রাজধানী এক্সপ্রেসে ডিনার সারছিলেন যাত্রীরা…! আচমকা ঝনঝন শব্দ, ‘ইমার্জেন্সি’ ব্রেক কষলেন ‘লোকো’ পাইলট…! যা দেখা গেল, ঘাম ছুটল প্যাসেঞ্জারদের

রাজধানী এক্সপ্রেসে ডিনার সারছিলেন যাত্রীরা…! আচমকা ঝনঝন শব্দ, ‘ইমার্জেন্সি’ ব্রেক কষলেন ‘লোকো’ পাইলট…! যা দেখা গেল, ঘাম ছুটল প্যাসেঞ্জারদের

Rajdhani Express: এই ট্রেনে যেমন থাকে নানা রকমের খাবারের সুবন্দোবস্ত তেমনই আবার ভারতীয় রেলের অন্যতম গর্ব এই ট্রেনের আসন ও কোচেও থাকে যাত্রীদের জন্য সুবন্দোবস্ত। কিন্তু কেমন হবে যদি এই ট্রেনেও এমন কিছু ঘটে যে আপনার রাতের খাবার খাওয়া মাথায় ওঠে?

রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেন মানেই এই দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। বন্দে ভারত, শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতোই রাজধানী এক্সপ্রেস ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেনগুলির মধ্যে একটি। এই ট্রেনে সফরের মজাই আলাদা। এই ট্রেনের টিকিট পেলে যাত্রা যে আরামদায়ক হবে তা কার্যত নিশ্চিত।

ভারতীয় রেলের অত্যন্ত দ্রুতগামী এই ট্রেনে সফরের জন্য রেলযাত্রীরাও মুখিয়ে থাকেন। কিন্তু এই দ্রুতগামী এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট পাওয়া তো মুখের কথা নয়। তাই ইচ্ছে থাকলেও সহজে ভাগ্যের শিঁকে ছেড়ে না অনেকেরই।

এই ট্রেনে যেমন থাকে নানা রকমের খাবারের সুবন্দোবস্ত তেমনই আবার ভারতীয় রেলের অন্যতম গর্ব এই ট্রেনের আসন ও কোচেও থাকে যাত্রীদের জন্য সুবন্দোবস্ত। কিন্তু কেমন হবে যদি এই ট্রেনেও এমন কিছু ঘটে যে আপনার রাতের খাবার খাওয়া মাথায় ওঠে?

মহারাষ্ট্রের নাগপুরে সম্প্রতি রাজধানী এক্সপ্রেসে এমনই এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল যার পর আতঙ্কে রীতিমতো কাঁপছিলেন গোটা ট্রেনের যাত্রীরা। গত ২০ জুন রাতে চলন্ত রাজধানী এক্সপ্রেসে রাতের অন্ধকারে যা ঘটেছিল তা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?

২২৬৯১ রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি তার নির্ধারিত সময় অনুসারে নাগপুর থেকে ছেড়েছিল দিল্লির উদ্দেশ্যে। রাতের অন্ধকার ভেদ করে দুরন্ত বেগে ছুটছিল ট্রেন। যাত্রীরা সবাই শান্তিতে যাত্রা করছিলেন ট্রেনটিতে। অনেক যাত্রীরা আবার সারছিলেন রাতের খাবার।

ঠিক সেই সময় আচমকা যা ঘটল কেঁপে উঠলেন সবাই। ট্রেনটি হাবিবগঞ্জ ছাড়িয়ে যাওয়ার সময়ই হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ, মুহূর্তে ঝনঝনিয়ে উঠল ট্রেনের জানালা। অন্ধকারের মধ্যেই এমন কী ঘটল? উৎকণ্ঠায় হইচই পরে গেল ট্রেন জুড়ে! কী হচ্ছে এসব? নিমেষে চরম উত্তেজনা ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে

আকস্মিক আওয়াজের সেই ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এক যাত্রীর পাতে এসে পড়ল ভয়ঙ্কর কিছু একটা, যা দেখে হকচকিয়ে গেলেন আশেপাশের সবাই। কয়েক মুহূর্তের প্রাথমিক উত্তেজনা কাটতেই বোঝা গেল কেউ বা কারা ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছে।

আর সেই পাথরের আঘাতেই ঝনঝন করে ভেঙে পরে একটি কোচের কাচ। গুড়োগুড়ো হয়ে যায় জানালার কাচ। একটি পাথর এমনভাবে ছিটকে আসে যে সেটি সরাসরি এসে যাত্রীদের খাবারের প্লেটে পড়ে যায়। অতর্কিত এই হামলায় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

রাতারাতি ইমার্জেন্সি ব্রেক দিয়ে ট্রেন থামাতে বাধ্য হন লোকো পাইলট। ছুটে আসে আরপিএফ। জানা গিয়েছে দিল্লির উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এই ট্রেনটি হাবিবগঞ্জের কাছে আসতেই এলোপাথাড়ি পাথর ছুটে আসতে থাকে ট্রেন লক্ষ্য করে।

আকস্মিক হামলায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত রেল প্রশাসনকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করেন। ঘটনার গুরুত্ব দেখে কিছুক্ষণেই ছুটে আসেন আরপিএফ কর্মীরা।

আরপিএফ জওয়ানরা এসেই ট্রেনের কোচ পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোচের জানালা মেরামত করে ট্রেনটিকে ফের যাত্রা করার সবুজ সংকেত দেন। এই পুরো বিশৃঙ্খলার মধ্যে, নাগপুর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি শেষমেশ দিল্লি পৌঁছয় দুই ঘণ্টা দেরিতে।

এই হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। রাজধানীর মতো ট্রেনেও যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। তবে এই ঘটনায় কিছু যাত্রীর দ্রুত সতর্ক হয়ে রেল অ্যাপের মাধ্যমে রেল প্রশাসনের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করা ও রেলের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশংসাও করেছেন অনেকে।

রাজধানীর মতো ট্রেন লক্ষ্য করে এমন আক্রমণ বা হামলার ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়ায় রেলযাত্রীদের মধ্যে। ঘটনার গুরুত্ব দেখে রেল প্রশাসন আরপিএফ জওয়ানদের খবর দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরপিএফ জওয়ানরা ট্রেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন।

রেল সূত্রে খবর, আরপিএফ জওয়ানরা ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলি পরিদর্শন করেন। যেসব কোচের কাচ ভেঙে গিয়েছিল সেগুলি মেরামত করা হয়। সবকিছু পরিদর্শন করে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই ট্রেনটিকে রাজধানীর দিকে যাওয়ার সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়।

তবে, এই ঘটনায় বার বারই উঠেছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। রেলের তরফে বলা হয়েছে, কিছু দুর্বৃত্ত ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। আর তাদের এই জঘন্য কর্মকাণ্ড নিরীহ যাত্রীদের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।

এই প্রসঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে ক্রমাগত দাবি তোলা হচ্ছে এই ধরনের অসামাজিক কাজে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। ট্রেনে এই ধরনের পাথর ছোড়া দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।

বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় এই ধরণের ঘটনায় যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ভ্রমণ করতে হয়। তাই যাত্রীদের দাবি, এই ধরনের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।

(Feed Source: news18.com)