লাদাখ সীমান্ত থেকে ক্রমেই সরছে ভারত ও চিন, অবশেষে অবসান সংঘাতের

লাদাখ সীমান্ত থেকে ক্রমেই সরছে ভারত ও চিন, অবশেষে অবসান সংঘাতের

India

oi-Sanjay Ghoshal

লাদাখ সীমান্তেরর আরও একটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে বাহিনী সরিয়ে নিল চিন ও ভারত- দুই দেশেই। সোমবার ভারত ও চিনা সেনাদের পক্ষ থেকে পিপি-১৫ থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। এরপর অন্য পয়েন্টগুলি থেকেও তারা সরে দাঁড়াবে। উল্লেখ্য, পূর্ব লাদাখের গোগরা-হট স্প্রিংস এলাকার পেট্রোল পয়েন্ট-১৫ এখনও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অমীমাংসিত রয়েছে।

ভারত ও চিনা সেনারা সোমবার পূর্ব লাদাখের গোগরা-হট স্প্রিংস এলাকার পিপি-১৫ থেকে সরে যেতে থাকে। সেনারা পুরনো অবস্থানে ফিরে যাওয়া থেকে শুরু করে অস্থায়ী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য যৌথভাবেই এই এলাকা খতিয়ে দেখা হবে দুই দেশের তরফে।

২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখের গোগরা-হট স্প্রিংস এলাকায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ভারত ও চিন সেনা। সেই সীমানা সংঘাতের পর ভারতের সেনাবাহিনী ও চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি-র চতুর্থবার পিছু হটে। সংঘর্ষবিরতি বজায় থাকলেও এই অংশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অমীমাংসিত রয়েছে।

গত সপ্তাহের ভারত ও তিন যৌথভাবে ঘোষণা করে পিপি-১৫ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দু-পক্ষের সেনারা ২ থেকে চার কিলোমিটারের একটি বাফার জোন তৈরি করতে পারে। ঠিক যেমনটি সংঘাতের পর সেনা প্রত্যাবর্তনের পর করা হয়েছিল। পাঁচ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। ভারত ও চিন ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করেছে যে, তাঁদের ফ্রন্টলাইন সৈন্যরা পিপি-১৫ থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। জুলাই মাসে ১৬ দফা আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীয় হয়েছে দুই দেশ।

ভারতের সামরিক অপারেশনের প্রাক্তন মহাপরিচালর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিনোদ ভাটিয়া বলেন, আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। বাকি দুটি ক্ষেত্রে অসামান্য সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত। প্রতিটি রাউন্ডেই যে আশানুরূপ ফলাফল হবে, তা মনে করা উচিত নয়।

এখন পর্যন্ত ১৬ দফা আলোচনা সত্ত্বেও দৌলত বোগ ওল্ডি সেক্টরের ডেপসাং এবং ডেমচোক এলাকার চার্ডিং নল্লা জংশনের সমস্যাগুলি রয়ে গিয়েছে। গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং সো, গোগরা পিপি-১৭এ এবং পিপি-১৫ থেকে সেনা সরে যাওয়ার পরেও দু-পক্ষের প্রায় ৬০ হাজার সৈন্য রয়েছে লাদাখ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে। তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে যে প্রক্রিয়া আটকে ছিল, তা এখন শুরু হয়েছে। দু-পক্ষই আশাবাদী সমস্যার সমাধান হবে।

(Source: oneindia.com)