
Success Story: বাবা করেন জরির কাজ, কখনও চাষের কাজ, প্রতিকূলতা কাটিয়ে সেরা পারফরম্যান্স বাংলার বর্ষার


হাওড়া: জাতীয় স্তরে ‘সফটবল’ প্রতিযোগিতায় বাংলার দলে হাওড়ার বর্ষা মন্ডল! দরিদ্র পরিবার থেকেই উঠে এসে আশার আলো দেখছে বর্ষা। শৈশব থেকে খেলাধুলার প্রতি অগাধ মনোযোগী। প্রত্যন্ত গ্রামে থেকে জাতীয় স্তরে খেলায় অংশগ্রহণ। তাই গ্রামের মহিলাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে বর্ষা। খুব ছোট বয়স থেকে ফুটবল খেলা শুরু করে। বর্তমানে ফুটবল খেলার পাশাপাশি সফটবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছে গত কয়েক মাস হল। অল্পদিনে সফটবল অনুশীলন করে জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ পেয়েছে বর্ষা। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা বর্ষার সাফল্য কামনায় এবার গোটা গ্রাম।
বাবা অশোক মন্ডল, জরির কাজ এবং চাষের কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালান। দিন এনে দিন খাওয়া পরিবার হলেও মেয়ের প্রতিভাকে তুলে ধরতে মেয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে সামিল বর্ষার মা-বাবা। বর্ষার সফলতায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা । প্রথমবার এই জাতীয় স্তরের সুযোগ পেয়েছে মেয়ে, এতে দারুন উৎসাহিত তাঁরা।
অনেকটা বেসবলের মতই সফটবল খেলা। সারা বাংলায় এই খেলার প্রচলন খুব বেশি নয়। তবে ২০২০ সাল থেকে গত কয়েক বছর প্রশিক্ষণ চলছে গ্রামীণ হাওড়ার আমতা’র একটি শিবিরে। প্রত্যন্ত গ্রামের এই শিবিরে সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়ে ও তাদের পরিবার বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষণে ভীষণ আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর ফলে ফুটবল ক্রিকেটের মত অন্যান্য খেলার প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে মানুষের। হাওড়া আমতা শিবাজী স্পোর্ট একাডেমিতে শুটিংবল, দাবা, ভলিবলের মতই সফটবল খেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাতেগোনা কয়েকজন ছেলে মেয়ে এই খেলায় প্রশিক্ষণ নেয়। তাদের মধ্যে একজন বর্ষা। এবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় স্তরের সফটবল প্রতিযোগিতা। ২৭ শে নভেম্বর হাওড়া থেকে উত্তরবঙ্গে পাড়ি দিচ্ছে। বর্ষার সফলতার দিকে তাকিয়ে প্রহর গুনছে গ্রামের মানুষ।
এ প্রসঙ্গে বর্ষার বাবা অশোক মন্ডল জানান, সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের প্রতিভাকে তুলে ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে ওর লক্ষ্য পূরণ হয়।দারুন আশাবাদী বর্ষার প্রশিক্ষক আমন গোস্বামী, তিনি জানান যেভাবে অল্প দিনে এই খেলাকে রপ্ত বর্ষা করে নিয়েছে বর্ষা, তাতে আমরা সকলে আশাবাদী।
Rakesh Maity