
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। আগামী সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুতিনের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি আজ, বৃহস্পতিবার একটি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে জাকার্তার রুশ দূতাবাস। জি-২০ সম্মেলনে পুতিন না-ও আসতে পারেন, এরকম বেশ কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। তবে জি-২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি পাকাপাকি ভাবে এই প্রথম রাশিয়া নিশ্চিত করল। কেন পুতিন এই সিদ্ধান্ত নিলেন? অনেকগুলি কারণের কথাই ভাবা হচ্ছে। তবে সব চেয়ে বড় কারণ, এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। তবে এই সম্মেলনে পুতিন অংশ নিলে ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলার পর প্রথমবারের মতো বাইডেন ও পুতিনকে একই মঞ্চে দেখা যেত। কিন্তু সম্ভবত সেটা হল না।
ভ্লাদিমির পুতিনকে অতীতে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেছেন জো বাইডেন। রাশিয়ায় বন্দী মার্কিনদের মুক্তির বিষয়টি আলোচ্য সূচিতে না থাকলে বালিতে গেলে তাঁর সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জাকার্তায় রুশ দূতাবাসের চিফ প্রোটোকল কর্মকর্তা ইউলিয়া তোমস্কায়া বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি, জি-২০ সম্মেলনে (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সের্গেই লাভরভ রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে। তিনি ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করতে পারেন।’
শোনা যাচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমি সমালোচনা থেকে নিজেদের আড়ালে রাখতে চায় ক্রেমলিন। এরকম আগেও দেখা গিয়েছে। জুলাইয়ে জি-২০–র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে কর্মকর্তারা ইউক্রেনে রুশ হামলার নিন্দা জানাতে থাকলে তার প্রতিবাদে বৈঠক ছেড়ে চলে যান লাভরভ। ইউক্রেনে হামলা সত্ত্বেও জি-২০ সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। এতে পশ্চিমি দেশগুলিতে নিন্দার ঝড় ওঠে। অগাস্টে জোকো উইদোদো জানান, পুতিন আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
১৫ ও ১৬ নভেম্বর বালিতে জি-২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে পুতিনের অংশগ্রহণের বিষয়ে কয়েক মাস ধরেই অনিশ্চয়তা চলছিল। তবে অবশেষে অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এল। রাশিয়ার জি-২০ পরিকল্পনা বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, পুতিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন লাভরভ। ওই ব্যক্তি জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়। কারণ, বিষয়টি রাশিয়ার দিক থেকে এখনও চূড়ান্তই হয়নি!
(Feed Source: zeenews.com)
