)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কলকাতার তরুণী চিকিৎসক রিয়া একসঙ্গে পেলেন জীবনের দুটো বড় জয় মেরুদণ্ডের জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্য এবং স্বপ্নের NEET PG পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল। দীর্ঘদিনের অসহনীয় ব্যথা আর দুশ্চিন্তা কাটিয়ে এ যেন তাঁর নতুন জীবনের সূচনা। এই জোড়া খুশির খবর এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে।
দীর্ঘ যন্ত্রণার, অবশেষে স্বস্তি –
প্রায় দশ বছর ধরে ধীরে ধীরে শরীরে বাড়তে থাকা সমস্যাটা গত তিন মাসে অসহ্য হয়ে উঠেছিল। পিঠের নিচের দিকে একটা কুঁজের মতো অংশ তৈরি হওয়ায় বসতে না পারা, রাতের পর রাত নির্ঘুম যন্ত্রণা যা শুধু শারীরিক কষ্ট নয়, তাঁর পেশাগত জীবনেও প্রভাব ফেলছিল। সব মিলিয়ে তার জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। এক্স-রে রিপোর্টে ধরা পড়ে যে রিয়া ‘অ্যাডোলেসেন্ট ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিসে ভুগছেন। এই রোগে মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যায়, আর তা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ রূপ নেয়।
মনের জোর আর চিকিৎসকদের চেষ্টা –
অপারেশনের আগেই রিয়া জানতে পারেন সে NEET PG পরীক্ষায় পাশ করেছেন। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে এ যেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ। খুশির এই খবর তাঁকে ভরিয়ে দেয় সাহসে। ব্যথার ছায়া সরিয়ে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয় এই সাফল্য।
চিকিৎসকদের ভূমিকা –
রিয়ার অপারেশন করেন অভিজ্ঞ স্পাইন সার্জন ডা. শুভদীপ মণ্ডল, তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যানাস্থেসিস্ট ডা. প্রখর জ্ঞানেশ এবং সহকারী সার্জন ডা. সন্তোষী মালাকার। বেশ কিছু ঘন্টা পর, চিকিৎসকদের চেষ্টায় অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পরের দিন থেকেই রিয়া সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ব্যথামুক্ত হয়ে হাঁটাচলা শুরু করছেন।
ডা. শুভদীপ মণ্ডল বলেন, “রিয়ার অপারেশনের দিনই NEET PG পরীক্ষার ফল বের হয়। এই খবরটি শোনার পর আমরাও খুব খুশি হয়েছিলাম। এই খুশির খবরটি রিয়াকে অপারেশনের জন্য সাহস দিয়েছিল। আমরা সফলভাবে অপারেশনটি সম্পন্ন করেছি, আর পরের দিন থেকেই রিয়া ব্যথা ছাড়াই চলাফেরা করতে পারছেন।”
মণিপাল হাসপাতালের অধিকর্তা শ্রী দিলীপ রায় রিয়ার সাফল্য এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেন, “আমাদের হাসপাতাল সবসময় সেরা পরিষেবা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। রিয়ার এই জোড়া সাফল্যে আমরা গর্বিত। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি সে তাঁর PG কোর্স শুরু করবে।”

কলকাতার তরুণী চিকিৎসক রিয়ার গল্প শুধু চিকিৎসার সাফল্য নয়, বরং এক মনের জোরের কাহিনি। একদিকে দীর্ঘ শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে স্বপ্নপূরণের পথ দুটোকেই একসঙ্গে জয় করেছেন তিনি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে আরও অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে, যারা একদিকে জীবনের লড়াই চালাচ্ছে, অন্যদিকে স্বপ্নপূরণের পথ খুঁজছে।
(Feed Source: zeenews.com)
