
#কলকাতা: দরজায় পুজো কড়া নাড়লেও তাদের কিছুই করার নেই। ছেলে-মেয়ে, আত্মীয় স্বজন, পরিবার সব কিছু থেকেও তাঁদের কিছুই নেই। প্রিয়জনদের ছেড়ে তাঁরা অনেক দূরে এসে পড়ে আছেন।
জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে যেন তাঁরা শেষ দিনটির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। দুর্গা পুজো, কালী পুজো সহ যে কোনও উৎসবই তাঁদের কাছে আর পাঁচটা দিনের মতো শুধুই আর একটা দিন।
বৃদ্ধাশ্রমের সেই আবাসিকদের জীবনেও আলোর রোশনাই পৌঁছে দিতে চতুর্থীর সন্ধ্যায় চেতলার এক বৃদ্ধাশ্রমে পৌছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহরেরই এক বৃদ্ধাশ্রম নবনীড়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।
এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও ইন্দ্রনীল সেন। বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের জন্য বেশকিছু উপহারও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ইন্দ্রনীল সেন সেখানে গান পরিবেশন করেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়ে, গল্প করে বৃদ্ধাদের মন ছুঁয়ে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি নিজেও এখানে সময় কাটাতে পেরে খুব আনন্দিত বোধ করেন।নিজের মন ভাল করা এই অভিজ্ঞতার কথা এর আগেও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গতবার করোনা আবহে সাবধানী ছিলেন প্রত্যকেই। বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা সেবার মুখ্যমন্ত্রীর সামনে শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখেই দাঁড়িয়েছিলেন।
বারান্দা বা জানলা থেকে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রেখেছিলেন। এবার অবশ্য অন্য ছবি। মুখ্যমন্ত্রী আসতেই তাঁকে আবাসিকরা শাঁখ বাজিয়ে স্বাগত জানান। পালটা মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ও সুর করা গান পরিবেশন করেন ইন্দ্রনীল সেন।
আবাসিকরা গান শুনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তালি বাজিয়ে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাদের সাথে কথায় কথায় জানিয়েছেন, পুজো মাস্ক পরে নিজেদের সুরক্ষিত রেখে চলতে হবে। নিজে ভাল থাকুন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। টিভি’তেও দেখুন।
অষ্টমীর দিন আবাসিকদের জন্য ভোগের আয়োজন করতে নির্দেশ দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিমকে। গত বছর এখানে শুরু হয়েছে পুজো। আবাসিকদের পুজোর উৎসবের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এদিন বেশ খানিকটা সময় তাদের সঙ্গে কাটালেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। একইসঙ্গে বাড়ির কালীপুজোয় যাওয়ার নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি প্রতিবার আসি। এই জায়গায় না আসলে পুজোর আগমন বার্তা সমাপন হয় না। ইন্দ্রনীল, ববি ও আমি মা’কে হারিয়েছি। আপনারাই আমাদের মা। তাই পুজোর আগে আপনাদের প্রণাম জানাতে আসি। যখনই আসি, তখনই দেখে নিই ভিড়ের মাঝে পরিচিত মুখেরা আছে কিনা! কালীপুজোয় অবশ্যই যাবেন। পুজো তো এখন এখানে হয়। আমি প্রায় দেড় হাজার পুজো উদ্বোধন করেছি। তাতে আমার গলা চোকড হয়েছে।
