
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ঝড়ে ফুঁসছে প্রকৃতি। এরই মধ্যে মার্কিন বায়ুসেনার এক বিস্মিত করে দেওয়া ফুটেজ (stunning footage captured by US Air Force crew) মিলেছে। এদের হারিকেন হান্টার বলে (Hurricane Hunters)। বিমানটি সোজা ঝড়ের চোখের মধ্যে ঢুকে পড়ে (directly into the eye of the Category 5 storm)। ১৮৫১ সাল থেকে ঝড়ের যে নথি রাখা হচ্ছে, তার সঙ্গে তুলনা করে দেখা হচ্ছে, কেমন হবে এই ঝড়।
ভায়োলেন্ট স্পেকট্যাকল
ঝড়ে ফুঁসছে প্রকৃতি। কিন্তু প্রকৃতি-পরিবেশের এই ভয়ংকরতাকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে হারিকেন হান্টারের দল ধেয়ে গেল ঝড়ের কেন্দ্রে! গিয়ে কী দেখলেন তাঁরা? এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হল তাঁদের– একই সঙ্গে ভয়-জাগানোও। ঝড়ের আই-তে এভাবে ঢুকে পড়ার একটি ভিডিয়ো মিলেছে। সেটিকে তাঁরা নিজেরাই বলছেন ‘গুসবাম্প-ইনডিউসিং ফুটেজ’! কীসের ফুটেজ? ঝড়ের স্টেডিয়াম এফেক্টের! খুবই বিরল এই ছবি। বলা হচ্ছে নেচারস মোস্ট ভায়োলেন্ট স্পেকট্যাকল।
মেলিসা
আগে জানানো হয়েছিল, ট্রপিক্যাল স্টর্ম মেলিসা রবিবারের মধ্যে ক্যাটেগরি ৪ হারিকেনে পরিণত হতে পারে। যা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ঘটাবে বিপুল বৃষ্টি ও প্রবল ঝড়। এখন জানা যাচ্ছে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ জ্যামাইকায় ধেয়ে আসা হারিকেন মেলিসা সে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হারিকেন হতে যাচ্ছে!
আগেই জানানো হয়েছিল, ল্যান্ডফল ঘটলে এটাই হয়তো হতে চলেছে সাম্প্রতিক সময়ে জামাইকার সবচেয়ে শক্তিশালী হারিকেন। গত ৩৫ বছরে এমন ঘটেনি। সেটাই এবার আরও স্পষ্ট হল। হারিকেন ধেয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জ্যামাইকা সরকার। এ নির্দেশ কার্যকর করতে নাগরিকদের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে প্রবল বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাস শুরু হলেও অনেকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে চাইছেন না।
২৮০ কিমি গতি
গতকাল, সোমবার হারিকেন মেলিসা সর্বোচ্চ শক্তির ক্যাটাগরি ৫ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঘণ্টায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ১৭৫ মাইল বা ২৮০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টি ও প্রাণঘাতী বন্যা হতে পারে।
হারিকেন গিলবার্ট
হারিকেন মেলিসা ক্যারিবীয় অঞ্চলে ১৯৮৮ সালে আঘাত হানা হারিকেন গিলবার্টের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গিলবার্টের আঘাতে জ্যামাইকায় ৪০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকোয় সব মিলিয়ে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ভয় আতঙ্ক দ্বিধা
সতর্কতা জারির ফলে কিছু মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে প্রবল বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাস শুরু হলেও অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে চাইছেন না। জ্যামাইকার মানুষজন বলছেন, তাঁরা একদিন উঠে হুট করে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাবেন না। তাঁরা বরং বাড়িতে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ঘরের দরজা-জানালা উড়ে গেলেও তাঁরা সেখানেই থাকবেন। এটা আমাদের প্রথম হারিকেন নয়।
(Feed Source: zeenews.com)
