ভারতের অধিনায়ক রিচা ঘোষ! ইডেনে দাঁড়িয়ে আব্দার করে বসলেন কিংবদন্তি ক্যাপ্টেন সৌরভ

ভারতের অধিনায়ক রিচা ঘোষ! ইডেনে দাঁড়িয়ে আব্দার করে বসলেন কিংবদন্তি ক্যাপ্টেন সৌরভ

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: শনিবার চাঁদের হাট বসেছিল ইডেনে (Eden Gardens)। হবে নাই বা কেন? উপলক্ষ্য যে সোনার মেয়ে রিচা ঘোষের সংবর্ধনা। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় ক্রিকেটারকে বরণ করে নিতে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), জাতীয় ক্রিকেট দলের কিংবদন্তি অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।

আর সেই মঞ্চ থেকেই সৌরভ জানালেন, রিচাকে নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন। আব্দার করলেন, রিচাকে একদিন ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবে দেখতে চান।

সৌরভ বললেন, ‘রিচা আরও সুযোগ পাবে। সমস্ত সুযোগ কাজে লাগাও। একদিন যেন এখানে দাঁড়িয়ে বলতে পারি, রিচা ভারতের অধিনায়ক। সবে ২২ বছর বয়স। এখনও সময় আছে। সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি।’

সৌরভ জানান, ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের দিনই মুখ্যমন্ত্রীকে এদিনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রেখেছিলেন। সৌরভ বলেন, ‘আমাদের সবার অতি প্রিয় মমতাদি। ওঁর সঙ্গে খুব গভীর সম্পর্ক আমার। যখন বেঙ্গল প্রিমিয়ার লিগ শুরু হয়, তখনই দিদি আমাকে বলেছিলেন, মেয়েদের জন্যও যেন কিছু ভাবি। মেয়েদের ক্রিকেট নিয়েও উনি আগ্রহী। যেদিন রিচারা, ভারত বিশ্বকাপ জেতে, আমি দিদিকে এসএমএস করি, আমরা ৮ তারিখ একটা সংবর্ধনার আয়োজন করছি, আপনাকে থাকতে হবে। উনি এক কথায় রাজি হন। জানান, ছেলেদের ক্রিকেটের সঙ্গে মেয়েদের ক্রিকেটকেও সমান সমর্থন করেন। মহিলা ক্রিকেটও এগিয়ে চলুক।’

ভারতের মহিলা ক্রিকেটের বিবর্তন দেখেছেন সৌরভ। রিচা-বরণের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, ‘আমার মহিলা ক্রিকেটের প্রথম অভিজ্ঞতা হয় ঝুলনকে দেখে। আমি তখনও খেলি। কমবয়সী ঝুলন ইডেনে দৌড়তে আসত। আমি তখন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। আমিও ইডেনে দৌড়তে আসতাম। সেই প্রথম ওকে দেখি। তখন মহিলা ক্রিকেট এত বড়, এত আর্থিকভাবে স্বচ্ছল, এত জনপ্রিয় ছিল না। আজ মহিলা ক্রিকেট যেখানে পৌঁছেছে, এর নেপথ্যে ঝুলন, মিতালি, গার্গীদি, মিঠুদি, শ্যামা আরও যাঁরা ভারতের হয়ে খেলেছেন বিভিন্ন সময়ে, সকলের অবদান রয়েছে।’ যোগ করেন, ‘কোনও কিছুরই শুরুটা দারুণ হয় না। আজ রিচা, জেমাইমা, শেফালি, স্মৃতি, হরমনপ্রীত যা করেছে, তা পূর্বসূরিদের জন্যই। আজ ভারতীয় ক্রিকেট এত এগিয়েছে সকলের লড়াইয়ে। আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখনকার মেয়েরা ঝুলন-মিতালিদের সমান সম্মান দিয়েছে।’

সৌরভ আরও বলেন, ‘রিচার বয়স বেশি নয়। ওর ২২ বছর বয়স। সানার চেয়েও ছোট। রিচাকে সিএবি ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অভিনন্দন। বিশ্বকাপ জেতা ভীষণ স্পেশ্যাল একটা মুহূর্ত। আমি তিনটি আইসিসি ট্রফিতে ক্যাপ্টেন ছিলাম। তিনটিতেই রানার্স আপ হয়েছি। সেই জন্য বিশ্বকাপ জেতার কী আনন্দ, কী অনুভূতি, সেটা রিচাই ভাল বলতে পারবে।’

রিচাকে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলে ফিনিশার হিসাবে দেখা যাচ্ছে। রিচার কাজটা যে সহজ নয়, মেনে নিয়েছেন সৌরভ। বলেছেন, ‘রিচা শুধু ভাল প্লেয়ারই নয়, স্মৃতি, হরমনপ্রীত, মিতালিকে আপনারা দেখেছেন। রিচা ছ’নম্বরে ব্যাট করতে নেমে যে কাজটা করে সেটা সবচেয়ে কঠিন। কারণ, এমন একটা সময় যখন বল কম পায়। রান করতে হয় অনেক বেশি। আমি দেশের হয়ে ইনিংস ওপেন করতাম। যুবরাজ, কাইফরা ছ’নম্বরে নামত। জানি সেটা কত কঠিন কাজ ছিল। ভারত হয়তো সেমিফাইনালে জেমাইমা, হরমনের ইনিংসটা মনে রাখবে। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রত্যেক ম্যাচে রিচার স্ট্রাইক রেটটা দেখবেন। রিচা রান করেছে। ওর স্ট্রাইক রেটটাই তফাত গড়ে দিয়েছে (এ বারের বিশ্বকাপের সেরা স্ট্রাইক রেট রিচার। ১৩৩.৩৪ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন তিনি)। সেখানেই ভারতের ২৬৫ রান করা আর ৩২৫ রান করার তফাত গড়ে দিয়েছে রিচা। এত কঠিন কাজটা এত সহজে করেছে, ওর মূল্য হরমন, স্মৃতিদের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।’

(Feed Source: abplive.com)