Gen Z আন্দোলনে তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, শেহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় হাজার হাজার তরুণ

Gen Z আন্দোলনে তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, শেহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় হাজার হাজার তরুণ

নয়াদিল্লি: নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে। শেহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে এবার রাস্তায় নামলেন সেখানকার Gen Z নাগরিকরা। একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা, যার মধ্যে শিক্ষায় সংস্কারের দাবিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। পর পর সরকার বিরোধী আন্দোলনের জেরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে শেহবাজ সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হচ্ছে  কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দেশের অন্দরেই। (Gen Z Protests in Pakistan Occupied Kashmir)

কয়েক সপ্তাহ আগেই নাগরিক আন্দোলনে রক্ত ঝরেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। তবে এবার রাস্তায় নামলেন সেখানকার তরুণ প্রজন্ম, Gen Z-রা।  স্কুলের ফি বৃদ্ধি থেকে মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষায় অব্যবস্থা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমেই প্রথমে শেহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন সকলে। কিন্তু যত সময় যায়, ক্রমশ উত্তাপ বাড়তে থাকে। (PoK News)

এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ কাশ্মীরের পড়ুয়ারা। এতদিন সেই আন্দোলন শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু কিছু অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজ আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর গুলি চালাতেই তেতে ওঠে পরিস্থিতি। মুজফ্ফরাবাদ থেকে ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর একটি ভিডিও-ও সামনে এসেছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ওই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। সোশ্য়াল মিডিয়াতেও ওই ভিডিও ছড়িয়েছে। তবে ওই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি এবিপি আনন্দ।

এর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। রাস্তায় টায়ার দ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন তাঁরা। পাক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে চারিদিক। অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসেও সেখানকার পড়ুয়ারা রাস্তায় নেমেছিলেন। সেমেস্টার ফি হিসেবে প্রতি তিন-চার মাস অন্তরই কয়েক লক্ষ চাকা চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এবার ইন্টারমিডিয়েট স্তরের পড়ুয়ারাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।  নতুন শিক্ষাবর্ষে ডিজিটাল অ্যাসেসমেন্ট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তাঁরা। গত ৩০ অক্টোবর সেখানে ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল বেরোয়, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ছয় মাস দেরিতে। ফল বেরনোর পর পড়ুয়ারা অভিযোগ করেন, যা পরীক্ষা দিয়েছেন, তার চেয়ে কম নম্বর দেওয়া হয়েছে তাঁদের। পরীক্ষায় না বলেও কিছু পড়ুয়া পাশ করে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই নিয়ে কোনও সাফাইও দেওয়া হয়নি সরকারের তরফে। এমনকি নতুন করে খাতা দেখার আবেদন জানালে, বিষয় প্রতি কেন ১৫০০ টাকা তকে দিতে হবে, প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়ারা। 

শুধু পাক অধিকৃত কাশ্মীরই নয়, লাহৌরেও এমন আন্দোলন দেখা যায়। গত মাসে সেখানেও পড়ুয়ারা প্রতিবাদী স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরে ধর্নায় বসেন। লাহৌর প্রেস ক্লাবের সামনে ধর্নায় বসেন তাঁরা। পাশাপাশি, দুর্বল পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবায় খামতি, পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন পড়ুয়ারা। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি পড়ুয়াদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ আগেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন মাথাচাড়া দেয়। কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ বিধানসভা আসন তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হন সকলে। পাশাপাশি, করছাড়, খাদ্যপণ্য, বিদ্যুতের উপর ভর্তুকি-সহ ৩৮ দফা দাবি নিয়ে সেবার রাস্তায় নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। সেই সময় আন্দোলন এতটাই হিংসাত্মক আকার ধারণ করে যে, সেনার সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় স্থানীয়দের। আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালায় পাক সেনা। ১২ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। আবারও সেখানে পরিস্থিতি তেতে উঠছে।

(Feed Source: abplive.com)