
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ঘোষিত ১ লক্ষ ডলারের এইচ ওয়ান বি (H-1B) ভিসা ফি-তে যখন ভারত-সহ একাধিক দেশের তরুণ পেশাদারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তখনই নতুন রাস্তা খুলে দিল চিন। বিশ্বজোড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির তরুণ প্রতিভাদের টানতে চালু হচ্ছে নতুন ‘কে ভিসা’ (K Visa)।
চিনের প্রিমিয়ার লি কিয়াং (Li Qiang) সোমবারই বিদেশিদের প্রবেশ-সংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম।
চিন সরকার (China Government) ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে নতুন ‘K ভিসা’ ( K Visa) চালু করছে, যা বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রতিভা আকর্ষণের উদ্দেশ্যে তৈরি। এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন H-1B ভিসার জন্য $100,000 এককালীন ফি আরোপ করেছেন।
K ভিসার মূল উদ্দেশ্য:
১. বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) ক্ষেত্রে তরুণ বিদেশি পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করা।
২. H-1B ভিসার বিকল্প হিসেবে চীনকে প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা।
৩. বৈশ্বিক সহযোগিতা ও গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো।
K ভিসার মূল বৈশিষ্ট্য:
১. এটি H-1B ভিসার মতোই, তবে চীনে কাজ, গবেষণা বা উদ্ভাবনের জন্য।
২. আবেদনকারীদের STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত) বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে।
৩. স্থানীয় নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই আবেদন করা যাবে।
৪. দীর্ঘ মেয়াদি বৈধতা ও একাধিকবার চীন ভ্রমণের অনুমতি থাকবে।
প্রধান সুবিধাসমূহ:
১. স্থানীয় নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ বা আমন্ত্রণপত্রের প্রয়োজন নেই।
২. একাধিকবার চীন ভ্রমণের অনুমতি থাকবে।
৩. দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা বৈধতা ও নমনীয়তা থাকবে।
৪. একাডেমিক, গবেষণা, সাংস্কৃতিক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
প্রেক্ষাপট ও তাত্পর্য:
১. ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে চিনে আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা ৩৮.০৫ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০.২% বেশি। চিন ইতিমধ্যে ৭৫টি দেশের সঙ্গে ভিসা-মুক্ত বা পারস্পরিক ছাড়ের চুক্তি করেছে।
২. যুক্তরাষ্ট্রে H-1B ভিসার খরচ ও জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পেশাজীবী বিকল্প খুঁজছেন।
৩. চিন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের সব প্রতিভা আকর্ষণ করতে চাইছে।
৪. এটি চীনের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কৌশলের অংশ।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: এই K ভিসা শুধু চাকরির সুযোগ নয়, বরং গবেষণা, স্টার্টআপ, একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দরজা খুলে দিচ্ছে। এটি চিনকে একটি নতুন গ্লোবাল ট্যালেন্ট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা:
- ২১ সেপ্টেম্বরের পর জমা হওয়া সব নতুন H-1B আবেদনেই ১ লক্ষ ডলার ফি।
- ২০২৬ সালের লটারির আবেদনেও একই নিয়ম।
- চালু হয়েছে আলাদা “ট্রাম্প গোল্ড কার্ড”, ১০ লক্ষ ডলার দিলে আমেরিকায় বসবাসের সুযোগ।
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, H-1B ভিসার সবচেয়ে বড় অংশীদার ভারত (৭১%)। চিন অনেক পিছনে (১১.৭%)। ফলে ট্রাম্পের নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেতে চলেছেন ভারতীয় তরুণেরা। আর ঠিক তখনই মার্কিন মুলুককে প্যাচে ফেলতে প্রতিযোগিতায় নামল চিন।
সারা বিশ্ব মনে করছে, এরপর সমস্ত মেধাবী, ভালো, উন্নত, কাজ জানা লোকেদের ভিড় হবে চিনে। চিন হয়ে উঠবে আরও উন্নত। এমনিতেই চিনে জনসংখ্যা কম, তাই অন্য দেশ থেকে লোক এসে চিনে কাজে যোগদান করে চিনকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে।
(Feed Source: zeenews.com)
