
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অনেকেই মনে করেন ওজন কমানোর সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি হল টানা উপোস করে থাকা। অনেক পুষ্টিবিদেরা এমন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খেয়ে নেওয়ার পর ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার উপবাসের পরামর্শ দিয়ে থাকে। অনেকে নিজেরাই এই কাজ করেন৷ তবে তা ভাল না কি খারাপ এই প্রশ্ন থেকেই যায়। সম্প্রতি এ বিষয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে৷ সেখানে দেখা গিয়েছে ওজন কমানোর জন্য যেসব মহিলা এই কাজ করে চলেছেন তাদের দেহের হরমোনের ওপর Negative Impact বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এই টানা উপবাস পদ্ধতি। আরও চিন্তার এই গোটা বিষয়টি কারণ মহিলাদের প্রজনন হরমোন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই প্রক্রিয়ার ফলে। শিকাগোর ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ওবেসিটি বা স্থূলতার ওপর একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। সেখান থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে এমনটা বলা হয়েছে।
এই পরীক্ষায় আট সপ্তাহ ধরে একটি “Warrior Diet” এ রাখা হয়। সেখানে এই নিয়মিত উপবাস নিয়মটি মানতে বলা হয়েছিল। এরপর সেই পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্য জার্নাল উইলি অনলাইন লাইব্রেরিতে প্রকাশিত হয়৷ এই ডায়েটের মাধ্যমে, একজন মহিলাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ ঘণ্টা খেতে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তারা যত ইচ্ছে, যা খুশি খেতে পারেন, সেই ছাড় দেওয়া ছিল। কিন্তু এরপর সারাদিনে আর তারা জল ছাড়া কিছুই খেতে পারবেন না সেই শর্তও জারি ছিল।
এরপর উপোসের পর গবেষকরা মহিলাদের রক্ত নিয়ে সেখান থেকে একাধিক হরমোনের কার্যকারীতা পর্যবেক্ষণ করেন। এই পরীক্ষার নেতৃত্ব দেন ক্রিস্টা ভারাডি এবং তার গবেষক দল। সেখানে দেখা যায়, মহিলাদের প্রজননের সময় সহায়তাকারী একটি উচ্চপ্রোটিন, Sex-Binding Globulin Hormone একই ছিল। কিন্তু ইস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম বেশি হয়েছিল আট সপ্তাহের এই পরীক্ষায়।
কিন্তু আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন DHEA ( dehydroepiandrosterone) এর মাত্রা লক্ষণীয় ভাবে কমে যায়। এই হরমোনের ওষুধ সাধারণত ফার্টিলিটি ক্লিনিক বা গায়েনেকোলজিস্টরা দিয়ে থাকে ওভারির কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে ডিম্বাণু উৎপাদনে সহায়তা করে। সেটি প্রি এবং পোস্ট মেনোপজাল সময়ে প্রায় ১৪ শতাংশ কমে যাচ্ছে। এর ফলে প্রজননে সহায়তাকারী দুই হরমোন টেস্টোস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেন দুটিই কমে যাচ্ছে। প্রজনন ক্ষমতার পাশাপাশি চামড়ায় একাধিক রোগও দেখা দিচ্ছে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ওজনও কমছে ৩ থেকে ৪ শতাংশ৷
যদিও এখনই এই টানা উপোস পদ্ধতি নিয়ে কোনওরকম উপসংহারে আসতে বারণই করেছেন ক্রিস্টা ভারাডি। তার মতে, এই একই প্রক্রিয়া যখন ইদুরের ওপর করা হয়েছিল তখন এর উলটো ফল এসেছিল। যদিও মানুষের দেহে এই পরীক্ষার ফলাদফল আগামী দিনে একাধিক গবেষণায় সাহায্য করবে বলে আশাবাদী তিনি।
(Feed Source: zeenews.com)
