের বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন।’
তবে গবেষণায় এ-ও বলা হয়েছে যে, কম সোডিয়াম যুক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য নিরাপদ হতে পারে।
