১০০ বছর পুরনো অঙ্ক, দিব্যার উত্তরে অবাক বিজ্ঞানমহল! মিলল বিদ্যুৎ তৈরির উন্নত পথ

১০০ বছর পুরনো অঙ্ক, দিব্যার উত্তরে অবাক বিজ্ঞানমহল! মিলল বিদ্যুৎ তৈরির উন্নত পথ

Divya Tyagi: দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে একটি অঙ্কের ভিত্তিতেই চলত বায়ুশক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন। সারা বিশ্বের এই চিত্রে এবার আনতে চলেছে এক ভারতীয় বংশোদ্ভুত তরুণী। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির এই পড়ুয়া আদতে একজন এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট। গ্লোর্তের এরোডায়নামিক ধাঁধার সমাধান করেছেন মার্কিননিবাসী দিব্যা। তাঁর সেই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে উইন্ড এনার্জি সায়েন্স জার্নালে। বিশেষজ্ঞমহলের মতে, এই সমাধান বায়ুশক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গোটা ছবিই বদলে দিতে পারে। সারা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে দিব্যার সমাধান পথটি ধরে এগোলে।

গ্লোর্তের এরোডায়নামিক পাজল

প্রায় ১০০ বছর আগে ১৯২৬ সাল নাগাদ ইংরজ এরোডায়নামিস্ট গ্লোর্তে ‘ম্যাক্সিমাম পাওয়ার কোএফিশিয়েন্ট’ নামক একটি সমীকরণ উদ্ভব করেন। এই সমীকরণ একটি টারবাইন কতটা বায়ুশক্তি বিদ্যুতে পরিনত করতে পারে, সেই অঙ্কটি বলে দেয়। কিন্তু এই সমীকরণটিতে অধরা থেকে যায় ‘ডাউনউইন্ড থ্রাস্ট’ ও ‘রুট বেন্ডিং মোমেন্ট’। একটি টারাবাইন যখন বাতাসের গতির অভিমুখে ঘোরে, তখন এর রটরের উপরের টারবাইন ব্লেড যে বল প্রয়োগ করে, তাকে ‘ডাউনউইন্ড থ্রাস্ট’ বলে। অন্যদিকে ‘রুট বেন্ডিং মোমেন্ট’ হল টারবাইনের একটি ব্লেড ঘোরার সময় এই ব্লেড গোড়ার রটর হাবের উপর যে চাপ সৃষ্টি করে। এই দুটি জিনিস বাস্তবে শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দিব্যা ত্যাগীর ভূমিকা

দিব্যা ত্যাগী গ্লোর্তের সমীকরণের এই দুটি ঘাটতিকে মিটিয়েছেন ক্যালকুলাসের সাহায্য নিয়ে। ক্যালকুলাসের একটি বিখ্যাত অঙ্ক হল ‘কনস্ট্রেইনড অপটিমাইজেশন’। অর্থাৎ কোনও বাধা থাকলে তাকে গণ্য করে কীভাবে সবচেয়ে বেশি ফল পাওয়া যায়। ঠিক সেই পদ্ধতিকেই এখানে কাজে লাগিয়ে টারবাইন থেকে বায়ুশক্তির দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সর্বাধিক করা হয়েছে।

গ্র্যাজুয়েশনের থিসিসই বিজ্ঞানে অবদান!

স্নাতক স্তরের এই বিষয়টি নিয়েই থিসিস করেছিলেন দিব্যা ত্যাগী। জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পর তা গোটা বিজ্ঞানী মহলে সারা ফেলে দিয়েছে। গবেষকদের কথায়, এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এই গবেষণা বড় অবদান। কারণ এর ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। প্রসঙ্গত, দিব্যার স্ভেন স্মিটজ এই ব্যাপারে দিব্যাকে উৎসাহ দেন। তাঁর কথায়, গ্লোর্তের সমীকরণে ভুল রয়েছে, তা বহুদিন ধরেই মনে হত। দিব্যা চতুর্থ পড়ুয়া যাকে এই ভুল খোঁজার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিলাম। শেষমেশ ও করে দেখাল।

(Feed Source: hindustantimes.com)