
শান্তিপুর সূত্রাগড় উত্তর দাস পাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণচরণ দাস একাধিক সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত। নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানেও তার ব্যতিক্রম হল না
রির্টান গিফটে গাছ, মরণোত্তর চক্ষুদান! সমাজসেবী যুগলের অভিনব বিবাহবাসর

রির্টান গিফটে গাছ, মরণোত্তর চক্ষুদান! সমাজসেবী যুগলের অভিনব বিবাহবাসর
শান্তিপুর: নতুন দাম্পত্য জীবনের শুরুর বিবাহ অনুষ্ঠানের একাধিক রীতিনীতির মধ্যেও এক সামাজিক বার্তা দিল খোদ পাত্র। বউ ভাতের দিন মরণোত্তর চক্ষুদান করলেন পেশায় ব্যবসায়ী কৃষ্ণচরণ দাস এবং তার নববিবাহিত স্ত্রী তানিয়া। শান্তিপুর বন্ধু সমাজকল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি পাত্র কৃষ্ণচরণ দাস। শান্তিপুর সূত্রাগড় উত্তর দাস পাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণচরণ দাস একাধিক সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত। নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানেও তার ব্যতিক্রম হল না।
বিবাহের আমন্ত্রণ করা আত্মীয় পরিজনদের কাছে বার্তা দেওয়ার এবং কিছু সমাজ সেবামূলক কাজ করে সেটি স্মৃতির পাতায় তুলে রাখার উদ্দেশেআজকের এই শুভ দিন বেছে নেওয়া। সেই ভাবা থেকে নিজের বিয়ের পরে বৌভাতের দিন শান্তিপুরে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে কর্নিয়া সংগ্রহকারী সংস্থা মরমীর উদ্যোগে মরণোত্তর চক্ষুদান করলেন এই নব দম্পতি। এছাড়াও শান্তিপুরের অজয় দে আই কালেকশন সেন্টারে কিছু অর্থ দিয়েও সাহায্য করেন তিনি। খাবার টেবিলে বসে আমন্ত্রিত সকলকে ফুলের চারা গাছ উপহার দিতে দেখা গেল নব দম্পতিকে।
স্বাভাবিকভাবেই বিয়ের মত শুভদিনে অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা দেখা গেলেও মৃত্যু এবং মৃত্যু সম্পর্কিত কোনোরকম কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্ত সেই অর্থে এখনও পর্যন্ত খুব বেশি লক্ষ্য করা যায় না। মৃত্যুর বিষয়টাকে অশুভ হিসেবে ধরা হয় স্বাভাবিক নিয়মে আর সেই কারণেই বিয়ের মত শুভদিনে মৃত্যুর পরের কার্যকলাপ সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনেরা অনেকেই ভালচোখে নাও দেখতে পারেন।
তবে এই সবকিছুকে উপেক্ষা করে শান্তিপুর সমাজসেবী সংগঠন বন্ধুর সহ-সভাপতি কৃষ্ণচরণ দাস নিজের নববিবাহিত স্ত্রী ও সকলের সিদ্ধান্ত নিয়ে শান্তিপুর মরমীর উদ্যোগে মরণোত্তর চক্ষু দান করে সমাজের বুকে যে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তা বলাই বাহুল্য।
Mainak Debnath