
#নয়াদিল্লি : পুজোর আগে স্বস্তিতে মানিক ভট্টাচার্য। শারদে গারদে নয় মানিক। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতির রক্ষাকবচ বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় শুনানি শেষ করল শীর্ষ আদালত, রায়দান স্থগিত। পুজোর ছুটির পর ১০ই অক্টোবর আদালত খুললে রায়দানের দিন স্থির করা হবে। ততদিন পর্যন্ত তদন্তে সহযোগিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের। শীর্ষ আদালতে মানিক ভট্টাচার্যকে ‘কিংপিন’ বলে দাবি করল সিবিআই।
এদিন শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ সিং বলেন, অনেক লোককে বেআইনিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যারা TET দেননি। অন্যদিকে যারা TET তে ভালো নম্বর পেয়েছে তাঁদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলাফল ঘোষণা ছাড়াই যথেচ্ছ ও বেআইনিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত হকরছে সিবিআইয়ের। তিনি সওয়াল করেন, সুপ্রিমকোর্টের সংবিধান বেঞ্চ হাইকোর্ট গুলিকে সিবিআই তদন্ত দেওয়ার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত মামলা হওয়া উচিত।
দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো মামলাতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মামলা হওয়ার তিন বছর পর সরকার হলফনামা দেওয়ার পর শুনানির প্রথম দিনই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেক্ষেত্রে আদালত ৩ বছর অপেক্ষা করেছে। সিবিআই এর পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বলেন, সিবিআই বেশ কয়েক মাস ধরে তদন্ত করছে। প্রচুর অনিয়ম পাওয়া গেছে। আদালতের উচিত সিবিআই তদন্ত চালু রাখা।
দুজনের সওয়ালের পর আদালত জানতে চায় তদন্তে আর কত সময় লাগবে? অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বললেন এ ব্যাপারে আমাকে সিবিআইয়ের কাছে জানতে হবে। বিচারপতি বিরক্ত হয়ে বলেন, “আপনারা নির্দিষ্ট সময় বলুন। না হলে বহু মামলায় কয়েক দশক ধরে তদন্ত করবে সিবিআই।” অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল জানান, আগামী তিন মাসে তদন্ত শেষ করবে সিবিআই। মাণিক ভট্টাচার্যের তরফে আইনজীবী মুকুল রোহতাগি বলেন, বিচারপতি মিডিয়ায় মুখ খুলেছেন। মানিক ভট্টাচার্য আদালতে নিজের যাবতীয় সম্পত্তির হিসেব দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন,”রাজ্য পুলিশের তদন্তে আপত্তি কীসের?”
এরপরেই মানিক ভট্টাচার্যের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি জানালেন রোহতগি। আদালত জানতে চায়, মানিক ভট্টাচার্যের সম্পর্কিত কি কোনও অনিয়ম পেয়েছে সিবিআই ?অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল জানিয়ে দিলেন, শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে মানিক ভট্টাচার্য হলেন কিং পিন। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার আইনজীবীর দাবি, মানিক ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। তাতে মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে। সুপ্রিম কোর্টকে ভুল তথ্য দিচ্ছেন মানিক ভট্টাচার্য।
