PoK-তে পাক সরকারের বিরুদ্ধে চরম বিক্ষোভ, অশান্তির ঘটনায় হত ২, আহত ২২; চলল গুলি

PoK-তে পাক সরকারের বিরুদ্ধে চরম বিক্ষোভ, অশান্তির ঘটনায় হত ২, আহত ২২; চলল গুলি

নয়াদিল্লি : পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যাকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনায় দুই জনের প্রাণহানি এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল অনলাইনে হিংসার ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেছে। যাতে রাস্তায় বিশৃঙ্খলার ছবি ধরা পড়েছে । পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার আবহেই কিছু বিক্ষোভকারীকে আবার বাতাসে গুলি চালাতেও দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার গাড়ির উপর উঠে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল পতাকা, মুখে স্লোগান। অপর একটিতে দেখা গেছে, এক বিক্ষোভকারী এক মুঠো বুলেট দেখাচ্ছেন যেগুলি পুলিশ ফায়ার করেছে।

‘মৌলিক অধিকার অস্বীকারের’ বিরুদ্ধে আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে গত ২৪ ঘণ্টায় পাক অধিকৃত কাশ্মীর ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে, যার মধ্যে রয়েছে বাজার, দোকানপাট এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া, পাশাপাশি পরিবহন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ক্লাসে যোগ দেয়নি।

বিক্ষোভকারীদের ৩৮টি দাবি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পাক অধিকৃত কাশ্মীর বিধানসভার ১২টি আসন বাতিল করা। স্থানীয়দের যুক্তি, এটি প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে। AAC নেতা সওকত নওয়াজ মীর বলেন, “আমাদের অভিযান ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের জনগণকে যে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তার জন্য… হয় অধিকার প্রদান করুন, নয়তো জনগণের ক্রোধের মুখোমুখি হোন।”

ইসলামাবাদ এই বিক্ষোভের জবাবে শক্তি প্রদর্শন করেছে। পাক সংবাদ ওয়েবসাইট ডন জানিয়েছে, ভারী অস্ত্রে সজ্জিত টহলদারী দল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের শহরগুলিতে টহল দিয়েছে এবং প্রতিবেশী পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে হাজার হাজার সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে অতিরিক্ত ১,০০০ সেনা পাঠানো হয়েছে।

পাক সরকার এই অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবাও সীমিত করেছে। গত সপ্তাহের একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর এই সপ্তাহে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘর্ষ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে এয়ারস্ট্রাইক করে পাকিস্তানি বায়ুসেনা। এর জেরে মহিলা ও শিশু-সহ অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। ভোররাত ২টো নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান তিরাহ উপত্যকার মাতরে দারা গ্রামে আটটি LS-6 বোমা ফেলে, যার ফলে এত সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। মৃতরা প্রত্যেকেই সাধারণ নাগরিক ছিলেন।

(Feed Source: abplive.com)