
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, মানুষ চলে গেলেন। ওড়িয়া সিনেমার সাম্রাজ্যে উনি মহানায়ক। এখানকার উত্তম কুমারের মতোই ওখানে উত্তম মহান্তি। এই মহানায়কের এক দারুণ অধ্যায় রয়েছে, ওড়িয়া সিনেমায় তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। বাংলা এবং ওড়িয়া দুই ভাষাতেই তিনি অনেক কাজ করেছেন। আমি যখন প্রথম সিনেমায় এসেছিলাম তখন আমার সৌভাগ্য হয়েছিল, এই মানুষটার সঙ্গে কাজ করার। তখন আমার নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ভাবা যায়! আমার ওঁকে কী যে ভাল লাগত! তখন আমি খুবই ছোট ছিলাম। উনি অত্যন্ত সুপুরুষ ছিলেন, সেরকমই সুন্দর হাসি, ভাল ব্যবহার।
বারিপদায় ওঁর সঙ্গে ছবির শ্যুট করেছিলাম। উনি দ্বৈত চরিত্রে ছিলেন। বাবা ও ছেলের চরিত্রে উনিই ছিলেন। আমি ওই ছেলের চরিত্রটির নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। আমাকে দেখে বলেছিলেন, ‘এই বাচ্চা মেয়েটা কোথা থেকে এল?’। ওঁর সঙ্গে নাগপঞ্চমীতেও অভিনয় করেছিলাম। তবে সেখানে আমরা জুটিতে ছিলাম না, এছাড়াও আরও অনেক ওড়িয়া ছবিতে আমি ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, আমি ওঁর সঙ্গে অনেক রকমের চরিত্রে অভিনয় করেছি। ১-২ ছবিতে আমার নায়ক হয়েছেন, কোথাও কাকা হয়েছেন আবার স্বপন সাহার একটি ছবিতে আমার বাবার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। একটা লম্বা সময় ধরে কাজ করেছেন উত্তমদা। ওড়িশার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে উনি রাজ করেছেন। কিন্তু ওঁর অমায়িক ব্যবহার ছিল। আমার এখনও মনে আছে, আমরা তখন লেক মার্কেটে থাকতাম। উনি এখানে শ্যুট করতে আসলে আমাদের বাড়ির কাছে একটি গেস্ট হাউসে উঠতেন। ওঁর স্ত্রীর সঙ্গে অনেক সময় কাটাতাম আমরা। তখন আমার বাবা বেঁচে ছিলেন। বাবাকে খুব শ্রদ্ধা করতেন উত্তমদা।
যখনই ওড়িশা গিয়েছি, উত্তমদার খোঁজ করেছি, দেখা করেছি। সম্প্রতি ওড়িশা গিয়ে শুনলাম, উনি অসুস্থ। কেমন আছেন, খোঁজ নিলাম। একজনের মারফত প্রায়ই খোঁজ নিতাম উত্তমদার। বড় অকালেই চলে গেলেন। তবে সিনেমার মহাসম্ভার সাজিয়ে রেখে গিয়েছেন। তাঁর ছেলে বাবু শান এখন ওখানকার বড় হিরো, তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী। অসাধারণ একটা জীবন কাটিয়ে উত্তমদা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তবে ওঁর লিগ্যাসি বাংলা ও ওড়িয়া ছবিতে থেকে যাবে। বাংলা ওড়িশার অনেক কো-প্রোডাকশনে কাজ করেছেন তিনি। অনেক বড়মাপের প্রোডাকশনে কাজ করেছেন। ওঁর এই লিগ্যাসি থেকে যাবে। উনি বরাবরই অনুপ্রেরণা। ওড়িয়া ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দারুণ মানুষ উত্তমদা, উনি চিরকালীন। আমাদের প্রিয় উত্তমদা হয়ে উনি আজীবন আমাদের মনে থেকে যাবেন।
(Feed Source: zeenews.com)
