Bangkok Skyscraper Mystery: ভয়ংকরতম ভূমিকম্পে ব্যাংককে কেন ১টি বহুতলই ভেঙে পড়ল? সামনে আসছে ভয়াবহ তথ্য! চিন নাকি…

Bangkok Skyscraper Mystery: ভয়ংকরতম ভূমিকম্পে ব্যাংককে কেন ১টি বহুতলই ভেঙে পড়ল? সামনে আসছে ভয়াবহ তথ্য! চিন নাকি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মায়ানমার-ব্যাংককের ভূমিকম্প সাম্প্রতিক কালের অন্যতম ভয়ংকর ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ৭.৭ ও ৬.৪ মাত্রার কম্পন ছিল। এখনও কি ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনও প্রাণ আছে? সেই সন্ধানেই কাজ করছে রেসকিউ টিম। কিন্তু উদ্ধারকাজের মধ্যেই ব্যাংককের বহুতল ভেঙে পড়া নিয়ে উঁকি দিয়েছে রহস্য।

আপাতত একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। ব্যাংককে কেন মাত্র একটি বহুতলই ধসে পড়ল? ব্যাংককে ভূমিকম্পের সময়কার একটি ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ভবনগুলি অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল। একটি বাড়ির ছাদের সুইমিং পুল থেকে জল ছিটকে নীচে পড়তেও দেখা গিয়েছে। ব্যাংককের চাতুচাক জেলায় অবস্থিত ব্যাংককের অডিট বিভাগের জেনারেলের নির্মাণাধীন কার্যালয় ভবনটি ভেঙে পড়ার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ভূমিকম্প প্রকৌশলের সিনিয়র লেকচারারের মতে, ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত ব্যাংককে ভূমিকম্পপ্রতিরোধী ভবন নির্মাণের জন্য কোনো নিরাপত্তা-মানদণ্ড ছিল না। এর অর্থ, পুরনো ভবনগুলি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এমিলি সো বলেন, পুরনো ভবনগুলিকে শক্তিশালী করা সম্ভব এবং এমন উদাহরণ ক্যালিফোর্নিয়া, পশ্চিম কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডে অনেক আছে। সেখানে ভবনগুলি ভূমিকম্পসহনশীল করার জন্য পরবর্তী সময়ে সেগুলিকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

এদিকে, ব্যাংককে যে ভবনটি ধসে পড়েছে, সেটি নতুনই। নির্মাণাধীন ছিল এটি। সেই হিসেবে এটি নতুন মানদণ্ড মেনেই তৈরি হওয়ার কথা ছিল। তাহলে তো এটির ভেঙে পড়ার কোনও কারণই ছিল না। বলা হচ্ছে, ভবনটির ধসের অন্যতম কারণ হতে পারে ব্যাংককের নরম মাটি। এই ধরনের মাটি ভূমিকম্পের কম্পনকে তিন থেকে চার গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া, কংক্রিট ও রডের মান এবং ভবনের কাঠামোগত কিছু অনিয়মও এই ভেঙে পড়ার কারণ হতে পারে।

ভিডিয়োটি বিশ্লেষণ করে ভবনটির নির্মাণগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। যেমন,দেখা গিয়েছে, সরু সমান্তরাল স্ল্যাব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে বাড়িটিতে। এই নির্মাণ-পদ্ধতিতে ফ্লোরগুলি সরাসরি স্তম্ভের উপর রাখা হয়, কোনো বিম, যাকে গার্ডার বলা হয়, ব্যবহার করা হয়নি। ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় এই পদ্ধতি কিন্তু এখন আর সুপারিশ করা হয় না। কারণ এটি যথেষ্ট মজবুত ও স্থিতিশীল নয়।

কিন্তু বাড়িটি ভেঙে পড়ার পর থেকেই তদন্তে অন্য ব্যাপার বেরিয়ে এসেছে। ওই ভবনের কর্তৃপক্ষ নির্মাণকারী সংস্থাদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে এই মর্মে যে, তারা ওই ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত কোনও তথ্যাদিই আপাতত দুর্ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করে সরাতে পারবেন না। কেন, তারা কি এমন কিছু করছিল? হ্যাঁ, সেটাই খবর। চারটি চিনা কোম্পানি এই ভবনের নির্মাণকাজে জড়িত ছিল। এইরকম অন্তত ৩০টি ডকুমেন্ট নাকি পাওয়াও গিয়েছে! তাহলে, এই বাড়ি ভেঙে পড়ার পিছনে রহস্য খুঁজলে তা কি চিনের কলঙ্কই বাড়াবে?

এদিকে তো লাফিয়ে-লাফিয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ২৮ মার্চের ভূমিকম্পের পরে মায়ানমার সেনার তরফে শনিবারে বলা হয়েছিল, তখনও পর্যন্ত ৬৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে রবিবারই লাফিয়ে বেড়েছিল মৃতের সংখ্যা। সংখ্যাটা দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। তখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছিলেন ১৬৪৪ জন! আহত হয়েছিলেন প্রায় সাড়ে তিনহাজার মানুষ– ৩৪০৮ জন! তবে, সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, সেদেশে ভূমিকম্পে মারা গিয়েছেন ২০০০-এরও বেশি মানুষ– ২০৫৬! আহত প্রায় ৩৯০০ জন! এখনও ২৭০ জন নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে-পড়া অন্তত ৮০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে রাস্তা, ভেঙে পড়েছে বাড়িঘর। বাদ যায়নি সেতু ও প্য়াগোডা। মায়ানমারের রাজধানীর ধংসস্তূপ দেখলে বোঝা যায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কী হতে পারে!

(Feed Source: zeenews.com)