
কলকাতা: পিছিয়ে গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার রায়দান। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়েন তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এদিন বিচারপতি বলেন তীর্থঙ্কর ঘোষ, “এই মামলার ক্ষেত্রে মামলাকারী (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং ED অতি স্পর্শকাতর হয়ে পড়ছে। চাকরিপ্রার্থীরা কলকাতার রাস্তায় বসে আছে, এটাই বাস্তবচিত্র।” বিচারপতি বলেন, লিপস এন্ড বাউন্ডসের কম্পিউটারে ইডির এক আধিকারিকের ডাউনলোড করা ১৬ টি ফাইলের তথ্য দেখে তবেই রায়দান দেওয়া হবে।
পাশাপাশি বিচারপতি বলেন, “ইডির একজন আধিকারিক এবং কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের একজন আধিকারিক ১৬ টি ফাইল সম্পর্কিত বিস্তারিত নিয়ে সোমবার আদালতে জমা দেবেন। ইডির তরফে মিথিলেশ মিশ্র এবং কলকাতা পুলিশের পক্ষে অমিতাভ সিনহা রায় সিএফএসএল-র কাছ থেকে ফাইলের তথ্য সংগ্রহ করবেন।” এদিন এমনটাই নির্দেশ দেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২ বছর লিপস এন্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর ছিলেন এবং তারপর সিইও ছিলেন। এটা খুব ছোট অফিস, মাত্র ২০০০ বর্গফুট এলাকা এবং ৩ টি কম্পিউটার আছে। তল্লাশির পরে একটি কম্পিউটার থেকে ১৬ টি ফাইল পাওয়া যায়। পঞ্চনামা তৈরির পরেও ইডির একজন আধিকারিক ভোর ৬ টা পর্যন্ত লিপস এন্ড বাউন্ডসের অফিসে ছিলেন। কেন? ২৬শে অগাস্ট ED স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে লিপস এন্ড বাউন্ডসকে জানানো হয় যে কম্পিউটারে ১৬ টি ফাইল ডাউনলোড করা হয়েছে। তল্লাশি যখন শেষ পর্যায়ে তখন ED- র একজন আধিকারিক নিজের ব্যক্তিগত কাজ করেন কীভাবে?”
এর পরেই বিচারপতি প্রশ্ন, ‘এই ফাইলগুলিতে কী আছে?’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী বলেন, “যে আছে সেগুলি ক্ষতিকারক কিছু নয়। কিন্তু কাল যদি আবার তল্লাশি হয়, তখন যদি ED র আধিকারিকরা সেগুলি নিয়ে ফের তদন্ত শুরু করে তখন কি হবে? যে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে সেটা শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং যে হোস্টেল খুঁজে দেখা হচ্ছিল সেটাও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল। ফলে আশঙ্কা তো থাকবেই। ছাত্র তালিকায় ছেলেদের নাম দেখা যাচ্ছে। মেয়েদের হোস্টেল খুঁজতে গিয়ে ছেলেদের নাম কেন আসছে? “
রাজ্য সরকারের আইনজীবী জানান, “হার্ড ডিস্ক ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।” বিচারপতি ইডিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বড় আর্থিক দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে, নগদ টাকা, গয়না উদ্ধার হচ্ছে, চার্জশিট কেন পেশ করতে পারছেন না? আপনারা কীসের জন্য অপেক্ষা করছেন? একজন অভিযুক্ত তার সর্বোচ্চ সাজার অর্ধেক জেলে কাটিয়ে দেওয়ার পর বিধি মোতাবেক জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসার?”
ইডির আইনজীবী বলেন, ইডি আধিকারিক ভুল করেছেন, লক্ষ্মণরেখা পার করেছেন। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করছি।
