Tourist Spot: ইংরেজ আমলের সাহেব বাঁধ এখন অফবিট ট্রাভেল স্পট, শীত নামতেই বাড়ছে পর্যটক সংখ্যা

Tourist Spot: ইংরেজ আমলের সাহেব বাঁধ এখন অফবিট ট্রাভেল স্পট, শীত নামতেই বাড়ছে পর্যটক সংখ্যা

Tourist Spot: ১৯৪২ সালে ইংরেজদের আমলে তৈরি হয়েছিল এই বাঁধ যা সাহেব বাঁধ বলেই পরিচিত। শীত এলে বনভোজনের সেরা ঠিকানায় পরিণত হয় এই জায়গাটি।

গড়বেতার সাহেব বাঁধ

গড়বেতা, পশ্চিম মেদিনীপুর, মিজানুর রহমান: যেন হঠাৎ চিত্রপট বদলে গিয়ে খুলে গেল এক স্বপ্নের পৃথিবী। শীতের রোদে গড়বেতার সাহেব বাঁধে এখন পর্যটকদের ঢল। দিনের শুরুতেই পরিবার, বন্ধু, পর্যটক যে যেভাবে পারছেন ছুটে আসছেন প্রকৃতির এই অনাবিল সৌন্দর্য দেখতে। শীতের হালকা কাঁপুনি আর মাটির গন্ধ মিলেমিশে সাহেব বাঁধকে এ মরসুমে এক অন্যরকম আবহ এনে দিয়েছে। এলাকার নাম গোবিন্দচক, অনেকে সাহেব বাঁধ বলেই চেনেন। সাহেব বাঁধের ভিউ পয়েন্টে দাঁড়ালে বোঝা যায় কেন মানুষজন এখানে এলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়ে দেন। দূরে জঙ্গলের ফাঁক গলে রোদ এসে পড়ে জলের উপর তখন সেই জলের রঙ বদলে যায় সোনালি নীল মায়ায়।

ইংরেজ আমলে এলাকার মানুষের জলের চাহিদা মেটাতে কিংবা চাষের কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এই বাঁধ।  এলাকার বাসিন্দা আসাদুল মণ্ডল বলেন, “১৯৪২ সালে ইংরেজদের আমলে তৈরি হয়েছিল এই বাঁধ যা সাহেব বাঁধ বলেই পরিচিত।” এক সময় এই বাঁধের ওপর নির্ভর করত এলাকার মানুষজন। তবে আজ বদলেছে পরিস্থিতি। এখন মানুষ এখানে আসে এক টুকরো শান্তির খোঁজে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থানার মেদিনীপুর সদর থেকে খুব বেশি দূর নয়, আর তাই শীত নামতেই এই জায়গাটি হয়ে ওঠে ভ্রমণপিপাসু মানুষের সবচেয়ে প্রিয় ঠিকানা। চারদিকে শাল সেগুনের গভীর সবুজ জঙ্গল রয়েছে।

মাঝখানে নরম রোদের নিচে চুপটি করে থাকা বিশাল ফাঁকা মাঠ। আর তারই একপাশে শান্ত, স্থির, নীলাভ জলের অপূর্ব দৃশ্য সব মিলিয়ে মন যেন অজান্তেই বিভোর হয়ে আসে।  প্রকৃতি আর মানুষের মিলেমিশে এক উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয় যা শুধু দেখার নয়, অনুভব করার মত। শীতের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জায়গা খুঁজলে সাহেব বাঁধ যেন প্রথম সারিতেই উঠে আসে।

ইতিহাস যাই হোক না কেন, সাহেব বাঁধের সাহেবিয়ানা আজও অনুভব করা যায় গড়বেতার জঙ্গলে ঘেরা এই জলাশয়ে।সারা বছর এই বাঁধের জল স্থানীয়রা চাষের কাজে লাগান । আর শীত এলে বনভোজনের সেরা ঠিকানায় পরিণত হয় এই জায়গাটি।