Aynaghar | RAB: হাসিনা আমলে তৈরি আয়নাঘর এখনও রয়েছে, গুম খুনের কথাও মেনে নিল বাংলাদেশের RAB…

Aynaghar | RAB: হাসিনা আমলে তৈরি আয়নাঘর এখনও রয়েছে, গুম খুনের কথাও মেনে নিল বাংলাদেশের RAB…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আয়না ঘর ছিল, এখনও আছে, স্বীকার করে নিলেন বাংলাদেশের র‍্যাব ডিজি অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান। সেই সঙ্গে তারা এ-ও মেনে নিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক গুমখুন করা হয়েছে। সে সবের জন্য বৃহস্পতিবার ক্ষমা চাইলেন র‌্যাবের ডিজি। তিনি বলেন, র‍্যাবের বিরুদ্ধে আয়নাঘর, গুম, খুনসহ একাধিত অভিযোগ ছিল, যার তদন্ত করছে কমিশন। র‍্যাবের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাস দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিজি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন র‍্যাবের এডিজি (অপারেশন্স) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ ও পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস।

গত কয়েকদিন ধরে র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুম-খুনের অভিযোগের পাশাপাশি আয়না ঘর প্রসঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। এক সাংবাদিক জানতে চান, এই প্রসঙ্গে র‍্যাবের বক্তব্য কী? জবাবে তিনি বলেন, ‘র‍্যাবে আয়নাঘর ছিল, আছে। সেটা সেভাবেই রাখা হয়েছে। গুম সংক্রান্ত কমিশন নির্দেশ দিয়েছে আয়নাঘরসহ যা যে অবস্থায় আছে সেভাবেই রাখার জন্য। আমরা কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন করিনি। যা যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থাতেই রাখা হয়েছে’।

কী এই আয়নাঘর? শুনতে যতটা সাদামাটা ততটাই রহস্যময়। অভিযোগ ছিল যে শেখ হাসিনার আমলে তৈরি এই আয়নাঘরেই রাখা হতো গুম করে রাখা মানুষজনকে। আলো বাতাসহীন একটি কক্ষ। সেখানে সারাক্ষণ ঘড়ঘড়িয়ে চলে ফ্যান। শেখ হাসিনা বিদায় নেওয়ার পর কথা উঠেছে আয়নাঘরের বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। হাসিনার আমলে বিরোধীদলের বহু নেতা কর্মী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। তারা কোথায় তাদের কোনও হদিশ নেই। এমনকি সেনাবাহিনীর লোকজন রয়েছেন ওই তালিকায়। আয়নাঘর আসলে গোয়েন্দাদের একটি গোপন বন্দিশালা বা ডিটেনশন ক্যাম্প। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থার খবর অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোট ৬০৫ জন গুম হয়েছেন। এদের অনেকেই বিএনপি সমর্থক। এদের অনেককেই জঙ্গি বলে আটক করা হয়। এদের অনেকে ফিরলেও তারা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। হাসিনা আমলে এই আয়নাঘর নিয়ে কেউ মুখ না খুললেও বৃহস্পতিবার ব়্যাব স্বীকার করে নিল।

র‍্যাবের পোশাক পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘র‍্যাবের পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। আর র‍্যাবের নিজস্ব কোনো আইন নেই। পুলিশ আইনে র‍্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। র‍্যাবের জন্য আমরা আলাদা একটি আইন চাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি। এ ছাড়া আর কোন কোন বিষয়ে সংস্কার করা যায় সেজন্য গণমাধ্যম ও জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পোশাকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যারা পোশাকটি পরবেন তারা। আমরা প্রতিদিন ইউনিফর্ম পরি, আপনারা প্রতিদিন প্যান্ট শার্ট, স্যুট, পায়জামা-পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পোশাক পরেন। একজন ভালো ব্যক্তি যে পোশাকই পরেন না কেন আমরা ভালো জিনিসই পাব। কিন্তু একজন খারাপ ব্যক্তি যে পোশাকই পরেন না কেন আমরা ভালো জিনিস কিন্তু পাব না। এখানে পোশাকের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ব্যক্তির মানসিকতা। এরপরও আমরা র‍্যাবের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছি’।

(Feed Source: zeenews.com)