
কলকাতা: প্রাক্তন অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি (Mamta Kulkarni)-র সন্ন্যাস গ্রহণ আর তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর থেকেই ফের চর্চায় নব্বইয়ের দশকের এই নায়িকা। কুম্ভমেলায় মহামন্ডলেশ্বর উপাধি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি ২৫ বছর ধরে সাধনা করছেন আর সেই কারণেই তিনি মহামন্ডলেশ্বর উপাধি গ্রহণ করেছেন তিনি। তবে তাঁর এই উপাধি গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে উপাধি ত্যাগ করলেও, এখনও সাধ্বীর বেশেই রয়েছেন মমতা কুলকার্নি। আর এবার পাকিস্তান ও জঙ্গি হামলার বিষয়ে মুখ খুললেন মমতা।
পাকিস্তান প্রসঙ্গে মমতা কুলকার্নি
একসময় তিনি বলিউডে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন। তবে এখন তিনি অভিনয়কে বিদায় জানিয়েছেন। তবে সদ্য পাকিস্তানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মমতা কুলকার্নি বলেছেন, ‘মুসলমানদের আমি ভালবাসি, কিন্তু আতঙ্কবাদীদের নয়। আতঙ্কবাদীদের আর কোনও পরিচয় হয় না। তারা আতঙ্কবাদীই। আমি যখন দুবাইতে থাকতাম, মুসলিমরা আমায় খুব ভালবাসা দিয়েছেন। তাঁদের ভালবাসায় আমি আপ্লুত। একটা সময়ে আমি যখন বলিউডের সুপারস্টার ছিলাম, তখন আমার কাছে প্রচুর চিঠি আসত। দিনে ৫০টা চিঠি তো পাকিস্তান থেকেই আসত। ওই দেশের মানুষেরা আমায় ভালবাসেন। তবে আতঙ্কবাদীরা কারোর হয় না। কারোর স্বামী হয় না, কারোর সন্তান হয় না, কারোর বাবা হয় না। ওদের আর কোনও পরিচয় নেই। ওরা কেবল আতঙ্কবাদীই।’
Delhi: Sadhvi Mamta Kulkarni says, “I have a lot of love for Muslims. And they have given me a lot of love in return. My spiritual practice spanned 25 years, and I received immense peace and love, especially during my time in Dubai, where I meditated at one place. When I was a… pic.twitter.com/AxOxWRsATN
— IANS (@ians_india) May 30, 2025
এর আগে, মহামণ্ডলেশ্বর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা কুলকার্নি বলেছিলেন, ‘আমি মহামণ্ডলেশ্বর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। আমায় নিয়ে কিন্নর আখাড়া আর অন্য আরও একটি আখাড়ার মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমি ২৫ বছর ধরে একজন সাধ্বী ছিলাম। এখনও তাই থাকব। আমি মহামন্ডলেশ্বের সম্মান পেয়েছিলাম। এই সম্মান এমন একটা সম্মান যে ধরুন কেউ ২৫ বছর ধরে সাঁতার কাটছে। তাঁকে ২৫ বছর পরে বলা হল, তুমি এবার যে সমস্ত ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সাঁতার কাটতে আসবে তাঁদের শিক্ষা দাও। কিন্তু আমায় মহামন্ডলেশ্বর উপাধি দেওয়া কিছু কিছু জনের ভীষণ আপত্তিজনক বলে মনে হয়েছে। আমি ২৫ বছর বলিউড থেকে দূরে ছিলাম। গায়েব হয়ে গিয়েছিলাম সমস্ত লাইমলাইট থেকে। নাহলে ভাবুন তো, মেকআপ থেকে, বলিউডের লাইমলাইট থেকে কেই বা দূরে থাকতে চায়? আমার অনেক বিষয় নিয়েই মানুষের অনেক রকমের প্রতিক্রিয়া হয়েছে। কিন্তু ঈশ্বর তো সমস্ত অলঙ্কার পরেই, নারায়ণ তো সব অলঙ্কার, সাজসজ্জা পরেই ঈশ্বর হয়েছেন। আমি শুনেছি শংকর আচার্য বলেছেন, দুই কিন্নর আখাড়ার মধ্যে বেচারি মমতা ফেঁসে গিয়েছে। অনেকের অনেক সমস্যা হয়েছে। আর এই সমস্ত দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি.. আমার যে গুরু, যার সান্নিধ্যে আমি ২৫ বছর তপস্যা করেছি, কোনও কৈলাস, কোনও মানস সরোবর, কোনও হিমালয়ে যাওয়ার দরকার পড়েনি আমার। আমার গুরুর তুল্য় আমি কাউকে দেখি না।’
(Feed Source: abplive.com)
