
Nadia News:প্রথম দোল উৎসবের পর সপ্তম দোল। তবে এটি কোনও রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহের দোল নয়। এটি শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের দোল বলেও পরিচিত
শান্তিপুরের জাগ্রত বিগ্রহ
মৈনাক দেবনাথ, শান্তিপুর: ৬৫০ বছরের পুরনো শান্তিপুরের বাবলায় অদ্বৈত আচার্যের দোল উৎসব। যা অনুষ্ঠিত হল এদিন সপ্তম দোলে। নদিয়া জেলার প্রাচীন জনপদ শান্তিপুরের দোল উৎসব রাসযাত্রার পর দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে পরিচিত। এখানকার দোল এক দিনের উৎসব নয়, বরং পূর্ণিমায় দোল ছাড়াও প্রতিপদ, পঞ্চমদোল, সপ্তমদোল এবং রামনবমীতেও এখানে দোল উৎসব পালিত হয়। শান্তিপুরের দোল মানে কিন্তু এক দিনের উৎসব নয়। উৎসবের রেশ চলে সেই রামনবমী পর্যন্ত।
প্রথম দোল উৎসবের পর সপ্তম দোল। তবে এটি কোনও রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহের দোল নয়। এটি শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের দোল বলেও পরিচিত। বড় গোস্বামী বাড়িতেও শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের বিশেষ পূজার্চনা হয় এ দিন। শান্তিপুরের বাবলা অঞ্চলে শ্রী শ্রী অদ্বৈতাচার্যের সাধনপীঠ “অদ্বৈত পাট” এ বসে বিরাট সপ্তম দোল বা বাবলার দোলের মেলা। এই উপলক্ষে হয় সীতানাথের দোল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মেলা। দূরদূরান্ত থেকে হয় ভক্ত সমাগম।
উল্লেখ্য মন্দির নগরী নদিয়া জেলায় ১২ মাসের ১৩ পার্বণ। দোল পূর্ণিমা হোক কিংবা ঝুলন যাত্রা অথবা রাসযাত্রা ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে প্রত্যেকটি উৎসবই। এই জেলার নবদ্বীপেই জন্মগ্রহণ করেন কলিযুগের অবতার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। নীলাচলে যাওয়ার আগে তিনি পরিক্রমা করতে করতে এসেছিলেন শান্তিপুরে বলে এমনটাই জানা যায় ইতিহাস মতে। সেই কারণে দোল পূর্ণিমা বিশেষ করে গৌর পূর্ণিমা উৎসব পালন করা হয়ে থাকে নবদ্বীপ ও শান্তিপুরে মহাসমারোহে।
