
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ফ্যাটফ্যাটে সাদা বাইশ গজ। তার ওপর জল দেওয়া বন্ধ। ঝাঁট দিলে ধুলো উড়ছে।
ইডেন গার্ডেন্সের (Eden Gardens) যে বাইশ গজে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচ হবে, সেখানে বল ‘বাঁই বাঁই’ করে ঘুরবে, ঘরোয়া আড্ডায় পূর্বাভাস করেছেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। হবে না-ই বা কেন? ভারতীয় দল কলকাতায় পা রাখা ইস্তক যে ঘূর্ণি পিচের বায়না করে চলেছেন। টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীর সোমবার উইকেট দেখে গিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। তারপর থেকেই স্পিনারদের স্বর্গ চেয়ে চলেছেন ইডেনে।
অথচ ইডেনের বাইশ গজ গত বছর দশেক ধরে চরিত্রগতভাবে আমূল বদলে গিয়েছে। দেশের অন্যতম গতি ও বাউন্স সম্পন্ন পিচ এখন ইডেনে। যেখানে পেসারদের জন্য থাকে বাড়তি সাহায্য। আইপিএলে যে বাইশ গজে একসময় ভেল্কি দেখিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে একের পর এক ম্যাচ জিতিয়েছেন সুনীল নারাইন, সেই পিচে এখন পেসারদেরও রমরমা। রাতারাতি কি তার ভোলবদল সম্ভব?
আসরে নেমেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পিচ কমিটির দুই প্রতিনিধি, পূর্বাঞ্চলের আশিস ভৌমিক ও পশ্চিমাঞ্চলের তাপস চট্টোপাধ্যায়। জল দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অর্ডারি পিচ বানানো কার্যত সারা।
তারপরেও ইডেনের পিচ কি পছন্দ হয়নি ভারতীয় দলের? বুধবার, ভারতের প্র্যাক্টিস চলল যতক্ষণ, ক্লাব হাউসের লোয়ার টিয়ারে দাঁড়িয়ে দেখা গেল, দফায় দফায় পিচ পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন টিম ইন্ডিয়ার বিভিন্ন সদস্য। কখনও কোচ গৌতম গম্ভীর, কখনও অধিনায়ক শুভমন গিল, কখনও সহকারী কোচ সীতাংশু কোটাক কিংবা অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজা। আর প্রত্যেকেই পিচ দেখার পর দফায় দফায় বৈঠক করছেন ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে।
তবে গম্ভীর কিংবা শুভমনদের শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল, খুব একটা খুশি নন তাঁরা। কয়েকবার দেখা গেল বোর্ডের কিউরেটরদের সঙ্গে কথা বলে কিছু নির্দেশ দিচ্ছেন গম্ভীর-কোটাকরা। আশিস ও তাপসও তৎপর হয়ে উঠছেন প্রত্যেক আলোচনার পর। পিচে ঘাস কার্যত নেই বললেই চলে। যেটুকু রয়েছে, তা মাটির বাঁধন ধরে রাখার জন্য। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
সুজন যদিও বললেন, ‘পিচ নিয়ে ভারতীয় দল খুশি। অন্য ব্যাপারে কথা হচ্ছিল।’ কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেল, উইকেটের গুড লেংথ স্পট ন্যাড়া হলেও দুদিকে ফুল বা হাফভলি লেংথে সামান্য যে ঘাস রয়েছে, সেটা নিয়েই আপত্তি রয়েছে গৌতি-শুভমনদের সেটা ওড়ানো নিয়েই দর কষাকষি চলছে।
রঞ্জি ট্রফিতে ইডেনে দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলা। যার মধ্যে উত্তরাখণ্ড ম্যাচের পিচ নিয়ে খানিকটা একইরকম অভিযোগ ছিল বাংলা শিবিরের। বলা হচ্ছিল, গুড লেংথ স্পটে ঘাস নেই। কিন্তু পপিং ক্রিজের কাছে রয়েছে। বাংলার পেসাররা গুড লেংথ স্পটে বল করলে খুব একটা সাহায্য পাচ্ছিলেন না। আর ওপরে খেলাতে গিয়ে রান গলিয়ে ফেলছিলেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য পেস বোলিং আক্রমণ-সমৃদ্ধ বাংলা দল সমস্যায় পড়েছিল।
খানিকটা একই কারণে বিব্রত স্পিন-ত্রিফলায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে গাঁথতে চাওয়া ভারতীয় শিবির। দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিন স্পিনার অলরাউন্ডার – জাডেজা, ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর পটেলকে খেলানো হতে পারে। কুলদীপ যাদবকেও হিসেবের বাইরে রাখছেন না অনেকে। ইডেনের পিচে বল ঘুরবে তো? ঘুরলে কতটা? ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে সমস্যায় পড়বেন না তো স্পিনাররা? এসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ভারতীয় শিবিরে।
আর ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অন্য এক প্রশ্ন নিয়ে। স্পিন-ফর্মুলা ব্যুমেরাং হবে না তো? বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলেও যে কেশব মহারাজ, সাইমন হার্মার ও সেনুরান মুথুস্বামীরা আছেন!
(Feed Source: abplive.com)
