
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তেহরানে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সদর দফতরে বিমান হামলার দায় স্বীকার করল ইসরায়েল। সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী রাজধানী তেহরানে একাধিক ‘গোয়েন্দাঘাঁটিতে’ ধারাবাহিক অভিযান চালায়, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মূল ভবনও রয়েছে।
ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। ইসফাহানের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর আকবর সালেহি হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে, ওই হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
হামলায় ক্ষয়ক্ষতি:
হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে,তা দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ডেপুটি গভর্নর সালেহি। এর আগে, শনিবার রাতে ইরানি গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছিল যে, তেহরানের নোবোনিয়াদ এলাকাতেও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সদর দপ্তরে আবার ইসরায়েলের আঘাত! গুঁড়িয়ে দিল পরমাণু সংরক্ষালয়ও। এদিকে ইসরাইলের হামলায় ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমে ৩১ জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৩০ জন সামরিক কর্মী এবং একজন ইরানি রেড ক্রিসেন্টের সদস্য বলে জানিয়েছেন ওই প্রদেশের গভর্নর বাহরাম সারমাস্ত।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি প্রশাসনিক ভবন:
এর আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (IRGC)-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে বিবিসি ও আল–জাজিরা জানায়, হামলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি প্রশাসনিক ভবন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই এলাকায় মন্ত্রকের অধীন প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ও গবেষণা দপ্তরেও পৃথক হামলার খবর মিলেছে।
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইসরায়েলও। শনিবার রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের গ্যালিলি ও তেল আবিবে মোট ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে তেল আবিবে ৬০ বছর বয়সী এক নারী এবং উত্তরাঞ্চলে আরও পাঁচজন রয়েছেন।
জানা যাচ্ছে হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৫ জন আহত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তেহরানের একটি ভবনে ইসরাইলি হামলায় ২০ জন শিশুসহ ৬০ জন নিহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত হতাহতের মোট সংখ্যা প্রকাশ করেনি ইরান।
সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই টানা হামলা ও পাল্টা হামলা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা হুগো বাচেগা জানিয়েছেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যেই তেহরানে হামলাকে বড় পরিসরের সংঘাতের সূচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, ইরানে ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন’ অভিযান চলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও সংঘাতে জড়াতে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এ অবস্থায়, জাতিসংঘ ও একাধিক আন্তর্জাতিক শক্তি দুই দেশকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এমন বার্তা দেওয়া হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
