
ভারত যে ধাক্কা দিয়েছিল সেখান থেকে আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। পরপর টানা চার ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ অভিযান কার্যত শেষ পাকিস্তানের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অনেক লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত সেই হার আর হতাশা নিয়ে মুখ ছোট করেই মাঠ ছাড়তে হল বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদিদের। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ উইকেটে ম্যাচ জিতে পাকিস্তানের সব আশায় জল ঢেলে দিল প্রোটিয়ারা।
প্রতিযোগিতায় সেমি ফাইনালে যাওয়ার আশা সহজ অঙ্কের বিচারে টিকিয়ে রাখতে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকা সহ আগামি সবকটি ম্যাচই পাকিস্তানের কাছে ছিল ডু অর ডাই। ম্যাচের আগে বাবর আজম বলেছিলেন তারা এখনও যে কোনও দলকে হারাতে পারেন। কিন্তু মুখের কথা আর মাঠে করে দেখানোর মধ্যে বিস্তর ফারাক। শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে মাথা নীচু করেই বিশ্বকাপ থেকে কার্যত ছুটি হয়ে গেল পাক দলের। অপরদিকে, এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান দখল করল দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাবর আজম। কিন্তু পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি পাকিস্তান। ৪৬.৪ ওভারে ২৭০ রানে অলআউট হয়ে যায় পাক দল। ইনিংসের শুরুটা ভাল না হলেও মাঝের দিকে দলকে টানেন বাবর আজম, সউদ শাকিল, সাদাব খানরা। সউদ শাকিল ৫২, বাবর আজম ৫০, শাদাব খান ৪৩ ও মহম্মদ রিজওয়ান ৩১ রান করেন। প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন তাবরেইজ সামসী। এছাড়া মার্কো জানসেন ৩টি, জেরাল্ড কোয়েটজে ২টি, লুঙ্গি এনগিডি ১টি উইকেট নেন।
রান তাড়া করতে নেমে এদিন বিগত ম্যাচগুলির মত বিদ্ধংসী মেজাজে পাওয়া যায়নি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের। ভাল শুরু করলেও নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকে। মাঝে এডেন মার্করাম ও ডেভিড মিলারের ৭০ রানের পার্টনারশিপ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরায়। ৯১ রানের ইনিংস খেলেন মার্করাম। এছাড়া কোনও প্রোটিয়া ব্যাটার ৩০ রানের গণ্ডি টপকাতে পারেননি। কিন্তু মার্করাম ফিরতেই ফের একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উপর।
একটা সময় ২৫০ রানে ৮ উইকেট পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার। শাহিন আফ্রিদি ৩টি উইকেট, হ্যারিস রউফ, মহম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, উসমা মিররা ২টি করে উইকেট নেন। সেই সময় মনে হয়েছিল ম্যাচ হয়তো বার করে নেবে পাকিস্তান। সেই সময় ১০ রান যোগ করেন কেশব মহারাজ ও লুঙ্গি এনগিডি। ২৬০ রানে নবম উইকেট পড়ে। শেষ উইকেট দরকার ছিল ১১ রান। কেশব মহারাজ ও তাবরেইজ সামসী মিলে চোয়াল চাপা লড়াই দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে দেন।
