
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তাঁর হাত ধরেই বলিউডের দুই তথা শাহরুখ ও সলমানের ঝামেলা মিটেছিল। তাঁর ইফতার পার্টিতে হাজির হয় গোটা বলিউড। এবার দশেরার দিনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী-অজিত পাওয়ারের এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি। ইতোমধ্যেই তাঁকে খুনের দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই ও তার টিম। সেই বার্তাতেই ফের সতর্ক করা হল সলমান খানকে। ইতোমধ্যেই আজকের সমস্ত মিটিং ক্যানসেল করেছেন সলমান। মুম্বই পুলিসের তরফে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
দশেরা উপলক্ষে সিদ্দিক যখন আতসবাজি ফাটাচ্ছিলেন, সেই সময় একটি গাড়ি থেকে রুমাল দিয়ে ঢাকা তিনজন লোক বেরিয়ে আসে। তারা একটি ৯.৯ এমএম পিস্তল দিয়ে গুলি চালায়। তিন রাউন্ড গুলি করে, যার মধ্যে একটি সিদ্দিকির বুকে আঘাত করে, এতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পূর্ব বান্দ্রায় বাবা সিদ্দিকির ছেলে জিশানের অফিসের বাইরে গুলি চালায় তিন জন। তিনটি গুলিতে বিদ্ধ করা হয় তাঁকে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বাবা সিদ্দিকিকে লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। লীলাবতী হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, সিদ্দিকি প্রচুর রক্তপাত হয় এবং তাকে বাঁচানোর জন্য সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে ১১.২৭ টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মৃতদেহ পরে কুপার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইতোমধ্যেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কর্নাইল সিং এবং ধর্মরাজ কাশ্যপ নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদের সময়, তারা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেছে। আরও জানা গিয়েছে, দু’জন তদন্তকারীদের বলেছে যে তারা গত এক মাস ধরে সিদ্দিকের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে যে এখনও পলাতক, জানা গিয়েছে সে মুম্বইয়ের কুর্লাতে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। এই তিনজন এর আগে পঞ্জাবের একটি জেলে একসঙ্গে বন্দী ছিলেন, যেখানে তারা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের একজন সদস্যের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এই সমিতির মাধ্যমেই তারা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এই কন্ট্রাক্ট কিলিং এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গ্যাং এর প্রভাব এবং সংযোগ একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গতকাল বাবা সিদ্দিকিকে খুনের দায় রবিবার স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ বেশ কয়েকমাস ধরে এই লরেন্সের টার্গেটে রয়েছেন সলমান খান। এবার বাবা সিদ্দিকিকে খুন করে লরেন্সের টিম বার্তা দিয়েছে যে বাবা সিদ্দিকিকে মারা হয়েছে কারণ তাঁর সঙ্গে সলমানের খানের ভালো যোগাযোগ। এমনকী দাউদের সঙ্গেও নাকি তাঁর যোগ ছিল। সেই বার্তাতে ওই ব্যক্তির কথাও উল্লেখ আছে, যে সলমানের খানের বাড়ির বাইরে গুলি চালিয়েছিল ও পরবর্তীতে জেলে সুইসাইড করেছে। সলমান খানের উদ্দেশ্যে তাঁরা বলেন, ‘সলমান খান, আমরা এটা চাইনি। তুমিই তোমার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী। কারোর সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কিন্তু সলমান খান, দাউদকে যে যে সাহায্য করবে, তারা তৈরি থাকো।’
(Feed Source: zeenews.com)
