বালুচিস্তানে নাশকতার শিকার শিশুরাও, ভারতের দিকে আঙুল পাকিস্তানের, কড়া ভাষায় জবাব দিল দিল্লি

বালুচিস্তানে নাশকতার শিকার শিশুরাও, ভারতের দিকে আঙুল পাকিস্তানের, কড়া ভাষায় জবাব দিল দিল্লি

নয়াদিল্লি: সংঘাতপর্ব কাটিয়ে সবে যুদ্ধবিরতি কায়েম হয়েছে। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানকে ফের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল বালুচিস্তানে স্কুলবাসে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা। হামলার জন্য সরাসরি ভারতকে দোষারোপ করেছে পাকিস্তান। পাল্টা বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত। ইসলামাবাদের অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন বলে জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি। (Balochistan School Bus Attack)

বালুচিস্তানে স্কুল বাসে হামলার ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ খারিজ করে বলা হয়েছে, ‘খুঝদারের ঘটনায় ভারত যুক্ত বলে যে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা খারিজ করা হচ্ছে। এই ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় ভারত সমব্যথী। পাকিস্তান নিজে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে, তা থেকে নজর ঘোরাতে, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন ভারতকে দোষারোপ করছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য ভারতকে দোষ দেওয়া ওদের চরিত্রে পরিণত হয়েছে। দুনিয়াকে বোকা বানানোর এই চেষ্টা ব্যর্থ হবেই’। (India-Pakistan Tensions)

বুধবার বালুচিস্তানের খুঝদারে বাচ্চাদের স্কুল বাসে ধাক্কা মারে একটি গাড়ি। ধাক্কা মারার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বাসটি। সেই বিস্ফোরণে তিন শিশু ও দুই প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্য়া ৫৩, যার মধ্যে ৩৯ শিশু রয়েছে। আট জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলেও জানা গিয়েছে। বোমা নিয়ে স্কুলবাসটিতে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

আর সেই নিয়ে সরাসরি ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দফতর বিবৃতি দিয়ে বলে. “এই বর্বরোচিত হামলায় যারা যুক্ত, তাদের খুঁজে বের করবেই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি। যারা এই অপরাধের ষড়যন্ত্রী, যাদের মদতে এই হামলা ঘটেছে, যাদের জন্য এই হামলা হয়েছে, তাদের দায় নিতে হবে, তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে। ভারতের চতুরতার সত্যতা তুলে ধরা হবে সকলের সামনে। তারাই সন্ত্রাসবাদের প্রকৃত অপরাধী, কিন্তু ভুক্তভোগী হওয়ার ভান করে। আজ তাদের আসল চেহারা প্রকাশ হয়ে গিয়েছে।”

বালুচিস্তানে স্কুল বাসে হামলার ঘটনাকে ‘Fitna al Hindustan’ বলে উল্লেখ করে শেহবাজের দফতর, যার অর্থ হল, ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধে যে মদত দিচ্ছে, এই হামলা তার অংশ। ইচ্ছাকৃত ভাবে নিরীহ মানুষকে নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বালচিস্তানের মুখ্য়মন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এবং কোয়েট্টার কর্পস কমান্ডার যে বিবৃতি দেন, তাতেও ভারতকে দোষারোপ করা হয়। বলা হয়, “সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে ভারত শুধু ব্যবহারই করছে না, বালোচ এবং পাশতুন জাতির মূল্যবোধ, সম্মানেও আঘাত হানছে।” গোটা বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়। আর তাতেই ভারতের তরফে বিবৃতি দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

(Feed Source: abplive.com)