
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক জিমখানার (Shivaji Park Gymkhana) আলাদাই স্থান। আন্না বৈদ্য়-রমাকান্ত আচারেকরে (Anna Vaidya and Ramakant Acharekar) মতো কিংবদন্তি কোচদের হাত থেকে বেরিয়ে এসেছেন সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar), সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar), বিনোদ কাম্বলি (Vinod Kambli), অজিত আগরকর (Ajit Agarkar), প্রবীণ আমড়ে (Pravin Amre), সন্দীপ পাতিল (Sandeep Patil) ও সঞ্জয় মঞ্জরেকরের (Sanjay Manjrekar) মতো ছাত্ররা।
এই শিবাজি পার্কে সচিন ও কাম্বলিদের প্রয়াত কোচ আচরেকরের এক স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন দুই কৃতী সচিন-কাম্বলি। দ্রোণাচার্য গুরুই মিলিয়ে দিলেন ছোটবেলার দুই বন্ধুকে। এক সময়ে হরিহর আত্মা ছিলেন তাঁরা। সচিনকে পেয়ে কাম্বলি আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। শারীরিক কারণে কাম্বলিকে আজ ক্লাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। তিনি চেয়ারে বসেছিলেন। সচিন দাঁড়িয়ে, ঝুঁকে কথা বলছিলেন বন্ধুর সঙ্গে। ভিডিয়ো দেখে মনে হচ্ছিল যে, সচিনের হাত ছাড়তেই চাইছিলেন না কাম্বলি। তারপর হাসতে হাসতে সচিন সরে আসেন কাম্বলির সামনে থেকে। এরপর নিজের আসনে চলে যান তিনি।
নেটপাড়ায় ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই একাধিক আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কাউকে ভর করেছে নস্টালজিয়া, তো কারোর মনে চলছে আজ দুই বন্ধুর জমিন-আসমান দূরত্ব হয়ে গিয়েছে। একসময়ে কাম্বলি ছিলেন বোলারদের ত্রাস, রেয়াত করতেন না কাউকে। প্রাণের বন্ধুকে ‘লিটল মাস্টার’- এর থেকেও তাঁকে অনেকে বেশি প্রতিভাবান বলে মনে করতেন অনেকে। সচিনের সঙ্গেই কাম্বলির স্কুল পর্যায়ের ক্রিকেটে ৬৬৪ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ রয়েছে। তবে দেশের জার্সিতে মাত্র সাত বছর খেলেই কাম্বলি অন্ধকারে তলিয়ে যান। বেহিসেবি ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনই তাঁকে ‘ব্যাড বয়’ বানিয়ে ফেলে।
১৭ টেস্ট ১০৪ ওডিআই খেলা ক্রিকেটার এখন ঠিক করে হাঁটতেই পারেন না। কাঁধে ভর দিয়ে তাঁকে চলতে হয়। কাম্বলির শরীরের অবস্থা একেবারেই ভালো নয়। কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নকে এক ওভারে ২২ রান মারা ক্রিকেটারের আজ এই অবস্থা! কার্যত দেউলিয়াই হয়ে গিয়েছেন কাম্বলি। তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থার কথা জানেন সচিনও। সাহায্য়ও করেছেন সাধ্য মতো।
গতবছর স্ত্রী আন্দ্রেয়া হিউয়িটকে পিটিয়ে খবরে এসেছিলেন কাম্বলি। মদ্যপ হয়ে কুকিং প্যান দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন তিনি! ব্রান্দ্রা পুলিসের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন আন্দ্রেয়া। কাম্বলির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩২৪ (ইচ্ছাকৃত ভাবে ভয়ংকর অস্ত্র দ্বারা আঘাত) ও ৫০৪ (অপমান) ধারায় মামলা রজু করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে কাম্বলি সেন্ট পিটার্স চার্চে গিয়ে বিয়ে করেন আন্দ্রেয়াকে। এরপর আইনি বিয়ে করে তাঁরা ক্যাথলিক মতে বিয়ে সারেন। কাম্বলির দ্বিতীয় স্ত্রী আন্দ্রেয়া। ২০১০ সালে কাম্বলি-আন্দ্রেয়ার প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। অতীতে গতবছর কাম্বলি তাঁর হাউজিং সোসাইটির গেটে ভাঙচুর করে মুম্বই পুলিসের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। নেশা করে গাড়ি চালিয়েও খবরে এসেছেন আগে।
(Feed Source: zeenews.com)
