‘কৃশ’-এর শ্যুটিং চলাকালীন হাড়হিম করা ঘটনা, মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচেছিলেন হৃতিক!

‘কৃশ’-এর শ্যুটিং চলাকালীন হাড়হিম করা ঘটনা, মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচেছিলেন হৃতিক!

কলকাতা: অ্যাকশন সিনেমা মানেই তার শ্যুটিংয়ে পদে পদে ঝুঁকি থাকবে। এই তালিকা থেকে বাদ নেই হৃতিক রোশন অভিনীত ‘কৃশ’ ছবিটিও। ২০০৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘কৃশ’। আর সদ্য দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে, সেই ছবির শ্যুটিংয়ের সময়ের হাড়হিম করা ঘটনা বললেন রাকেশ রোশন। এই ছবিটির শ্যুটিং করার সময় কার্যত মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন হৃতিক। কিন্তু তারপরেও তিনি ছবির শ্যুটিং বন্ধ করতে চাননি

রাকেশ রোশন স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, ‘প্রত্যেকটা লাফানোর শটের আগে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম, হৃতিক যেন সঠিকভাবে লাফটা দিতে পারে আর সঠিকভাবে নামতে পারে। নীচে থেকে ওর গায়ে যে সমস্ত কলকবজা লাগানো থাকত সেগুলিকে চালনা করা হত। প্রত্য়েকটা কাজ ছিল ভীষণ সূক্ষ। প্রত্যেকবার এটা নিশ্চিত করতে হত যে হৃতিকের যেন পা টাই সবার আগে মাটি ছোঁয়। কারণ যদি একবার ও হাঁটু দিয়ে মাটি ছুঁয়ে ফেলত, ওখানেই চুরচুর হয়ে ওর হাঁটু ভেঙে যেতে পারত। ঈশ্বরের দয়ায় সেটা হয়নি।’

আরও একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে নিয়েছেন রাকেশ রোশন। তিনি বলছেন, ‘একটা দৃশ্য় ছি, হৃতিক অনেক উঁচু একটা বিল্ডিংয়ে বেয়ে উঠবে। আমি ক্যামেরায় চোখ রেখে নিচে বসে রয়েছি। একটা রাস্তার মাঝখানে। আমি ক্যামেরায় চোখ রেখেই বুঝতে পারছিলাম, কোনও একটা অস্বস্তিতে পড়েছে ও। একেবারেই ব্যালেন্স পাচ্ছে না। উঠতেই পারছে না। কিন্তু আমি যে চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে অ্যাকশন ডিরেক্টরকে বুঝিয়ে বিষয়টা বলব, তারপরে কিছু করব.. ততক্ষণ ওই ওপর থেকে পড়ে যায় হৃতিক। ওর গায়ে রোপ লাগানো ছিল। সেই নিয়ে সবশুদ্ধ ও পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত ও একটি ক্যানোপির ওপর পড়ে তো তেমন চোট পায়নি। এমনকি ক্যানোপির লোহার রডগুলো ও ওকে ছোঁয়নি পর্যন্ত। কিন্তু এরপরেও শ্যুটিং বন্ধ করতে চায়নি হৃতিক। ও কাজ চালিয়ে যাওয়ারই নির্দেশ দেয়। আমি শ্যুটিং বন্ধ করার নির্দেশ দিলে হৃতিক বলে, ‘না বাবা, আমায় আজকে শ্যুটিং করতেই হবে। নাহলে এই ভয়টা চিরকাল আমার মধ্যে রয়ে যাবে। আমি ঠিক আছি। চিন্তার কিছু ঘটেনি।’ কিন্তু রাকেশ আজও যেন ছেলের সেই ভয়াবহ স্মৃতি বুকে করে বয়ে নিয়ে বেড়ান।

(Feed Source: abplive.com)