
গোপাল ভাঁড় প্রমাণ করে দিয়েছিলেন সময় মতো নিত্যকর্ম সম্পন্ন না হলে পরিস্থিতি কতটা সমস্যা তৈরি করতে পারে। কর্ম সম্পাদনের পর অপার্থিব আনন্দ টের পেয়েছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রও। লোকমুখে ছড়িয়ে থাকা গোপাল ভাঁড়ের এই কাণ্ড গল্প হলেও সত্যি এই অনুভব। আর তেমনই এক ঘটনার কথা জানা গিয়েছে সম্প্রতি। এক মহিলার জীবন বিপন্ন হতে বসেছিল মল পরিষ্কার না হওয়ায়।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এক চিনা মহিলার কথা। বহু বছর ধরে এই মহিলা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছিলেন। একের পর এক ওষুধ খেয়েও গ্যাসের সমস্যা কমছিল না। মল ত্যাগও করতে পারতেন না ঠিক মতো। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে তাঁর পেট ফুলে যেতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। এই পরিস্থিতি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।
সোশ্যাল মিডিয়া চিনের বাসিন্দা ওই মহিলাকে হুয়া নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি গত ৫৩ বছর ধরে তিনি পেটে ব্যথা-সহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা যে এমন মারাত্মক হতে পারে, তিনি ভাবেননি।
সম্প্রতি তিনি পূর্ব চিনের ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাহায্য চান। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। আর তখন রীতিমতো তাজ্জব বনে যান তাঁরা। ওই মহিলার পেটে প্রায় কুড়ি কিলোগ্রাম মল জমেছিল।
বছরের পর বছর ঠিক মতো মল ত্যাগ করতে না পারায় ওই মহিলার পেটে ময়লা জমেছিল। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত এমনই হয়েছিল যে তিনি ঠিক মতো শ্বাস নিতেও পারতেন না।
অস্ত্রোপচার করা হলে তাঁর পেট থেকে প্রায় তিন ফুট লম্বা সাপের মতো মল বের করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন গোল হয়ে পাকিয়ে ছিল এই মল। এর চাপেই শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি ক্রমশ কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছিল।
কিন্তু কেন এমন হল? কী রোগ হয়েছিল মহিলার?
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জন্মগত কোনও ত্রুটিই এর জন্য দায়ী। তাই কোষ্ঠবদ্ধতায় ভুগতেন ওই মহিলা। সেই কারণেই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
