
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘দেশের ভারমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে’। সত্যজিত্ রায়ের পৈতৃক ভিটা বিতর্কে এবার বিবৃতি দিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইউনূস সরকারের দাবি, ‘ময়মনসিংহ শহরে ওই বাড়িটি সত্য়জিত্ রায় বা তাঁর পূর্ব পুরুষের বাড়ি নয়’।
ইউনূসের বাংলাদেশে এবার সত্যাজিত্ রায়ের পূর্বপুরুষের ভিটেতেও! পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ, ‘ময়মনসিংহের একটি বিশেষ বিষয়কে কেন্দ্র করে দেশে বিদেশে সংবাদ সম্প্রচারিত হচ্ছে। সংবাদটি আমাদের সকলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যে ভবনটিকে সত্যজিত্ রায়ের বাড়ি বা তাঁর পূর্ব পুরুষের বাড়ি বলে দাবি করা হচ্ছে, আমার ওই জমির রেকর্ড খতিয়ে দেখেছি। সেখানে সত্যজিত্ রায় বা তাঁর পূর্ব পুরুষের নাম নেই। রেকর্ড জমিটি বাংলাদেশ সরকারের নাম লিপিবদ্ধ এবং ২০০৮ সালে এই জমি বাংলাদেশের শিশু মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ শিশু অ্যাকাডেমির নামে করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১০ সালে জমিটি শিশু অ্যাকাডেমিকে দেওয়া হয়’।
বিবৃতিতে দাবি, ‘এলাকার আশি উর্ধ্ব ব্যক্তিগণ এক বাক্য়ে স্বীকার করেছেন, এটি কখনই সত্যজিত্ রায়ের পূর্ব পুরুষের বাড়ি ছিল না। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে’।
ঘটনাটি ঠিক কী? সত্যজিতের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতাতেই। কিন্তু কিংবদন্তী এই পরিচালকের পূর্বপুরুষদের নিবাস ছিল বাংলাদেশে ময়মনসিংহ শহরে। হরিকিশোর রায় রোডের সেই বাড়িটি অবশ্য বহু বছর ধরে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাদেমির ময়মনসিংহ জেলার অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হত। শিশু অ্যাকাদেমিই বাড়িটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রায় দেড়শো বছরের পুরানো বাড়িটির মালিক ছিলেন প্রয়াত জমিদার হরিকিশোর রায়। তিনি ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পালক পিতা। দীর্ঘদিন ওই বাড়িতে থেকেছেন উপেন্দ্রকিশোর। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হতেই ইউনূস সরকারকে বার্তা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করা হয় যে, যেন এই ঐতিহাসিক বাড়ি ভাঙা না হয়। প্রয়োজনে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে সাহায্য করবে ভারত।
(Feed Source: zeenews.com)
