যদি একেনবাবুর অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, এই চরিত্রে আর আমায় দেখা যাবে না: অনির্বাণ

যদি একেনবাবুর অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, এই চরিত্রে আর আমায় দেখা যাবে না: অনির্বাণ

কলকাতা: এই চরিত্র তাঁকে বিশেষভাবে এনে দিয়েছে দর্শকদের ভালবাসা, এনে দিয়েছে পরিচিতি ও। আর সেই কারণে, অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করলেও, বারে বারে এই চরিত্রের কাছেই ফিরে এসেছেন তিনি। একেনবাবু আর অনির্বাণ চক্রবর্তী (Anirban Chakraborti) কোথাও যেন মিলেমিশে গিয়েছেন দর্শকদের কাছে। কিন্তু অনির্বাণের নিজের কাছে এই চরিত্র কতটা বিশেষ? কখনও কি এই চরিত্রের ভারে, ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন অনির্বাণ? নাকি প্রত্যেকবার তাঁকে অভিনয়ের নতুন নতুন রসদ যোগান একেনবাবু? একেনের নতুন ছবি ‘বেনারসে বিভীষিকা’-র আগে একেনের খুঁটিনাটি নিয়ে এবিপি লাইভ বাংলার (ABP Live Bengali) সঙ্গে কথা বললেন অনির্বাণ।

প্রত্যেকবার একেনবাবুর চরিত্রকে নতুন করে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসা কতটা চ্যালেঞ্জিং অনির্বাণের কাছে? অভিনেতা বলছেন, ‘একেনবাবুর বেশ কিছু অভ্যাস রয়েছে, যেগুলো বদলানো যায় না। দর্শকেরা ইতিমধ্যেই সেগুলো চিনে গিয়েছেন। সেই গন্ডির মধ্যে থেকেই দর্শকদের কাছে নতুন করে চরিত্রটাকে নিয়ে আসতে হয়। তবে যেটার ব্যাপারে আমি সতর্ক থাকি, সেটা হল চরিত্রটা যাতে প্রাণবন্ত থাকে। কখনও যেন মনে না হয়, অভিনেতা এই চরিত্রটা ঘাড়ে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে। আমি যদি অভিনয়টা উপভোগ না করি, সেটা কিন্তু ধরা পড়ে যাবে। বাস্তবেও একেনবাবু আমার কাছে এটা কাছের চরিত্র। তবে নতুন নতুন পরিস্থিতিতে একেনবাবু কী কী করবে, সেগুলো নতুন করে অনুসন্ধান করতে হয় আমায়।’

বেনারস মানেই বাঙালির ফেলুদাকে মনে পড়বেই। অনির্বাণদের সঙ্গেও কি সেটা হয়েছিল? অভিনেতা বলছেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই। আমি এর আগেও যখন বেনারস গিয়েছি, তখনও মনে হয়েছে, কোন সিঁড়ি দিয়ে ফেলুদা উঠেছিল? মগনলালের বজরাটা কোথায় এসে থামত? মছলিবাবা স্নানের পরে কোথায় ঢুকে গেল.. এই সমস্ত প্রশ্ন কেবল আমি নয়, প্রত্যেক বাঙালির মনেই আসে। আর আমাদের ছবির মধ্যেও জয় বাবা ফেলুনাথের বেশ কিছু অনুসঙ্গ রয়েছে। এটা অনুকরণ করা হয়, এটা শ্রদ্ধা আর ভালবাসা নিবেদন করা।’

প্রত্যেকবার নতুন গল্প মানেই নতুন চরিত্র, নতুন অভিনেতা যোগ। এবার নতুন টিমের সঙ্গে কাজ করার কেমন অভিজ্ঞতা হল? অনির্বাণ বলছেন, ‘প্রত্যেকেই ভীষণ ভাল কাজ করেছেন। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ইশা, গৌরব, ঋষভ, বিশ্বনাথ, স্বীকৃতি.. আরও অনেক নতুন চরিত্র এসেছে। এদের মধ্যে বাকিদের সঙ্গে আগে কাজ করলেও অপুদার সঙ্গে (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) প্রথম কাজ করলাম। ওঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলাপ কিন্তু কাজ করার সুযোগ হয়নি। এবার কাজ করে ভীষণ ভাল লাগল।’

একেনের চরিত্রে অভিনয়, এত ভালবাসা.. কখনও কি ক্লান্তিবোধ এসেছে অনির্বাণের? অভিনেতার স্পষ্ট উত্তর, ‘এখনও পর্যন্ত না। যদি ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তাহলে আর একেনবাবুর চরিত্রে অভিনয় করব না। এখনও অবধি চরিত্রটাকে ভীষণ উপভোগ করি। মনে হয় এখনও আবিষ্কারের জায়গা রয়েছে। এমন মনে হয়নি যে কিছুই আর জানার নেই এই চরিত্রটার। আমি এখনও একেনবাবুর চরিত্রে অভিনয় করাটা উপভোগ করি। সেটা বন্ধ হয়ে গেলে খুব মুশকিল হবে। দর্শকদের এত ভালবাসা পেয়েছি, সেটা নিজের হাতে নষ্ট করে দিতে চাই না। সেটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যদি কখনও তেমন কিছু অনুভব করি, তাহলে আর এই চরিত্রে অভিনয় করব না।’

(Feed Source: abplive.com)