
জ়ি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দু’দিন আগেই দিশা সালিয়ানের (Disha Salian) বাবা সতীশ সালিয়ান পিটিশন ফাইল করেন বম্বে হাইকোর্টে (Bombay High Court)। ৫ বছর কেটে গেলেও মেয়ের আত্মহত্যা মেনে নিতে পারেননি তিনি। সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) ম্যানেজার দিশার বাবার দাবি আত্মহত্যা নয়, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দিশার খুনের প্রমাণও আছে। দিশার বাবার দাবি, তাঁর মেয়ের মৃত্য়ুর জন্য দায়ী আদিত্য ঠাকরে (Aaditya Thackeray)। শুক্রবার সেই পিটিশন গ্রহণ করে হাইকোর্ট।
সতীশ সালিয়ানের বাবার আইনজীবী আদালতে জরুরি শুনানির দাবি করেছিলেন। সেই আর্জিও মেনে নিয়েছে আদালত। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই মামলার শুনানি হবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে আদিত্য ঠাকরের দাবি, এসব বিজেপি সরকারের চক্রান্ত। তাঁর সম্মানহানি করতেই এই মামলা শুরু করছে।
পিটিশনে আদিত্য ঠাকরের বিরুদ্ধে এফআইআরের রেজিস্ট্রেশনের দাবি জানিয়েছেন দিশার বাবা। সতীশ সালিয়ানের দাবি, “এটা একটা ষড়যন্ত্র। এর নেপথ্যে বড় কারও হাত আছে। আমার মেয়ের কিছু ছবি আমাদের কাছে আছে। ওরা বলছে ১৪ তলা থেকে পড়ে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে, অথচ তাঁর শরীরে কোনও চোট আঘাত নেই। একটা হাড়ও ভাঙেনি। মুম্বই পুলিশ একটা ভুয়ো গল্প বানিয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও ভুয়ো।”
২০২০ সালের ৮ জুন। মালাডের বহুতলের নিচে দিশার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ১৫ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন দিশা, প্রাথমিক খবরে তাই উঠে আসে। সেই সময় পুলিস অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট দায়ের করে ও মামলা শুরু হয়। ৬ দিন বাদেই মুম্বইয়ের বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে সেই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও, পরবর্তীতে সেই মামলা গড়ায় সিবিআই অবধি।
এরই মাঝে কেউ কেউ জুড়ে ফেলেন সুশান্ত ও দিশার মৃত্যুকে। প্রশ্ন ওঠে, দিশার মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ কী? অনেক জল্পনা ছড়ালেও তদন্তে নেমে সিবিআই জানতে পারে সুশান্ত এবং দিশার মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র নেই। এরপরে দিশার মৃত্যুর সঙ্গে শিব সেনা নেতা আদিত্য ঠাকরের নাম জড়ায়। কিন্তু তদন্তের পর সিবিআই জানায়, সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার সম্ভবত আত্মহত্যা করেছেন। কোনওভাবেই খুন হননি। তবে তাতে গুঞ্জন কমেনি। অভিযোগ ওঠে, দিশার মৃত্যুর তদন্তে মুম্বই পুলিশের গাফিলতি ছিল। আদিত্য ঠাকরেকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। এবার ফের সেই মামলা নতুনভাবে শুরু হল।
দিশার বাবা বিস্ফোরক দাবি করেন, ৮ জুন বাড়িতে পার্টি দিয়েছিলেন দিশা। সেখানে হাজির ছিলেন আদিত্য ঠাকরে, সুরজ পাঞ্চোলি, ডিনো মরিয়া সহ আরও অনেকে। সেখানে অনেকেই প্রত্যাক্ষদর্শী ছিল বলে দিশার বাবার দাবি। সেই পার্টিতেই গণধর্ষণের শিকার হয় দিশা এবং তাকে জোর করে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়। দিশার বাবার দায়ের করে পিটিশনে দাবি করা হয় যে ১৫ তলা থেকেই পড়েও তার শরীরে কোনও হাড় ভাঙা ছিল না, বা কোনও রক্ত সেখানে ছিল না।
দিশার বাবার আরও দাবি যে রাজনৈতির চাপে, অভিযুক্তে বাঁচানোর জন্য তথ্য প্রমান লোপাট করা হয়েছে। সুইসাইডের গল্প তৈরির জন্য পোস্টমর্টেমের ছবিও বদলে ফেলা হয়েছে। পুলিস অফিসাররাও এতে যুক্ত। সতীশের দাবি, ফরেন্সিক প্রমানও নষ্ট করা হয়েছে, এমনকী সিসিটিভি ফুটেজও বদলে ফেলা হয়েছে। কেন দিশার মৃত্যুর ৫০ ঘণ্টা পর ময়নাতদন্ত হল? কেন ওইদিন হল না? দিশার বাবার দাবি, আদিত্যকে বাঁচানোর জন্য, ধর্ষণের প্রমান লোপাট করতেই এইসব করা হয়েছে। জড়িত আছে পুলিসও।
ইতোমধ্যেই দিশার বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা কেকে সিং। তিনি জানান যে একদম সঠিক কাজ করেছেন দিশার বাবা। তাঁর ছেলের মৃত্যু নিয়েও তিনি তদন্ত চান।
((Feed Source: zeenews.com)
